প্রকাশ: রোববার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৩৮ পিএম আপডেট: ১৮.১০.২০২৬ ১:৫৬ পিএম
নাটোর-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু। ছবি : সময়ের আলো নাটোর জেনারেল হাসপাতালে নির্ধারিত সময়ে উপস্থিত না হওয়া চিকিৎসক ও কর্মচারীদের বিরুদ্ধে শোকজসহ প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন জাতীয় সংসদের হুইপ ও নাটোর-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু।
রোববার (১৮ অক্টোবর) সকালে আকস্মিক হাসপাতাল পরিদর্শনে গিয়ে তিনি এ নির্দেশনা দেন। একই সঙ্গে হাসপাতালের অপরিচ্ছন্ন শৌচাগার এবং রোগীদের খাবার ও ওষুধের সংকট নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি।
পরিদর্শনকালে হুইপ দুলু বলেন, নাটোর জেনারেল হাসপাতালটি সরকারিভাবে ১০০ শয্যার অনুমোদন পেলেও বর্তমানে ২৫০ শয্যার হাসপাতাল হিসেবে পরিচালিত হচ্ছে। অথচ জনবল, ওষুধ ও খাবারের বরাদ্দ এখনো ১০০ রোগীর হিসাবেই রয়েছে। ফলে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক রোগীকে প্রয়োজনীয় সেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
তিনি বলেন, হাসপাতালে প্রায় ৯০০ রোগী থাকলেও ১০০ জনের জন্য বরাদ্দ করা খাবার দিয়ে সবার চাহিদা পূরণ করা অত্যন্ত কঠিন। অনেক রোগী তাকে জানিয়েছেন, তারা নিয়মিত খাবারও পাচ্ছেন না। বিষয়টি দুঃখজনক উল্লেখ করে তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
হাসপাতালের শৌচাগারের অপরিচ্ছন্নতা নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন হুইপ। তিনি বলেন, হাসপাতালের বাথরুম অপরিষ্কার থাকলে রোগীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি আরও বাড়তে পারে। এ কারণে শৌচাগারগুলো নিয়মিত পরিষ্কার রাখার নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি।
চিকিৎসক ও কর্মচারীদের সময়মতো উপস্থিতি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু বলেন, সকাল ৮টার মধ্যে হাসপাতালে উপস্থিত হওয়ার কথা থাকলেও পরিদর্শনের সময় সকাল সাড়ে ৮টা থেকে ৯টা পর্যন্ত অপেক্ষা করেও অনেক চিকিৎসককে পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে সিভিল সার্জনকে অনুপস্থিত চিকিৎসক ও কর্মচারীদের কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দিতে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।
হুইপ আরও বলেন, সরকারি বেতন ও সুযোগ-সুবিধা গ্রহণকারী চিকিৎসক-কর্মচারীদের নির্ধারিত সময়ে উপস্থিত থেকে রোগীদের সেবা দিতে হবে। দায়িত্বে অবহেলা করলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি প্রয়োজনে সাময়িক বরখাস্তের ব্যবস্থাও নেওয়ার অনুরোধ জানান তিনি।
এ সময় নাটোরের সিভিল সার্জন ডা. মশিউর রহমান, হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. মাহাবুবুর রহমানসহ হাসপাতালের চিকিৎসক ও কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।
সময়ের আলো/জোই