বিগত সরকারের সময়ের লুটপাটের কারণে রেল খাতের কোনো উন্নয়ন হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন সড়ক, সেতু, রেলপথ ও নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বিকেলে দিনাজপুরের পার্বতীপুরে কেন্দ্রীয় লোকোমোটিভ কারখানা (কেলোকা) পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, রেল খাতে দুই লাখ ৬৩ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করা সত্ত্বেও দৃশ্যমান কোনো উন্নয়ন হয়নি। এখানে অপচয় হয়েছে, অপ্রয়োজনীয় অর্থ বের হয়েছে, লুটপাট হয়েছে। বিগত সরকারের সময় দেশের রেল যোগাযোগব্যবস্থা অনেকটাই স্থবির হয়ে পড়েছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে। সেই অবস্থা থেকে উত্তরণের চেষ্টা করছে বর্তমান সরকার। নির্বাচনি ইশতেহারেও রেল খাতকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার প্রতিশ্রুতি ছিল। সরকার গঠনের পর সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে রেল যোগাযোগের উন্নয়ন ও সম্প্রসারণে দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
মন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে পুরোনো যন্ত্রপাতি, ইঞ্জিন ও কোচ দিয়ে রেল পরিচালনা করতে হয়েছে। ফলে রেল ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়ন এবং যাত্রীসেবা সম্প্রসারণে নানা সীমাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে রেল খাতের সক্ষমতা বৃদ্ধি, আধুনিক লোকোমোটিভ সংগ্রহ এবং যাত্রীবান্ধব যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
রেলওয়ের সক্ষমতা বাড়াতে নতুন লোকোমোটিভ সংগ্রহের পরিকল্পনার কথা জানিয়ে শেখ রবিউল আলম বলেন, ৩০টি লোকোমোটিভ কেনার জন্য দরপত্র প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। আরও ৩০টি লোকোমোটিভ কেনার অনুমোদন পাওয়া গেছে। এ ছাড়া বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে আরও ৩০টি লোকোমোটিভ সংগ্রহের বিষয়টি বিবেচনাধীন রয়েছে।
সব মিলিয়ে ৮০টি লোকোমোটিভ সংগ্রহের পথে রয়েছে সরকার বলে জানান মন্ত্রী। তবে এসব লোকোমোটিভ হাতে পেতে দুই থেকে আড়াই বছর সময় লাগতে পারে।
তিনি বলেন, রেল ব্যবস্থাপনাকে আরও আধুনিক ও কার্যকর করতে এসব উদ্যোগের ওপর আস্থা রাখতে হবে। নতুন লোকোমোটিভ যুক্ত হলে রেল পরিচালনার সক্ষমতা বাড়বে এবং যাত্রীসেবার মান উন্নয়নের সুযোগ তৈরি হবে।
যাত্রীবান্ধব রেলব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিকল্পনা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, ঢাকার আশপাশের জেলাগুলোর মানুষ যেন নিজ জেলা থেকে রেলযোগে ঢাকায় এসে আবার সহজে নিজ জেলায় ফিরে যেতে পারেন, সে ধরনের রেল কাঠামো গড়ে তুলতে সরকার বদ্ধপরিকর।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে রেলবান্ধব যাতায়াত নিশ্চিত করার যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। বিশেষ করে উত্তরবঙ্গে এ সম্ভাবনা আরও বিস্তৃত। পরিকল্পিত উদ্যোগের মাধ্যমে এ অঞ্চলে রেল যোগাযোগের সুযোগ বাড়ানো এবং যাত্রীদের যাতায়াত আরও সহজ করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।
দিনাজপুরের পার্বতীপুরে অবস্থিত কেন্দ্রীয় লোকোমোটিভ কারখানা (কেলোকা) রেলওয়ের ইঞ্জিন রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামত কার্যক্রমের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। রেল খাতের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং বিদ্যমান অবকাঠামোর কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এ কারখানার ভূমিকা রয়েছে।
পরিদর্শন ও মতবিনিময়কালে রেল প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ এমপি, রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব ফাহিমুল ইসলাম, রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।
সময়ের আলো/আতা