আজমিরীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রধান ফটকসংলগ্ন সুজন ফার্মেসিতে বসে ব্যক্তিগতভাবে রোগী দেখার অভিযোগ উঠেছে হাসপাতালের সহকারী সার্জন ডা. আজিজ আকরামের বিরুদ্ধে।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে সরেজমিনে ওই ফার্মেসিতে তাঁকে রোগী দেখতে দেখা যায়। সরকারি কর্মঘণ্টায় দায়িত্বস্থলের বাইরে ব্যক্তিগতভাবে চিকিৎসাসেবা দেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে তাঁর বিরুদ্ধে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন হবিগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. রত্নদ্বীপ বিশ্বাস।
স্থানীয়দের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে সরেজমিনে অনুসন্ধানে যান এ প্রতিবেদক। এ সময় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রধান ফটকসংলগ্ন সুজন ফার্মেসিতে ডা. আজিজ আকরামকে বসে রোগী দেখতে দেখা যায়। স্থানীয়দের অভিযোগ, তিনি নিয়মিত ওই ফার্মেসিতে বসে ব্যক্তিগতভাবে রোগী দেখেন।
বাংলাদেশের ‘মেডিকেল প্র্যাকটিস অ্যান্ড প্রাইভেট ক্লিনিকস অ্যান্ড ল্যাবরেটরিজ (রেগুলেশন) অর্ডিন্যান্স, ১৯৮২’-এর ৪ ধারায় প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োজিত নিবন্ধিত চিকিৎসকদের অফিস চলাকালে ব্যক্তিগত চিকিৎসাসেবা নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
এদিকে সরকারি হাসপাতালের এক কিলোমিটারের মধ্যে বেসরকারি ক্লিনিক স্থাপন ও বিদ্যমান ক্লিনিকে সরকারি চিকিৎসকদের ব্যক্তিগত চিকিৎসাসেবা বন্ধের বিষয়ে গত ২২ সেপ্টেম্বরের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর নির্দেশনা দেয়।
এ বিষয়ে ডা. আজিজ আকরাম বলেন, তাঁর ডিউটি নেই। এছাড়া হাসপাতালের এক কিলোমিটারের মধ্যে ব্যক্তিগতভাবে চিকিৎসাসেবা দেওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা সংক্রান্ত আইন অনুমোদিত হয়নি বলে তিনি দাবি করেন। তাই তিনি প্রাইভেট প্র্যাকটিস করতে পারবেন।
আজমিরীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. ইকবাল হোসেনের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর সাড়া পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে হবিগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. রত্নদ্বীপ বিশ্বাস বলেন, এ বিষয়ে ডা. আজিজ আকরামের বিরুদ্ধে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হবে।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, আজমিরীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাওরাঞ্চলের মানুষের চিকিৎসাসেবার অন্যতম প্রধান সরকারি প্রতিষ্ঠান। সরকারি কর্মঘণ্টায় চিকিৎসকেরা দায়িত্বস্থলে উপস্থিত থেকে রোগীদের সেবা দেবেন এটাই তাঁদের প্রত্যাশা।
স্থানীয়দের দাবি, সরকারি দায়িত্ব পালনের নির্ধারিত সময়ে একজন চিকিৎসক কীভাবে হাসপাতালের বাইরে ব্যক্তিগতভাবে রোগী দেখেন, তা খতিয়ে দেখা জরুরি। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসককে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তাঁরা।
সময়ের আলো/এনএন