রুপালি পর্দার রোমান্টিক নায়িকা দিলারা হানিফ পূর্ণিমা । ছবি : সংগৃহীতদীর্ঘ প্রায় দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে রুপালি পর্দার রোমান্টিক নায়িকার ছকেই নিজেকে আটকে রেখেছেন ঢাকাই চলচ্চিত্রের প্রিয়মুখ দিলারা হানিফ পূর্ণিমা।
প্রায় ২৮ বছরের বর্ণাঢ্য অভিনয় জীবনে অসংখ্য দর্শকপ্রিয় ও ব্যবসাসফল চলচ্চিত্র উপহার দিলেও এবার সেই গতানুগতিক গণ্ডি ভেঙে বেরিয়ে আসার তীব্র আগ্রহ প্রকাশ করেছেন এই তারকা। গ্ল্যামারাস ও রোমান্টিক ইমেজের খোলস ছেড়ে এবার ব্যতিক্রমী বা নেগেটিভ (খল) চরিত্রে পর্দায় হাজির হতে চান তিনি।
সম্প্রতি নিজের অভিনয় জীবনের নতুন এই ভাবনা ও প্রত্যাশার কথা জানান পূর্ণিমা। সেখানে তিনি বলেন, এখনকার সিনেমা বা ওটিটি প্ল্যাটফর্মে নায়িকারা যেভাবে নেতিবাচক বা ভিন্নধর্মী চরিত্রে দর্শকের সামনে আসছেন, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। আমিও ঠিক তেমনি কোনো চ্যালেঞ্জিং চরিত্র খুঁজছি।
পূর্ণিমা সময়ের আলোকে বলেন, ‘নেগেটিভ চরিত্রে বলতে সাধারণভাবে যা বোঝানো হয় আমাদের এখানে ঠিক সে রকমটা নয়, আমি চাই যে চরিত্রের পেছনে একটা গল্প থাকবে, যার ওপরে দাঁড়িয়ে থেকে একটি পুরো কাহিনি আবর্তিত হবে— সে রকম কিছুতে কাজ করতে আগ্রহী আমি। দেশে এখন অনেক সিনেমা বা ওটিটিতে নায়িকারা নেতিবাচক চরিত্র বা ভিন্ন কিছু নিয়েই দর্শকের সামনে আসছেন। আমিও সুন্দরী নায়িকা, পরিপাটি ইমেজ এসবের বাইরে কোনো চরিত্র চাই। আমার নেতিবাচক চরিত্র এবং সেই কাজটি যেন দর্শকের মনে দাগ রেখে যায় সে রকম কাজ করতে চাই। যদিও এখন পর্যন্ত তেমন কোনো কাজের প্রস্তাব আসেনি আমরা কাছে।’
একসময় টিভি নাটকে ব্যাপক চাহিদা থাকলেও পূর্ণিমাকে এখন ছোটপর্দায় খুব একটা দেখা যায় না বললেই চলে। এ প্রসঙ্গে তিনি জানান, বর্তমানে টিভি নাটক মূলত বিশেষ দিন বা উৎসবকেন্দ্রিকই করা হয়, যার মধ্যে ঈদের কাজগুলোই বেশি হয়। ধারাবাহিক নাটকে তাকে আর সেভাবে পাওয়া যায় না। অতীতে জাহিদ হাসান পরিচালিত ‘লাল নীল বেগুনি’ ধারাবাহিকটি দীর্ঘদিন করেছিলেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, ভালো গল্প ও চরিত্র পেলে তিনি আজও বেছে বেছে নাটক করতে চান।
গত কয়েক বছর ধরেই বড়পর্দায় বেশ অনিয়মিত পূর্ণিমা। মাঝেমধ্যে ছোটপর্দায় উপস্থাপক কিংবা বিভিন্ন রিয়েলিটি শোর বিচারকের আসনে তাকে দেখা গেলেও অভিনয়ে তিনি অনেকটাই অন্তরালে। সবশেষ ২০২৪ সালে মুক্তি পেয়েছিল ছটকু আহমেদ পরিচালিত তার অভিনীত সিনেমা ‘আহারে জীবন’। তবে বড়পর্দায় দীর্ঘ বিরতি থাকলেও তার অভিনীত বহুল প্রতীক্ষিত দুটি সিনেমা— ‘গাঙচিল’ ও ‘জ্যাম’ বর্তমানে মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে।
কাজী হায়াৎ পরিচালিত জনপ্রিয় সিনেমা ‘ওরা আমাকে ভালো হতে দিল না’ সিনেমার জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেছিলেন পূর্ণিমা। দীর্ঘ ২৮ বছরের ক্যারিয়ারে প্রায় ৮০টি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি। বিশেষ করে ভারত-বাংলাদেশ যৌথ প্রযোজনার ছবি ‘মনের মাঝে তুমি’ তাকে এনে দিয়েছিল আকাশছোঁয়া জনপ্রিয়তা ও তারকাখ্যাতির শীর্ষবিন্দু।
বাণিজ্যিক ছবির পাশাপাশি সাহিত্যনির্ভর ও ক্লাসিক কাজেও নিজের অনবদ্য অভিনয় দক্ষতার স্বাক্ষর রেখেছেন এই গুণী অভিনেত্রী। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছোটগল্প অবলম্বনে নির্মিত ‘সুভা’ ও ‘শাস্তি’ কিংবা রাবেয়া খাতুনের উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত ‘মেঘের পরে মেঘ’ চলচ্চিত্রে তার অভিনয় আজও দর্শকের হৃদয়ে দাগ কেটে আছে। এ ছাড়া তার অন্যান্য উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রের মধ্যে রয়েছে— যোদ্ধা, হৃদয়ের কথা, বিয়ের প্রস্তাব, লোভে পাপ পাপে মৃত্যু, মনের সাথে যুদ্ধ এবং সুলতান।
পাশাপাশি ২০২৩ সালে কাজল আরেফিন অমির জনপ্রিয় ওয়েব সিরিজ ‘হোটেল রিলাক্স’-এর মাধ্যমে ওটিটি প্ল্যাটফর্মে নাম লেখালেও এরপর তাকে আর ওটিটির ফ্রেমে পাওয়া যায়নি।
সময়ের পালাবদলে চলচ্চিত্রের ধারা বদলেছে, রুপালি পর্দায় এসেছে নতুন প্রজন্মের মুখ ও মেধা। কিন্তু পূর্ণিমার রূপের জাদু, জনপ্রিয়তা কিংবা দর্শকের অকৃত্রিম ভালোবাসা একটুও মøান হয়নি। বরং সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নিজেকে আরও পরিণত ও যুগোপযোগী করে বাংলা চলচ্চিত্রের চিরসবুজ এই তারকা আজও নিজের ভালোবাসার আসনটি ধরে রেখেছেন। এখন কেবল সময়ের অপেক্ষা— চেনা ছক ভেঙে কবে রোমান্টিক নায়িকার ইমেজ ঝেড়ে ফেলে নতুন ও ধূসর কোনো চরিত্রে ধরা দেন এই জনপ্রিয় অভিনেত্রী।
সময়ের আলো/প্রিন্ট/এসকে