বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ৩.৬ শতাংশের পূর্বাভাস আইএমএফের

সময়ের আলো ডেস্ক

অর্থনীতি

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ, জ্বালানির উচ্চমূল্য ও বৈশ্বিক বাণিজ্য উত্তেজনার প্রভাবে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে চাপ বাড়ার আশঙ্কা করছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। সংস্থাটির

2026-10-13T09:34:08+00:00
2026-10-13T09:34:08+00:00
 
  মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬,
২৮ আশ্বিন ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬
অর্থনীতি
বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ৩.৬ শতাংশের পূর্বাভাস আইএমএফের
সময়ের আলো ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:৩৪ এএম 
২০২৭ সালে মূল্যস্ফীতি বেড়ে ১০ দশমিক ৯ শতাংশে পৌঁছানোর আশঙ্কা রয়েছে। ছবি : সংগৃহীত
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ, জ্বালানির উচ্চমূল্য ও বৈশ্বিক বাণিজ্য উত্তেজনার প্রভাবে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে চাপ বাড়ার আশঙ্কা করছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। সংস্থাটির পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি হতে পারে ৩ দশমিক ৬ শতাংশ। আগামী বছর তা কমে ৩ দশমিক ২ শতাংশে নামতে পারে। একই সঙ্গে ২০২৭ সালে মূল্যস্ফীতি বেড়ে ১০ দশমিক ৯ শতাংশে পৌঁছানোর আশঙ্কা রয়েছে।

আইএমএফের অক্টোবর ২০২৬-এর ‘ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুক’ প্রতিবেদনে বাংলাদেশের অর্থনীতি নিয়ে এ পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। ‘রেজিলিয়েন্স আন্ডার স্ট্রেইন, আর্জেন্ট চয়েসেস’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্ব অর্থনীতি নানা ধাক্কা সামলে এগোলেও সব দেশ সমানভাবে পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে পারছে না। প্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগের সুবিধা পাওয়া দেশগুলোর তুলনায় জ্বালানি আমদানিনির্ভর দেশগুলো বেশি চাপে রয়েছে।

আইএমএফের হিসাবে, ২০২৫ সালে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ছিল ৩ দশমিক ৫ শতাংশ। ২০২৬ সালে তা বেড়ে ৩ দশমিক ৬ শতাংশ হতে পারে। তবে ২০২৭ সালে প্রবৃদ্ধি কমে ৩ দশমিক ২ শতাংশে নামার পূর্বাভাস দিয়েছে সংস্থাটি।

এশিয়ার কয়েকটি দেশের তুলনায় বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাসও কম। ২০২৬ সালে ভারতের প্রবৃদ্ধি ৭ শতাংশ, ভিয়েতনামের ৮ দশমিক ৪ শতাংশ, ইন্দোনেশিয়ার ৫ দশমিক ১ শতাংশ এবং চীনের ৪ দশমিক ৫ শতাংশ হতে পারে। বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস নেপালের সমান, ৩ দশমিক ৬ শতাংশ। তবে বিভিন্ন দেশের অর্থবছর ও হিসাবের সময়সীমায় পার্থক্য থাকায় এ তুলনায় সতর্কতা প্রয়োজন।


প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালে বাংলাদেশে গড় মূল্যস্ফীতি ছিল ১০ শতাংশ। ২০২৬ সালে তা কমে ৮ দশমিক ৭ শতাংশ হতে পারে। তবে ২০২৭ সালে মূল্যস্ফীতি বেড়ে ১০ দশমিক ৯ শতাংশে দাঁড়ানোর পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

এ পূর্বাভাস বাস্তবায়িত হলে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ও সেবার উচ্চমূল্যের চাপ আরও বাড়তে পারে। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি ও খাদ্যের দাম বাড়লে দেশের উৎপাদন ও পরিবহন ব্যয়ও বাড়বে। ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো বাড়তি ব্যয়ের একটি অংশ পণ্যের দামে যুক্ত করলে মূল্যস্ফীতি আরও বাড়ার ঝুঁকি তৈরি হবে। এতে বিশেষ করে নিম্ন আয়ের মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় সামলানো কঠিন হতে পারে।

বাংলাদেশের বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্য নিয়েও উদ্বেগের ইঙ্গিত দিয়েছে আইএমএফ। সংস্থাটির হিসাবে, ২০২৫ সালে দেশের চলতি হিসাবের ভারসাম্য ছিল জিডিপির প্রায় শূন্য শতাংশ। ২০২৬ সালে তা ঘাটতিতে পড়ে জিডিপির শূন্য দশমিক ৩ শতাংশ হতে পারে। ২০২৭ সালে ঘাটতি বেড়ে ২ দশমিক ১ শতাংশে দাঁড়ানোর পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

চলতি হিসাবের ঘাটতি বাড়লে আমদানি ব্যয়, রপ্তানি আয়, প্রবাসী আয় ও সেবা খাতের বৈদেশিক লেনদেনের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। জ্বালানির দাম দীর্ঘ সময় বেশি থাকলে আমদানি বিল বাড়তে পারে, যা বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

সময়ের আলো/কেএইচও
  বিষয়:   বাংলাদেশ  প্রবৃদ্ধি  পূর্বাভাস  আইএমএফ 


Advertisement
Loading...
Loading...
অর্থনীতি- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: