ইরানে দ্বিতীয় দফা যুদ্ধের শঙ্কা, বিপদে পুরো উপসাগরীয় অঞ্চল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানে নতুন করে হামলার আশঙ্কা বাড়ছে। অঞ্চলটিতে মার্কিন কূটনীতিকদের দূতাবাস থেকে সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। অন্যদিকে

2026-10-24T09:07:23+00:00
2026-10-24T09:07:47+00:00
 
  শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬,
৮ কার্তিক ১৪৩৩
শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬
আন্তর্জাতিক
ইরানে দ্বিতীয় দফা যুদ্ধের শঙ্কা, বিপদে পুরো উপসাগরীয় অঞ্চল
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:০৭ এএম  আপডেট: ২৪.১০.২০২৬ ৯:০৭ এএম
তেহরানের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত এঙ্গেলাব স্কয়ারে যানবাহনের মধ্যে দিয়ে হেঁটে যাচ্ছেন এক নারী এবং তার পেছনে ইসরায়েল-বিরোধী একটি বিশাল বিলবোর্ড প্রদর্শিত হচ্ছে। ১২ অক্টোবর ২০২৬ । ছবি : এএফপি
মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানে নতুন করে হামলার আশঙ্কা বাড়ছে। অঞ্চলটিতে মার্কিন কূটনীতিকদের দূতাবাস থেকে সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। অন্যদিকে ইরান সীমান্তে অভিযান চালাচ্ছে ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান। আরব ও মার্কিন কর্মকর্তাদের ধারণা, ইরানে আবার হামলা হবে কি না, এখন প্রশ্ন সেটি নয়; বরং হামলা কখন শুরু হবে।

ইরান হুঁশিয়ারি দিয়েছে, নতুন করে হামলা হলে উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিপুল অর্থমূল্যের ডেটা সেন্টার ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) স্থাপনা, জ্বালানি অবকাঠামো এবং বিমানবন্দর লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালানো হতে পারে। এতে সংঘাতের দ্বিতীয় দফা শুরু হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট—উভয় দলের প্রেসিডেন্টদের আমলে মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক আলোচক হিসেবে কাজ করা অ্যারন ডেভিড মিলার মিডল ইস্ট আইকে বলেন, ‘উত্তেজনা বাড়তে যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে না পরে তা ঘটবে, সেটি গুরুত্বপূর্ণ নয়। গুরুত্বপূর্ণ হলো, উত্তেজনা বাড়ানোর উদ্দেশ্য কী।’

গত এপ্রিলে একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সরাসরি লড়াই অনেকটাই থেমে যায়। তবে সমঝোতার পথ এগিয়ে নিতে জুনে স্বাক্ষরিত ১৪ দফার সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) বাস্তবায়ন করেনি কোনো পক্ষ। বিশ্লেষকদের মতে, ওই সমঝোতায় ইরানকে ব্যাপক ছাড় দেওয়া হয়েছিল, যা ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষে মেনে নেওয়া কঠিন।

মিলার বলেন, দুই পক্ষের অবস্থানের মধ্যে মৌলিক ও বিশাল ব্যবধান রয়েছে, যা পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে না। হরমুজ প্রণালি, পরমাণু কর্মসূচি কিংবা হুথিদের বিষয়ে ইরান এমন কোনো পরিবর্তন আনবে না, যা ট্রাম্প নিজের বিজয় হিসেবে তুলে ধরতে চান।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ রিপাবলিকান সিনেটর রিক স্কট বৃহস্পতিবার ফক্স নিউজকে বলেন, শেষ পর্যন্ত ইরানে সরকার পরিবর্তন নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্রকে এ বিষয়ে কাজ চালিয়ে যেতে হবে।

জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজ ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে বলেছেন, দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতের জন্য প্রস্তুত হোয়াইট হাউস। তার ভাষ্য, ‘প্রেসিডেন্ট ও মার্কিন নৌবাহিনী ভবিষ্যতেও দীর্ঘ সময় ইরানের বন্দরগুলোতে অবরোধ বজায় রাখতে পারবে।’

