একজনের বয়স পনেরো, নবম শ্রেণির ছাত্র। অন্যজনের পঁচিশ, ঘরে এক সন্তান। মাঝখানে বয়সের বড় ব্যবধান, আর তার চারপাশে পরিবার ও সমাজের চেনা দেয়াল। সেই দেয়ালের সামনে এসে গাইবান্ধার সাঘাটায় থেমে গেল দুটি জীবন। স্থানীয় সূত্র বলছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টিকটকে পরিচয় থেকে গড়ে ওঠা সম্পর্কের জেরে পরিবারের অসম্মতির পর বিষাক্ত পদার্থ সেবনে মারা গেছেন আল আমিন মিয়া (১৫) ও তাসলিমা আক্তার তাজমিন (২৫)।
আল আমিন উপজেলার পূর্ব রাঘবপুর গ্রামের আজাদুল ইসলামের ছেলে। পড়তেন স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণিতে। তাসলিমার বাবার বাড়ি দক্ষিণ শ্যামপুর গ্রামে, বাবা সাইফুল ইসলাম। বিয়ের পর থাকতেন পার্শ্ববর্তী পদুমশহর জোরডোবা গ্রামে, স্বামী ফরহাদ মিয়ার সংসারে। তাঁর এক সন্তান রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, টিকটকের মাধ্যমে দুজনের পরিচয়। সেই পরিচয় একসময় সম্পর্কে রূপ নেয়। কিন্তু অনলাইনের সেই সম্পর্ক বাস্তবের মাটিতে পা রাখতেই মুখোমুখি হয় কঠিন প্রশ্নের।
রোববার (১১ অক্টোবর) বিয়ের দাবিতে তাসলিমা আল আমিনের বাড়িতে গিয়ে ওঠেন বলে জানা গেছে। বয়সের ব্যবধান এবং পারিবারিক ও সামাজিক বাস্তবতা বিবেচনায় আল আমিনের পরিবার সম্পর্কটি মেনে নিতে রাজি হয়নি।
পরদিন সোমবার দুজনই জমিতে ব্যবহারের জন্য রাখা বিষাক্ত পদার্থ সেবন করেন। বিষয়টি বুঝতে পেরে পরিবারের সদস্যরা দ্রুত তাদের গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। কিন্তু চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুজনেরই মৃত্যু হয়।
মৃত্যুর পর আল আমিনের স্বজনেরা তার মরদেহ বাড়িতে নিয়ে আসেন। তাসলিমার মরদেহ তখন হাসপাতালেই থেকে যায়। এলাকায় খবর ছড়িয়ে পড়লে মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দুপুরে পুলিশ পূর্ব রাঘবপুর গ্রাম থেকে আল আমিনের মরদেহ উদ্ধার করে। ময়নাতদন্তের জন্য সেটি পাঠানো হয়েছে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে।
সাঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করেছে। পুরো ঘটনা খতিয়ে দেখে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
একটি কিশোরের স্কুলজীবন, স্বপ্ন, সম্ভাবনা সবই অসমাপ্ত রয়ে গেল। একটি শিশু হারাল তার মাকে। এই ঘটনা আবারও সামনে আনল একটি অস্বস্তিকর সত্য- অনলাইনে গড়ে ওঠা সম্পর্কে আবেগ যত দ্রুত জমে, বয়স, আইন, সংসার ও সামাজিক দায়ের হিসাব ততটা সহজে মেলে না। কিশোর-কিশোরীদের আবেগ ও মানসিক চাপের কথা শোনার মতো জায়গা পরিবারে থাকা তাই জরুরি।
সময়ের আলো/আতা