বরিশালের উজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চালক সংকটে দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে সরকারি অ্যাম্বুলেন্স সেবা। যে কারণে জরুরি মুহূর্তে উন্নত চিকিৎসার জন্য রোগী স্থানান্তরে ভোগান্তিতে পড়ছেন স্বজনরা। এরই মধ্যে সরকারি অ্যাম্বুলেন্স না পেয়ে এক রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ পাওয়া গেছে।
উজিরপুর পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা হানিফ হাওলাদার জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সকালে তার অসুস্থ স্ত্রী আলেয়া বেগমকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনা হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য চিকিৎসকেরা তাকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেন। কিন্তু চালক না থাকায় সরকারি অ্যাম্বুলেন্স না পেয়ে হাসপাতালেই আলেয়া বেগমের মৃত্যু হয়েছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অ্যাম্বুলেন্স চালক ১ সেপ্টেম্বর অবসরে যাওয়ার পর থেকে অ্যাম্বুলেন্স সেবা বন্ধ রয়েছে। হাসপাতালের নতুন ভবনের গ্যারেজে পড়ে রয়েছে হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্সটি। ফলে জরুরি রোগী পরিবহনে স্বজনদের বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।
স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানা গেছে, বরিশালের প্রতিটি উপজেলা হাসপাতালের সামনে রোগী পরিবহণ করা প্রাইভেট অ্যাম্বুলেন্স চালকরা সিন্ডিকেট করে রোগীদের কাছ থেকে সরকারি অ্যাম্বুলেন্সের ভাড়ার চেয়ে তারা দুই থেকে তিনগুণ বাড়তি ভাড়া আদায় করছেন।
উজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ডা. নাজমুস সাকিব বলেন, অ্যাম্বুলেন্স চালক অবসরে যাওয়ায় সেবা বন্ধ রয়েছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের একাধিকবার লিখিতভাবে জানানো হলেও এখনও ফলপ্রসূ কোনো ব্যবস্থা পাওয়া যায়নি। এছাড়া হাসপাতালের আরও অনেক গুরুত্বপূর্ণ পদ শূন্য রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
উজিরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আলী সুজা জানিয়েছেন, দ্রুত একজন অ্যাম্বুলেন্স চালকের জন্য জেলা সিভিল সার্জনকে অবহিত করা হয়েছে।
সময়ের আলো/এনএন