ইরানের পরমাণু কর্মসূচি দুর্বল করার লক্ষ্য নিয়ে শুরু হওয়া যুদ্ধ এখন মধ্যপ্রাচ্যে প্রভাব বিস্তারের বৃহত্তর সংঘাতে রূপ নিয়েছে। হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের ওপর শুল্ক আরোপ করতে চায় ইরান। এ নৌপথে দুই পক্ষ পাল্টাপাল্টি হামলাও চালিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধে ইরানের অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, অন্যদিকে ইরানের হামলায় জাহাজ চলাচলের ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে। চলতি মাসেই অন্তত ২৭টি জাহাজে হামলার ঘটনা ঘটেছে, যা মার্চের পর সর্বোচ্চ।

দুই দেশের উত্তেজনার প্রভাব পড়েছে ইয়েমেনেও। ইরান-সমর্থিত হুথি ও সৌদি আরব-সমর্থিত আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের বাহিনীর মধ্যে লড়াইয়ের জেরে দেশটিতে যুদ্ধবিরতিও ভেঙে পড়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতি ট্রাম্প প্রশাসন কিংবা তেহরান—কোনো পক্ষের জন্যই সুবিধাজনক নয়। কিন্তু উভয় পক্ষই মনে করছে, ছাড় দেওয়ার মতো দুর্বল অবস্থায় তারা নেই। ফলে আবার যুদ্ধ শুরু হওয়ার আশঙ্কা বাড়ছে।

তেলের বাজারে দুই পক্ষের দুই হিসাব

জ্বালানি ও ইরানবিষয়ক বিশেষজ্ঞ গ্রেগরি ব্রু মিডল ইস্ট আইকে বলেন, ইরান ও ট্রাম্প—উভয়েই তেলের বাজারের দিকে নজর রাখছেন, তবে সেখান থেকে ভিন্ন শিক্ষা নিচ্ছেন।

জ্বালানিবিষয়ক প্রতিষ্ঠান কেপলারের প্রকাশিত তথ্যে দেখা গেছে, গত সপ্তাহে মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল ও তেলজাত পণ্য রপ্তানি যুদ্ধ-পূর্ববর্তী পর্যায়ে ফিরে গিয়েছিল। তবে কিছু বিশেষজ্ঞের মতে, অল্প সময়ের অতিরিক্ত কার্যক্রমের কারণে এ পরিসংখ্যান পুরো পরিস্থিতির প্রতিফলন নাও হতে পারে।

সৌদি আরব হুথিদের নিয়ন্ত্রণাধীন বাব আল-মান্দেব প্রণালি এড়িয়ে লোহিত সাগর দিয়ে পাইপলাইনের মাধ্যমে তেল রপ্তানি করছে। অন্যদিকে হরমুজ প্রণালির ভেতরে থাকা উপসাগরীয় দেশগুলো ছোট রাষ্ট্রীয় জাহাজে তেল এনে ওমান উপসাগরে অপেক্ষমাণ বড় ট্যাংকারে স্থানান্তর করছে। যুক্তরাষ্ট্র বলছে, তাদের নৌবাহিনী এসব জাহাজকে পাহারা দিচ্ছে। তবে এ ব্যবস্থার ব্যয়ও অনেক বেশি।

রপ্তানির পরিমাণ বাড়লেও তেলের দাম কমেনি। ইরানের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পর আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের মানদণ্ড ব্রেন্টের দাম ৪৩ শতাংশ বেড়েছে। ডিজেলের দাম বেড়েছে প্রায় ৩৫ শতাংশ, আর পেট্রলের দাম বেড়েছে ১০ শতাংশের কম।

ইরানের অর্থনীতি যে চাপের মুখে, তা নিয়ে সন্দেহ নেই। সেপ্টেম্বরে দেশটিতে মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৯০ শতাংশে পৌঁছেছে। তবে ব্রুর মতে, ইরানের শাসকেরা মনে করছেন, দীর্ঘ সময় চাপ সহ্য করার ক্ষমতা তাঁদের আছে, ট্রাম্প প্রশাসনের সেই ধৈর্য নেই।

তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালি দিয়ে কত তেল যাচ্ছে, তা দেখছে; আর ইরান দেখছে তেলের দাম। ইরানের ধারণা, ট্রাম্পের চেয়ে তারা দীর্ঘ সময় চাপ সহ্য করতে পারবে।’

