হাজী ইব্রাহীম স্মৃতি রহমানিয়া দাখিল মাদরাসা। ছবি : সময়ের আলোবাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে একটি দাখিল মাদরাসার নৈশপ্রহরীর বিরুদ্ধে দায়িত্ব পালন না করেই নিয়মিত বেতন-ভাতা উত্তোলন, শিক্ষাগত সনদ ও জাতীয় পরিচয়পত্রে জন্মতারিখের অসংগতি এবং নিয়োগসংক্রান্ত কাগজপত্রে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট নৈশপ্রহরী মো. গোলাম মোস্তফার বিরুদ্ধে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার দফতরে পৃথক দুটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন স্থানীয় এক অভিভাবক। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে নিয়োগসংক্রান্ত কাগজপত্রের অসংগতি নিয়ে জবাব চাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে শিক্ষা অফিস।
অভিযুক্ত গোলাম মোস্তফা উপজেলার বারইখালী ইউনিয়নের উত্তর বারইখালী গ্রামের হাজী ইব্রাহীম স্মৃতি রহমানিয়া দাখিল মাদরাসার নৈশপ্রহরী। অভিযোগকারী জামাল শেখ রোববার (২৫ অক্টোবর) তার বিরুদ্ধে অভিযোগ দুটি দাখিল করেন।
অভিযোগপত্র ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গোলাম মোস্তফা মাদরাসায় নৈশপ্রহরী পদে নিয়োগের সময় অষ্টম শ্রেণি পাসের সনদে জন্মতারিখ উল্লেখ করেন ২০ জুন ১৯৭০। ওই সনদে তিনি ১৯৮৩ সালে কাঁঠালতলা গিয়াসিয়া দাখিল মাদরাসা থেকে অষ্টম শ্রেণি পাস করেছেন বলে উল্লেখ রয়েছে। তবে তার জাতীয় পরিচয়পত্রে জন্মতারিখ ১৫ আগস্ট ১৯৬২ লেখা আছে। ফলে শিক্ষাগত সনদ ও জাতীয় পরিচয়পত্রে জন্মতারিখের অসংগতি রয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, নৈশপ্রহরীর দায়িত্ব অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানে রাতযাপন করে পাহারা দেওয়ার কথা থাকলেও গোলাম মোস্তফা নিয়মিত মাদরাসায় রাতযাপন করেন না। তিনি বাড়িতে থেকেই দায়িত্ব পালনের কথা বলে মাসের পর মাস বেতন-ভাতা উত্তোলন করছেন বলে অভিযোগ করেছেন জামাল শেখ। মাদরাসা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগসাজশে এসব অনিয়ম হয়ে আসছে বলেও অভিযোগে দাবি করা হয়েছে।
এ ছাড়া ২০১৬ সালে বারইখালী গ্রামে পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী জান্নাতি হত্যা মামলায় গোলাম মোস্তফা চার্জশিটভুক্ত দ্বিতীয় আসামি ছিলেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। ওই মামলায় গ্রেফতারের পর দীর্ঘদিন কারাগারে থাকার পর জামিনে মুক্ত হয়ে তিনি আবার মাদ্রাসায় যোগ দেন। অভিযোগকারীর দাবি, সে সময় তৎকালীন সুপারের সঙ্গে যোগসাজশ করে তাকে সাময়িক বরখাস্ত না দেখিয়ে নিয়মিত বেতন-ভাতা দেওয়া হয়েছিল।
মাদ্রাসার সুপার মাওলানা আব্দুর রাজ্জাক দাফতরিক কাজে বাইরে থাকায় এ বিষয়ে সহকারী সুপার মো. সাইফুজ্জামান বলেন, নৈশপ্রহরী গোলাম মোস্তফার বাড়ি কাছাকাছি হওয়ায় তিনি প্রতিষ্ঠানে রাতযাপন করেন না। মাদ্রাসায় স্থায়ীভাবে ঘুমানোর জন্য আলাদা কোনো কক্ষ নেই। তবে তিনি বাড়ি থেকে এসে দায়িত্ব পালন করেন।
অভিযোগকারী জামাল শেখ বলেন, মাদ্রাসার সাবেক সুপার ও বর্তমান কর্তৃপক্ষকে ম্যানেজ করে গোলাম মোস্তফা দীর্ঘদিন ধরে এসব অনিয়ম করে আসছেন। দায়িত্ব পালন না করেও তিনি নিয়মিত বেতন-ভাতা উত্তোলন করছেন বলে তার অভিযোগ। এ ছাড়া জান্নাতি হত্যা মামলায় গোলাম মোস্তফা চার্জশিটভুক্ত আসামি ছিলেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
জামাল শেখ আরও দাবি করেন, নৈশপ্রহরীর অনিয়মের প্রতিবাদ করায় তাকে মারধর ও হামলার শিকার হতে হয়েছে। এ ঘটনায় তিনি থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত করে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
তবে গোলাম মোস্তফা তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, নিয়মিত রাতেই মাদ্রাসা পাহারা দেন তিনি। হত্যা মামলায় গ্রেফতার হয়ে কারাগারে থাকার সময় মাদরাসা কর্তৃপক্ষ রেজুলেশনের মাধ্যমে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করেছিল এবং চার মাসের বেতন-ভাতা বন্ধ রেখেছিল। এ ছাড়া তিনি কাউকে মারধর করেননি বলেও দাবি করেন।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম বলেন, গোলাম মোস্তফার বিরুদ্ধে দায়ের করা অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে নিয়োগসংক্রান্ত কাগজপত্রে অসংগতি থাকার বিষয়ে জবাব চেয়ে প্রতিষ্ঠানটির দায়িত্বপ্রাপ্ত সুপারকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তদন্ত শেষে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সময়ের আলো/জোই