তপু বর্মণ। ছবি : সংগৃহীতচতুর্থবারের মতো সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ আয়োজন করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। আগামী ৫ থেকে ১৭ নভেম্বর ঢাকায় অনুষ্ঠিত হবে দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবলের মর্যাদার এই আসর। ফিফা আসিয়ান কাপের পর আরও একটি বড় প্রতিযোগিতায় নামার অপেক্ষায় লাল-সবুজের দল। সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ সামনে রেখে গতকাল জাতীয় স্টেডিয়ামে অনুশীলন করেছেন জামাল, তপুরা। অনুশীলনে নামার আগে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন দলের সিনিয়র সদস্য অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার তপু বর্মণ। আসিয়ান কাপের দুঃখ ভুলে সাফে ভালো করার ব্যাপারে দৃঢ়প্রত্যয়ী এ ফুটবলার।
সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে অনুষ্ঠিত ফিফা আসিয়ান কাপে যাচ্ছেতাই পারফরম্যান্স করেন হামজা চৌধুরী, জামাল ভূঁইয়ারা। তিন ম্যাচে ১৩ গোল হজম করে; বিপরীতে প্রতিপক্ষের জালে ঢোকায় মাত্র ২টি। এর মধ্যে সবচেয়ে কম গোল হজম করে সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে। ১-০তে ম্যাচটি হারে। তবে সবচেয়ে বাজে ফল করে স্বাগতিক ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে ৯-২ গোলের ব্যবধানে হারে। এমন হারে বিস্মিত তপু। ইনজুরির কারণে আসিয়ান কাপে ছিলেন না এই ডিফেন্ডার। তবে সাফে এমন ফল করবে না তার দল জানান তপু।
গতকাল অনুশীলনে নামার আগে তপু বর্মণ বলেন, ‘প্রথম ম্যাচে ৩ গোল খেয়েছি, শেষ ম্যাচে ৯ গোল খেয়েছি। এটা খুবই হতাশার। শেষ কবে আমরা ৯ গোল হজম করেছি, জানি না। তবে গোল হজমের ক্ষেত্রে শুধু গোলকিপার বা ডিফেন্ডারদের দোষ দেখলে হবে না। আমার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো দলগতভাবে রক্ষণ সামলানো। তবে এটা বলতে পারি, সাফে আমরা এত গোল হজম করব না।’
আসিয়ান কাপে তারিক কাজী, শাকিল আহাদ তপু, সাদ উদ্দিনরা দলকে বাঁচাতে পারেননি। তবে আসন্ন সাফে রক্ষণভাগের নেতৃত্বে থেকে সতীর্থদেরও সাহায্য করতে চান এই সেন্টারব্যাক। তপু জানান, ‘আমি আমার সর্বোচ্চটা দিয়ে চেষ্টা করব। পেছন থেকে কীভাবে খেলতে হবে, কীভাবে রক্ষণভাগকে শক্ত করা যায়, সে বিষয়ে আমার ভূমিকা থাকবে। আমি সতীর্থদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়ার চেষ্টা করব।’
২০০৩ সালে প্রথমবার সাফ ফুটবলের আয়োজক হয় বাংলাদেশ। এরপর ২০০৯ সালে দ্বিতীয়, সবশেষ আয়োজক ছিল ২০১৮ সালে। সেবার দুর্দান্ত খেলেন তপু। তবে ২০০৩ সাল ছাড়া কখনো শিরোপা জেতা হয়নি বাংলাদেশের। আট বছর পর দেশের মাটিতে দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবলের শ্রেষ্ঠত্বের লড়াইয়ে নামবে বাংলাদেশ। এ ব্যাপারে তপু বলেন, ‘সাফ আমাদের জন্য অনেক বিশেষ। আট বছর পর আবার নিজেদের মাঠে খেলছি। আমাদের লড়াই করতে হবে এবং কাঙ্ক্ষিত সাফল্য অর্থাৎ ২৩ বছর পর শিরোপা জিততে হবে। সে জন্য আমাদের সেভাবে প্রস্তুতি নিতে হবে।’
এদিকে মাত্র ১৮ বছর বয়সেই জাতীয় ফুটবল দলের ক্যাম্পে প্রথমবার ডাক পেয়ে উচ্ছ্বসিত মাহি খান। সাফের মঞ্চে বাংলাদেশকে চ্যাম্পিয়ন করার স্বপ্ন নিয়ে প্রস্তুতি নিচ্ছেন এই উদীয়মান ফরোয়ার্ড। একই সঙ্গে শৈশবের আইডল হামজা চৌধুরীর সঙ্গে একই ড্রেসিংরুম ভাগাভাগি করার সুযোগ পাবেন ভেবে দারুণ রোমাঞ্চিত তিনি। আসন্ন সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ নিয়ে নিজের অনুভূতির কথা জানিয়ে মাহি খান বলেন, ‘আমি অত্যন্ত গর্বিত ও আনন্দিত। মাত্র ১৮ বছর বয়সে প্রথমবারের মতো জাতীয় সিনিয়র দলের ক্যাম্পে ডাক পেয়েছি। এতে আমি নিজে যেমন গর্ববোধ করছি, তেমনি আমার পরিবারের সবাই ভীষণ খুশি। এখন আমাদের কঠোর পরিশ্রম করার সময় এবং ইনশাআল্লাহ আমরা সাফ শিরোপাও জিতব।’
বাংলাদেশের শিরোপা জেতার পথে বড় বাধা হতে পারে দলের নম্বর নাইন। একজন পরিপূর্ণ স্ট্রাইকারের অভাববোধ থেকেই ইংল্যান্ড প্রবাসী মাহি খানকে ক্যাম্পে ডেকেছেন বাংলাদেশের প্রধান কোচ টমাস ডুলি।
সময়ের আলো/জেডআই