ব্রুর আশঙ্কা, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল আবার সরাসরি ইরানে হামলা চালালে জ্বালানি অবকাঠামোয় ইরানের পাল্টা হামলা আরও তীব্র হবে। একই সঙ্গে জাহাজ পাহারার কাজে যুক্তরাষ্ট্রের সক্ষমতাও কমে যেতে পারে। এতে জ্বালানির দাম উঁচু পর্যায়ে থেকে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

উপসাগরীয় অঞ্চলের জন্য হবে ভয়াবহ

ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা শুরুর আগে উপসাগরীয় কয়েকটি দেশ এ হামলা ঠেকাতে তদবির চালিয়েছিল। যুদ্ধের সময় সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত ইরানে হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যোগ দিলেও পরে রিয়াদ মধ্যস্থতার দিকে ঝুঁকে পড়ে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের হামলা বন্ধ করতে তেহরানকে অর্থ দিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত।

বিশ্লেষকদের মতে, সংঘাতের দ্বিতীয় দফায় উপসাগরীয় দেশগুলো কৌশলগতভাবে আরও কোণঠাসা হয়ে পড়তে পারে। অথচ ইরানের পাল্টা হামলার প্রধান ঝুঁকির মুখে থাকবে তারাই। ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর ইরান উপসাগরীয় দেশগুলোতে হাজার হাজার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছিল।

ওমানের শিক্ষাবিদ ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞ আবদুল্লাহ বাবুদ বলেন, ‘উপসাগরীয় অঞ্চলের জন্য এটি ভয়াবহ হবে। ইতোমধ্যে আমরা সেখানে গুরুতর অর্থনৈতিক সমস্যা দেখতে পাচ্ছি।’

আশার্ক ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের সংকট সামাল দিতে বাহরাইন সংযুক্ত আরব আমিরাতের নেতৃত্বে একটি আর্থিক সহায়তা পেতে পারে। কাতারের অর্থনীতি বছরওয়ারি ১৫ শতাংশ সংকুচিত হয়েছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) পূর্বাভাস অনুযায়ী, সংযুক্ত আরব আমিরাতের অর্থনীতি ৪ শতাংশ সংকুচিত হতে পারে। হুথিদের হামলার কারণে সৌদি আরবকে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগ সম্মেলনও বাতিল করতে হয়েছে।

বাবুদ বলেন, ‘উপসাগরীয় অঞ্চল এমন এক সংকটের জিম্মি, যার শেষ দেখা যাচ্ছে না।’ তাঁর মতে, কাতার মধ্যস্থতার চেষ্টা করছে, ট্রাম্প ওমানকে পাশ কাটিয়ে গেছেন, আর সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত ও সৌদি আরব কার্যত নীরব। ট্রাম্পের অবস্থান বুঝতে পারছে না তারা।

কার্নেগি এনডাউমেন্ট ফর ইন্টারন্যাশনাল পিসের গবেষণাবিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট ও জর্ডানের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী মারওয়ান মুআশের মিডল ইস্ট আইকে বলেন, ইসরায়েল ছাড়া অন্য কোনো পক্ষেরই যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ার প্রকৃত আগ্রহ নেই।


এদিকে আগামী সপ্তাহে ইসরায়েলের সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর প্রতি সমর্থন জানিয়ে ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে অভিযান ‘শেষ করার’ আহ্বান জানিয়েছেন, যদি না তেহরান দ্রুত নিজেদের অবস্থান পরিবর্তন করে।

বিশ্লেষকদের মতে, ইসরায়েলে যুদ্ধের প্রতি জনসমর্থন থাকায় নতুন করে সংঘাত শুরু হলে তা নির্বাচনের আগে নেতানিয়াহুকে সুবিধা দিতে পারে। আবার নির্বাচনের ফল অনিশ্চিত হলে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তাঁর ক্ষমতায় টিকে থাকতেও সহায়ক হতে পারে।

বাবুদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের অবকাঠামো ‘ধ্বংস করে দেওয়ার’ সক্ষমতা রাখে। তবে ইরানও উপসাগরীয় অঞ্চলে ‘উল্লেখযোগ্য’ ক্ষয়ক্ষতি ঘটাতে পারে।

ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব মেজর জেনারেল মোহসেন রেজাই চলতি সপ্তাহে ড্রপসাইট নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র আবার যুদ্ধ শুরু করলে উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানি স্থাপনাগুলো ইরানের হামলার লক্ষ্য হতে পারে।

তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি হরমুজ প্রণালির চাপ কমাতে ও ইরানের ওপর অবরোধ বজায় রাখতে প্রতিবেশী দেশগুলোর জ্বালানি অবকাঠামো ব্যবহার করে, তাহলে ওই দেশগুলোর মনে করা উচিত নয় যে ইরানের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক যুদ্ধে অংশ নিয়েও তারা ঝুঁকিমুক্ত থাকতে পারবে।

ট্রাম্পের ওপর চাপ কোথায়?

