প্রকাশ: শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:৫৪ এএম
ছবি : সংগৃহীত ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো নতুন পার্লামেন্ট নেসেটের স্পিকার আমির ওহানাকে সরানোর পরিকল্পনা করছে। আগামী মাসে নতুন নেসেটের সদস্যদের শপথ গ্রহণের পরপরই এ উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
ইসরাইলের নির্বাচনের পূর্ণাঙ্গ ফল প্রকাশের পরও সরকার গঠন নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটেনি। ১২০ আসনের নেসেটে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৬১টি আসন পায়নি কোনো পক্ষই। এ পরিস্থিতিতে নেতানিয়াহুকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে নতুন সরকার গঠনের লক্ষ্যে দফায় দফায় বৈঠক করছেন বিরোধী নেতারা।
‘টাইমস অব ইসরাইল’-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘চেঞ্জ ব্লক’ নামে পরিচিত বিরোধী জোটের সঙ্গে আরব নেতৃত্বাধীন জয়েন্ট লিস্ট ও রা’আম দলের সম্মিলিত আসনসংখ্যা ৬৭। এই জোটে রয়েছে ইয়াশার, বি’ইয়াচাদ, দ্য ডেমোক্র্যাটস ও ইসরাইল বেইতেনু। ফলে বর্তমান স্পিকার ওহানাকে সরানোর মতো সংখ্যাগরিষ্ঠতা তাদের রয়েছে।
ইসরাইলের চ্যানেল ১২-এর রাজনৈতিক বিশ্লেষক বারাক সেরি জানিয়েছেন, ওহানাকে স্পিকারের পদ থেকে সরানোর বিষয়ে বিরোধী দলগুলোর মধ্যে ইতিমধ্যে সমঝোতা হয়েছে। তবে তার স্থলাভিষিক্ত হিসেবে কাকে নিয়োগ দেওয়া হবে, সে বিষয়ে কোনো নাম জানাননি তিনি। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইয়ার লাপিদকে নতুন স্পিকার করার বিষয়টি বিবেচনা করছে বিরোধী দলগুলো।
শুক্রবার সন্ধ্যায় চ্যানেল ১২-তে বারাক সেরির সঙ্গে আলোচনায় দ্য ডেমোক্র্যাটস দলের নেতা ইয়ার গোলান বলেন, ২৬তম নেসেটের সদস্যদের শপথ গ্রহণের পর ‘প্রথম কাজই হবে’ নতুন স্পিকার নিয়োগ দেওয়া। এরপর পার্লামেন্টের বিভিন্ন কমিটির প্রধান নির্বাচন এবং ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর দক্ষিণ ইসরাইলে হামাসের নেতৃত্বাধীন হামলার তদন্তে রাষ্ট্রীয় তদন্ত কমিশন গঠন করা হবে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরাইলের নতুন পার্লামেন্টের কার্যক্রম শুরু হবে আগামী ১০ নভেম্বর। সরকার গঠন নিয়ে আলোচনা চললেও নির্ধারিত ওই দিনই নির্বাচিত সদস্যদের শপথ নিতে হবে। নতুন স্পিকার নিয়োগের জন্য ভোটও শপথ গ্রহণের দিন অনুষ্ঠিত হতে পারে।
এদিকে ইসরাইলের নির্বাচনে বিদেশি হস্তক্ষেপ ও জালিয়াতির অভিযোগ নিয়েও বিতর্ক চলছে। তবে ব্যাপক জালিয়াতির অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে দেশটির কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটি। অন্যদিকে, বিদেশি হস্তক্ষেপের অভিযোগের তদন্ত এখনো চলছে।
সময়ের আলো/এসএকে