প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:১৪ পিএম
কবরস্থানের অভাবে বসতঘরের ভেতর দাফন করা হয়েছিল ৭০ বছর বয়সী করিম মিয়াকে। ছবি : সংগৃহীতকবরস্থানের অভাবে বসতঘরের ভেতর দাফন করা হয়েছিল ৭০ বছর বয়সী করিম মিয়াকে। গণমাধ্যমে এ খবর প্রকাশের পর বিষয়টি নজরে আসে জেলা প্রশাসনের। পরে প্রশাসনের উদ্যোগ ও স্থানীয়দের সহযোগিতায় প্রতিষ্ঠা করা হয় সামাজিক কবরস্থান। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) ঘর থেকে মরদেহ তুলে নতুন কবরস্থানে পুনরায় দাফন করা হয়েছে তাকে।
এ ঘটনায় শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলার শালমারা গ্রামের বাসিন্দাদের দীর্ঘদিনের কবরস্থান সংকটের অবসান হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত রোববার (২৫ অক্টোবর) বিকেলে করিম মিয়ার মৃত্যু হয়। তার বড় মেয়ে ঢাকা থেকে বাড়িতে এসে বাবার মরদেহ দাফনের জন্য কবরস্থানের জায়গা খুঁজতে গিয়ে বিপাকে পড়েন। গ্রামে সরকারি বা সামাজিক কোনো কবরস্থান না থাকায় শেষ পর্যন্ত বসতঘরের বেড়া খুলে ঘরের ভেতরেই দাফনের সিদ্ধান্ত নেন তিনি। সোমবার (২৬ অক্টোবর) সকাল ১০টায় বাড়ির পাশে জানাজা শেষে ঘরের ভেতরে করিম মিয়াকে দাফন করা হয়।
বিষয়টি গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে শেরপুরের জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিনের নজরে আসে। পরে তিনি শ্রীবরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।
শালমারা গ্রামে শতাধিক পরিবারের বসবাস থাকলেও এত দিন সেখানে দাফনের জন্য নির্ধারিত কোনো কবরস্থান ছিল না। ফলে গ্রামে কারও মৃত্যু হলে স্বজনদের পড়তে হতো চরম ভোগান্তিতে। করিম মিয়ার মৃত্যুর পর বিষয়টি সামনে এলে স্থানীয়দের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সামাজিক কবরস্থান প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়।
এ উদ্যোগে এগিয়ে আসেন স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি। আবুল হোসেন, মুত্তাকিন ও সিরাজ নামের তিন ভাই কবরস্থানের জন্য পাঁচ শতক জমি দান করেন। আরমান দান করেন আরও দুই শতক। পাশাপাশি জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাড়ে সাত শতক জমি কেনার ব্যবস্থা করা হয়। এভাবে প্রয়োজনীয় জমির ব্যবস্থা করে প্রতিষ্ঠা করা হয় সামাজিক কবরস্থান। পরে সেখানেই করিম মিয়াকে পুনরায় দাফন করা হয়।
এদিকে করিম মিয়ার অসুস্থ স্ত্রী ও পরিবারের দুরবস্থার কথা বিবেচনা করে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ২০ হাজার টাকা নগদ সহায়তা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি তাদের জন্য চাল, ডালসহ শুকনো খাবারের ব্যবস্থাও করা হয়।
দীর্ঘদিনের কবরস্থান সংকট নিরসনে প্রশাসনের উদ্যোগ ও স্থানীয়দের সহযোগিতায় স্বস্তি ফিরেছে শালমারা গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে। এখন থেকে গ্রামের কেউ মারা গেলে দাফনের জন্য আর আগের মতো অনিশ্চয়তায় পড়তে হবে না বলে আশা করছেন তারা।
সময়ের আলো/এনএন