সংঘাতের দ্বিতীয় দফায় গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো, ইরানের ড্রোন হামলা মোকাবিলায় উপসাগরীয় দেশগুলোর প্রতিরক্ষা কতটা কার্যকর হবে। এমন হামলা জ্বালানির দাম আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের ইন্সপেক্টর জেনারেলের সেপ্টেম্বরে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে গুরুত্বপূর্ণ কিছু গোলাবারুদের ‘কৌশলগত মজুতের ঘাটতির’ কথা বলা হয়েছে। এর আগে মার্চে মিডল ইস্ট আই জানিয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার সরঞ্জাম বা ইন্টারসেপ্টরের ঘাটতি রয়েছে। এরপর মধ্যপ্রাচ্যে কয়েক সপ্তাহ ধরে তীব্র লড়াই হয়েছে। তবে ট্রাম্প প্রশাসন বারবার বলেছে, তাদের গোলাবারুদের ঘাটতি নেই।

সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে সৌদি আরবে হুথিদের হামলা উপসাগরীয় দেশগুলোর ড্রোন-ঝুঁকিকে আরও স্পষ্ট করেছে। সৌদি আরবের বিমানবন্দর ও গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি স্থাপনাগুলো বারবার হামলার লক্ষ্য হয়েছে। দেশটির কর্তৃপক্ষের হিসাবে, অক্টোবরের শুরু থেকে সৌদি বিমানবন্দরে হুথিদের হামলায় অন্তত ২১ জন নিহত হয়েছেন, যাঁদের মধ্যে ধর্মীয় তীর্থযাত্রীরাও রয়েছেন। সেপ্টেম্বরে ইরান-সমর্থিত ইরাকি মিলিশিয়াদের দায়ী করা একটি হামলায় সৌদি আরবের পূর্ব-পশ্চিম তেল পাইপলাইনও আক্রান্ত হয়।

মুআশের বলেন, যুদ্ধ চালিয়ে গেলে উপসাগরীয় দেশগুলোর দুর্ভোগ আরও বাড়বে, অথচ এতে ইরানে সরকার পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানি ও খাদ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় অভ্যন্তরীণ চাপের মুখে পড়ছেন ট্রাম্প।


তবে মিলারের মতে, ট্রাম্পকে যতটা সংযত মনে করা হয়, বাস্তবে তিনি হয়তো ততটা সংযত নন। বছরের শুরুতে দ্রুত বিজয় অর্জনের পরিকল্পনা ব্যর্থ হওয়ায় ইরানের ওপর তাঁর ক্ষোভও নতুন করে সংঘাতের পথে বাধা কমাতে পারে।

মিলার বলেন, ‘এখানে লাভ-ক্ষতির হিসাব নেই, কারণ ডোনাল্ড ট্রাম্প ঠিকই থাকবেন। মধ্যবর্তী নির্বাচনে তিনি প্রতিনিধি পরিষদ, এমনকি সিনেটও হারাতে পারেন, কিন্তু তিনি ঠিক থাকবেন। তাঁর পরিবার ঠিক থাকবে। তিনি তাঁর প্রেসিডেনশিয়াল লাইব্রেরি তৈরি করবেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘ট্রাম্প যে দ্রুত এ যুদ্ধ শেষ করতে চাইছেন, তার স্পষ্ট কোনো লক্ষণ নেই। তাকে জবাবদিহির মুখে পড়তে হচ্ছে না। ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওপর চাপটা কোথায়?’

সময়ের আলো/জেডি 
  বিষয়:   ইরান  দ্বিতীয় দফা  যুদ্ধের শঙ্কা  বিপদ  উপসাগরীয় অঞ্চল 


Advertisement
Loading...
Loading...
আন্তর্জাতিক- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: