সংগৃহীত ছবিমার্কিন নিষেধাজ্ঞার প্যাকেজ তুলে নেওয়ার পর রাশিয়ার বিভিন্ন প্রান্তে বড়সড় ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইউক্রেন। হাজারেরও বেশি ড্রোন হামলায় সেন্ট পিটার্সবার্গে অয়েল টার্মিনাল এবং শহরের রুচি তেল ডিপোতে আগুন ধরে যায়। এতে এক নারী নিহতসহ পাঁচজন আহত হয়েছেন। রুশ খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান ‘ওজোন’-এর একটি লজিস্টিক সেন্টার এবং স্থানীয় প্রযুক্তি জায়ান্ট ‘ভিকে’-এর একটি ডেটা সেন্টারও হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল বলে উভয় কোম্পানি নিশ্চিত করেছে। রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তাদের বাহিনী দেশের ১৫টি অঞ্চল, অধিকৃত ইউক্রেনীয় উপদ্বীপ ক্রিমিয়া এবং কৃষ্ণসাগর এলাকা থেকে মোট ১ হাজার ১৫টি ইউক্রেনীয় ড্রোন ধ্বংস করেছে।
ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা তাসকে বলেছেন, কিয়েভ মস্কোর আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ‘প্রতিরোধ’ গড়ে তুলছে ঠিকই, কিন্তু তারা ‘বর্তমান পরিস্থিতির মোড় ঘোরাতে’ পারবে না। এদিকে স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দক্ষিণ ইউক্রেনের জাপোরিঝিয়া শহরে রাশিয়ার দুটি হামলায় এক নারী নিহত হয়েছেন এবং ৬ বছর বয়সি এক শিশুসহ অন্তত দুজন আহত হয়েছেন।
জাপোরিঝিয়া আঞ্চলিক সামরিক প্রশাসনের প্রধান মিখাইলো সেমিকিন জানিয়েছেন, এই হামলায় দুটি অ্যাপার্টমেন্ট ভবন, ১৮টি গাড়ি এবং একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইউক্রেনের দাবি, রাশিয়া জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা অব্যাহত রেখেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ১১ অক্টোবর জানিয়েছিলেন, সাড়ে চার বছর ধরে চলা যুদ্ধে রাশিয়া ও ইউক্রেন একটি ‘জ্বালানি যুদ্ধবিরতি’-তে সম্মত হয়েছে। তবে তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি। ট্রাম্পের এই ঘোষণার পরেও কিয়েভ জানিয়েছে, মস্কো তাদের জ্বালানি স্থাপনাগুলোতে হামলা চালিয়েছে। ইউক্রেন বৃহস্পতিবার নিশ্চিত করেছে, তিন দিনের বিরতির পর তারা রাশিয়ার তেল স্থাপনাগুলোতে পুনরায় হামলা শুরু করেছে।
ট্রাম্প রোববার উভয় পক্ষকে জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছিলেন। কিন্তু রাশিয়া তার দেশের জ্বালানি অবকাঠামোতে বিমান হামলা অব্যাহত রাখায় জেলেনস্কি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। ইউক্রেনীয় সরকার শুরুতে বলেছিল, তারা যুদ্ধবিরতি মেনে চলছে। রোববার এক্সে দেওয়া পোস্টে জেলেনস্কি জানান, ট্রাম্পের জ্বালানি-সংক্রান্ত যুদ্ধবিরতির ঘোষণার পর গত এক সপ্তাহে রাশিয়া ইউক্রেনের জ্বালানি, তেল ও গ্যাস খাতে ৭৬ বার হামলা চালিয়েছে। তিনি আরও জানান, কেবল গত রাতেই ইউক্রেনের চারটি অঞ্চলের জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা চালানো হয়েছে, যার ফলে হাজার হাজার পরিবার এখনও বিদ্যুৎহীন অবস্থায় রয়েছে। তিনি রাশিয়ার বিরুদ্ধে দেশটিতে ব্ল্যাকআউট বা বিদ্যুৎ বিভ্রাট সৃষ্টির চেষ্টার অভিযোগ আনেন।
তিনি লেখেন, নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা বা কোনো চুক্তির বিপরীতে রাশিয়া কোনো ইতিবাচক পদক্ষেপ নিচ্ছে না। বরং অর্থ উপার্জনের যেকোনো সুযোগকেই তারা প্রমাণ হিসেবে দেখছে। যুদ্ধের ওপর তাদের বাজি সফল হচ্ছে এবং তারা লড়াই চালিয়ে যেতে পারবে। জেলেনস্কি জোর দিয়ে বলেন, যুদ্ধটি চলছে রাশিয়ার আগ্রাসনের কারণে, ইউক্রেন নিজেকে রক্ষা করছে বলে নয়। তিনি বলেন, শান্তি প্রতিষ্ঠার সুযোগ তৈরি করতে হলে রাশিয়াকেই চাপের মুখে ফেলতে হবে। যারা বিষয়টি বোঝেন এবং সহায়তা করছেন, তাদের সবাইকে ধন্যবাদ।
ট্রাম্প শনিবার সাংবাদিকদের জানান, রাশিয়ার ওপর আরও নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিষয়ে তার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কী হবে, তা এখনও ঠিক হয়নি। যদিও শুক্রবার রাতে তিনি একটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করে পরিকল্পিত কিছু বিধিনিষেধ তুলে নিয়েছেন। সেখানে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় স্বার্থের কথা উল্লেখ করেছেন। ফ্লোরিডায় নিজের এস্টেটে আয়োজিত একটি তহবিল সংগ্রহের নৈশভোজে ট্রাম্প বলেন, আমরা বিষয়টি ভেবে দেখব, আপনারাও জানতে পারবেন। তবে এটি একটি অত্যন্ত ভালো সিদ্ধান্ত; এটি আমাদের দেশের জন্য যেমন ভালো, তেমনি আমার মনে হয় পুরো বিশ্বের জন্যও ভালো হবে।
সময়ের আলো/ইউএমএইচ