প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬, ২:১৬ পিএম
দোকান বন্ধ রেখে ব্যবসায়ীদের প্রতিবাদ। ছবি : সময়ের আলোভোলার মনপুরায় উপজেলা পরিষদের সামনে মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ও চতুর্থ শ্রেণি ক্লাবের পাশে সরকারি জমিতে দোকানের ভিটা বরাদ্দের উদ্যোগ বাতিলের দাবিতে দোকানপাট বন্ধ রেখে প্রতিবাদ জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত উপজেলার সদর হাজিরহাট বাজারের সহস্রাধিক ব্যবসায়ী তাদের প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখেন।
এর আগে বুধবার রাত ১১টার দিকে হাজিরহাট বাজার ব্যবসায়ী সমিতির নেতৃত্বে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন ব্যবসায়ীরা। পরে মাইকিং করে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত দোকানপাট বন্ধ রাখার ঘোষণা দেন ব্যবসায়ী নেতারা।
ব্যবসায়ীদের দোকানপাট বন্ধ থাকায় বাজারে আসা ক্রেতারা ভোগান্তিতে পড়েন। প্রয়োজনীয় পণ্য কিনতে এসে অনেককে খালি হাতে ফিরে যেতে দেখা যায়।
জানা গেছে, উপজেলা পরিষদের মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ও চতুর্থ শ্রেণি ক্লাবের পাশে সরকারি জমিতে ব্যবসায়ীদের জন্য ৫২টি ভিটা বরাদ্দের কার্যক্রম শুরু করে উপজেলা প্রশাসন। এর মধ্যে মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের পাশে ৪২টি ভিটা বরাদ্দের জন্য ৫০ হাজার টাকা এবং চতুর্থ শ্রেণি ক্লাবের পাশের জমিতে ১০টি ভিটা বরাদ্দের জন্য এক লাখ টাকা পে-অর্ডার দিয়ে আবেদন করা হয়। পরে লটারির মাধ্যমে ভিটা বরাদ্দের জন্য আবেদনকারীদের নামের তালিকা প্রকাশ করে উপজেলা প্রশাসন।
হাজিরহাট বাজার ব্যবসায়ী সমিতির কোষাধ্যক্ষ আবদুর রহমান এবং ব্যবসায়ী নেতা মো. জসিম ও মো. আব্বাস বলেন, প্রায় ৫০ বছরের পুরোনো হাজিরহাট বাজারে সহস্রাধিক ব্যবসায়ী ব্যবসা করছেন। কিন্তু উপজেলা প্রশাসন বাজারের কাছাকাছি ভিটা বরাদ্দ দিয়ে পুরোনো বাজার ভেঙে নতুন বাজার গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে বলে তাদের অভিযোগ। প্রশাসনের এ উদ্যোগের প্রতিবাদে তারা দোকানপাট বন্ধ রেখে কর্মসূচি পালন করছেন।
তারা আরও জানান, বুধবার ভিটা বরাদ্দ বাতিলের দাবিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) কাছে স্মারকলিপি দিয়েছেন।
হাজিরহাট বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সহসভাপতি নিজাম উদ্দিন, বেলায়াত হোসেন ও মিজান পাটোয়ারী অভিযোগ করেন, উপজেলা প্রশাসন নিয়মনীতি উপেক্ষা করে বাজারের কাছাকাছি ভিটা বরাদ্দ দিয়ে পুরোনো বাজার ভেঙে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে। ভিটা বরাদ্দের কার্যক্রম বন্ধ না হলে সামনে আরও বড় কর্মসূচি দেওয়া হবে বলে তারা হুঁশিয়ারি দেন।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খান সালমান হাবিব বলেন, উপজেলা পরিষদের আর্থিক খাত বাড়ানোর জন্য ভিটা বরাদ্দের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তবে আপাতত ভিটা বরাদ্দের কার্যক্রম স্থগিত রাখা হয়েছে।
সময়ের আলো/জোই