ফুটবলারদের ব্যক্তিগত অর্জনের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ স্বীকৃতি ব্যালন ডি'অর। ১৯৫৬ সালে যাত্রা শুরু করা এই পুরস্কার সময়ের সঙ্গে বদলেছে নিয়ম, ভোটপ্রক্রিয়া ও পরিধি। একসময় শুধু ইউরোপীয় ফুটবলারদের জন্য নির্ধারিত থাকলেও এখন বিশ্বের যেকোনো লিগে খেলা ফুটবলার এই পুরস্কারের জন্য বিবেচিত হন। দীর্ঘ ইতিহাসে রেকর্ড আটবার ব্যালন ডি'অর জিতে সবার ওপরে রয়েছেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা লিওনেল মেসি।
ইউরোপীয় ফুটবলারদের জন্য ছিল পুরস্কার
ফরাসি সাময়িকী ফ্রান্স ফুটবল ১৯৫৬ সালে ব্যালন ডি'অর চালু করে। শুরুর দিকে শুধু ইউরোপের ফুটবলারদের এই পুরস্কারের জন্য বিবেচনা করা হতো। ফলে পেলে ও দিয়েগো ম্যারাডোনার মতো কিংবদন্তিরা নিজেদের বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারে মূল ব্যালন ডি'অর জিততে পারেননি। পরবর্তী সময়ে তাঁদের সম্মানসূচক ব্যালন ডি'অর দেওয়া হয়।
১৯৯৫ সালে বদলে যায় নিয়ম
১৯৯৫ সালে পুরস্কারের পরিধি বাড়ানো হয়। ওই বছর থেকে ইউরোপের ক্লাবে খেলা অ-ইউরোপীয় ফুটবলারদেরও ব্যালন ডি'অরের জন্য বিবেচনা করার সুযোগ তৈরি হয়।
সেই বছর পুরস্কারটি জেতেন লাইবেরিয়ার জর্জ ওয়েহ। তিনি ব্যালন ডি'অরজয়ী একমাত্র ফুটবলার, যিনি পরবর্তী সময়ে নিজ দেশের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন।
২০০৭ সালে সবার জন্য উন্মুক্ত
ব্যালন ডি'অরের ইতিহাসে বড় পরিবর্তন আসে ২০০৭ সালে। তখন থেকে বিশ্বের যেকোনো দেশের ফুটবলার, যেকোনো লিগে খেললেও এই পুরস্কারের জন্য বিবেচিত হওয়ার সুযোগ পান। এর মধ্য দিয়ে ব্যালন ডি'অর প্রকৃত অর্থে বৈশ্বিক স্বীকৃতিতে পরিণত হয়।
ফিফার সঙ্গে একীভূত হয়েছিল ব্যালন ডি'অর
২০১০ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত ফিফার বর্ষসেরা পুরস্কারের সঙ্গে একীভূত হয়ে ব্যালন ডি'অরের নাম হয় ‘ফিফা ব্যালন ডি'অর’। এই সময়ে পুরস্কারটি ফিফা ও ফ্রান্স ফুটবল-এর যৌথ উদ্যোগে দেওয়া হতো। জাতীয় দলের কোচ ও অধিনায়কেরাও ভোট দেওয়ার সুযোগ পেতেন।
২০১৬ সালে আবার পৃথকভাবে ব্যালন ডি'অর দেওয়া শুরু হয়। ভোটপ্রক্রিয়াতেও পরিবর্তন আসে। পরবর্তী সময়ে পুরস্কারের মূল্যায়নপদ্ধতিতে আরও সংস্কার করা হয়।
২০২২ সাল থেকে জানুয়ারি-ডিসেম্বর বর্ষপঞ্জির পরিবর্তে ইউরোপীয় ফুটবল মৌসুমের পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে পুরস্কার দেওয়ার নিয়ম চালু হয়। আর ২০২৪ সাল থেকে ফ্রান্স ফুটবল ও উয়েফার যৌথ আয়োজনে ব্যালন ডি'অর দেওয়া হচ্ছে।
রেকর্ডের পাতায় মেসি, বেকেনবাওয়ার ও ইয়াশিন
ব্যালন ডি'অরের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি আটবার পুরস্কার জিতেছেন লিওনেল মেসি। তাঁর পরেই রয়েছেন একাধিকবার পুরস্কারজয়ী আরও কয়েকজন কিংবদন্তি ফুটবলার।
জার্মানির ফ্রাঞ্জ বেকেনবাওয়ার একমাত্র ডিফেন্ডার হিসেবে দুবার ব্যালন ডি'অর জয়ের কৃতিত্ব গড়েছেন। অন্যদিকে, সোভিয়েত ইউনিয়নের গোলরক্ষক লেভ ইয়াশিন ইতিহাসে এখন পর্যন্ত একমাত্র গোলকিপার, যিনি এই পুরস্কার জিতেছেন। ১৯৬৩ সালে তার হাতে ওঠে ব্যালন ডি'অর।
দীর্ঘ সাত দশকের যাত্রায় ব্যালন ডি'অর শুধু একটি ব্যক্তিগত পুরস্কার নয়, বিশ্ব ফুটবলের শ্রেষ্ঠত্ব ও ধারাবাহিকতার অন্যতম প্রতীক হয়ে উঠেছে। নিয়ম ও মূল্যায়নপদ্ধতিতে নানা পরিবর্তন এলেও ফুটবলারদের কাছে এই পুরস্কার জয়ের আকাঙ্ক্ষা আজও অটুট।