হুতিদের ডেরায় অস্ত্র যাচ্ছে সাবমেরিনে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের অস্ত্র ও সামরিক প্রশিক্ষণ দিয়ে সহায়তা করছে ইরান। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে এমন দাবি

2026-10-18T23:04:06+00:00
2026-10-18T23:04:06+00:00
 
  রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬,
২ কার্তিক ১৪৩৩
রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬
আন্তর্জাতিক
হুতিদের ডেরায় অস্ত্র যাচ্ছে সাবমেরিনে
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: রোববার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:০৪ পিএম 
সংগৃহীত ছবি
ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের অস্ত্র ও সামরিক প্রশিক্ষণ দিয়ে সহায়তা করছে ইরান। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে এমন দাবি করা হয়েছে। প্রতিবেদনে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে বলা হয়, ইয়েমেনের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে কোনো ধরনের জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করা সত্ত্বেও তেহরান সক্রিয়ভাবে এই গোষ্ঠীকে ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র ও রাডার সরবরাহ করে আসছিল। এর ফলেই হুতিরা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারের ভূখণ্ড ও সৌদি আরবে তাদের সাম্প্রতিক হামলাগুলো চালাতে সক্ষম হয়েছে।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান শুরু থেকেই অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম পরিবহনে ঐতিহ্যবাহী ‘ধো’ নৌকা ব্যবহার করে আসছিল। তবে ইসরাইলি ও মার্কিন বিমান হামলায় সেই সরবরাহ পথ বাধাগ্রস্ত হওয়ার পর তারা সাবমেরিনের আশ্রয় নিতে শুরু করে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, প্রাপ্ত তথ্যে ইয়েমেনের যুদ্ধক্ষেত্রের একদম প্রথম সারিতে ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) কর্মকর্তাদের সরাসরি উপস্থিতির বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে।

এ ছাড়া সামরিক বিশেষজ্ঞদের উদ্ধৃতি দিয়ে সংবাদমাধ্যমটি জানায়, হুতিদের সম্প্রতি ব্যবহৃত কৌশলগুলো ইঙ্গিত দেয় যে তারা ইরানের কাছ থেকেই বিশেষ প্রশিক্ষণ পেয়েছে। পাশাপাশি গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, হুতিরা ইয়েমেনের সীমানার বাইরেও লোহিত সাগর ও বাব আল-মানদেব প্রণালিতে নৌপরিবহন ও জাহাজ চলাচলে হুমকি সৃষ্টিসহ নতুন কার্যক্রম পরিচালনার পরিকল্পনা করছিল।

এদিকে সৌদি আরবের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের নাজরান এলাকায় হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে দুই পাইলট নিহত হয়েছেন। সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের দাবি, যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে হেলিকপ্টারটি বিধ্বস্ত হয়। তবে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা দাবি করেছে, তারা সৌদি হেলিকপ্টারটি ভূপাতিত করেছে। রোববার সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালিকি এ তথ্য জানান। রয়টার্স ও এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হেলিকপ্টারটি সৌদি ন্যাশনাল গার্ডের একটি এএইচ-৬আই গোয়েন্দা হেলিকপ্টার। এটি ইয়েমেন সীমান্তের কাছে নাজরান এলাকায় সৌদি ভূখণ্ডের ভেতরে বিধ্বস্ত হয়।

সৌদি প্রেস এজেন্সির বরাতে আল-মালিকি জানান, যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে হেলিকপ্টারটি বিধ্বস্ত হয়ে ধ্বংস হয়েছে। এতে দুই কর্মকর্তা নিহত হন। দুর্ঘটনাস্থলটি সৌদি ন্যাশনাল গার্ড মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন এলাকায় বলে জোটের বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে হুতিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে দাবি করেন, সীমান্ত এলাকায় হুতিদের অবস্থানে হামলা চালানোর সময় তারা সৌদি আরবের একটি অ্যাপাচি হেলিকপ্টার ভূপাতিত করেছেন। হুতিদের এ দাবির জবাবে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের মুখপাত্র আল-মালিকি অ্যাপাচি হেলিকপ্টারের একটি ছবি পোস্ট করেন। সেখানে তিনি ব্যঙ্গাত্মকভাবে লেখেন, ‘এটি শিগগিরই মাঠে নামবে। দেখতে কেমন, তা মনে রাখুন, যাতে ভুলে না যান।’ তবে হুতিদের দাবি এবং জোটের বক্তব্যে হেলিকপ্টারের ধরন নিয়ে পার্থক্য রয়েছে। জোট বিধ্বস্ত হেলিকপ্টারটিকে এএইচ-৬আই গোয়েন্দা হেলিকপ্টার বলে উল্লেখ করেছে, আর হুতিরা অ্যাপাচি হেলিকপ্টার ভূপাতিত করার দাবি করেছে।

এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রায় চার বছর ধরে চলা অস্বস্তিকর যুদ্ধবিরতির পর গত জুলাইয়ে ইয়েমেনের সংঘাত আবার শুরু হয়। গত মাসে লোহিত সাগর উপকূলের কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ এলাকা দখল করার পর হুতিদের সঙ্গে সংঘাত আরও তীব্র হয়। আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারকে সমর্থন দেওয়া সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট হুতিদের নিয়ন্ত্রিত এলাকায় একাধিকবার বিমান হামলা চালিয়েছে। অন্যদিকে ইরান সমর্থিত হুতিরা সৌদি আরবের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। এসব লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে লোহিত সাগরে চলাচলকারী জাহাজ, তেল স্থাপনা ও রিয়াদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর রয়েছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে নাজরান এলাকায় হুতিদের হামলার ঘটনা ঘটেছে। সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট ও হুতিদের মধ্যে লড়াই তীব্র হওয়ায় ইয়েমেনের সংঘাতও মধ্যপ্রাচ্যের বৃহত্তর সংঘাতের আরেকটি ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে। এএফপির প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, জুলাইয়ে সংঘাত নতুন করে শুরু হওয়ার পর এই হেলিকপ্টার দুর্ঘটনাই সামরিক বাহিনীর সদস্যদের প্রাণহানির প্রথম ঘটনা।

চলমান পরিস্থিতিতে প্রয়োজনে সৌদি আরবের প্রতিরক্ষায় সহায়তা দিতে প্রস্তুত থাকার কথা জানিয়েছেন মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি। এ জন্য তিনি পার্লামেন্টের অনুমোদন নিতে জরুরি অধিবেশন আহ্বান করেছেন বলে জানিয়েছে জার্মান সংবাদমাধ্যম ডয়চে ভেলে। শনিবার মিসরের সামরিক একাডেমির সমাবর্তন অনুষ্ঠানে সিসি বলেন, আঞ্চলিক সংঘাতে জড়ানোর ইচ্ছা মিসরের নেই। তবে সৌদি আরবের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, এমন পরিস্থিতি মেনে নেওয়া সম্ভব নয়। সিসি বলেন, সৌদি বাদশাহ সালমান ও যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের নির্দেশনা পেলে সৌদি আরবকে সুরক্ষা দিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে মিসর। এ ক্ষেত্রে আক্রমণ নয়, শুধু প্রতিরক্ষার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।

সৌদি আরবের প্রতিরক্ষায় সহায়তার জন্য মিসরের পার্লামেন্টের অনুমোদন প্রয়োজন বলে জানান সিসি। এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে স্থানীয় সময় রোববার পার্লামেন্টে জরুরি অধিবেশনও হয়েছে। ইরান সমর্থিত ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবের জ্বালানি স্থাপনা ও রাজধানী রিয়াদের প্রধান বিমানবন্দরে হামলা জোরদার করার মধ্যে এ ঘোষণা এলো। এক সপ্তাহ আগে দেশটিতে হুতিদের এক হামলায় ১৮ জন নিহত হন বলে জানিয়েছে রয়টার্স। এক দশকের বেশি সময়ের মধ্যে সৌদি আরবে এটিই সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলা ছিল বলে ডয়চে ভেলের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ২০১৫ সালে ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধে হুতিদের বিরুদ্ধে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের অভিযানে অংশ নিয়েছিল মিসর। দুই দেশের মধ্যে শক্তিশালী কৌশলগত ও অর্থনৈতিক সম্পর্কও রয়েছে। লোহিত সাগরে হুতিদের হামলায় জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় সুয়েজ খাল থেকে মিসরের আয়ও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।


সময়ের আলো/ইউএমএইচ


  বিষয়:   হুতি  সাবমেরিন 


Advertisement
Loading...
Loading...
আন্তর্জাতিক- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: