প্রকাশ: রোববার, ১ নভেম্বর, ২০২৬, ৯:১৪ পিএম আপডেট: ০১.১১.২০২৬ ৯:১৫ পিএম
রাজধানীর অভিজাত ও পুরনো শপিং মলগুলো এখন প্রায় ক্রেতাশূন্য। ছবি : সংগৃহীত একসময় ক্রেতাদের পদচারণে মুখর থাকা রাজধানীর অভিজাত ও পুরনো শপিং মলগুলো এখন প্রায় ক্রেতাশূন্য। বিক্রি কমে যাওয়ায় দোকান ভাড়া, কর্মচারীদের বেতন ও পরিচালন ব্যয় মেটাতে হিমশিম খাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। লোকসান সামলাতে না পেরে অনেকেই ব্যবসা গুটিয়ে নিচ্ছেন। ইতোমধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে শান্তিনগরের একসময়ের জনপ্রিয় কর্ণফুলী গার্ডেন সিটি।
রাজধানীর ইস্টার্ন প্লাজা, ইস্টার্ন মল্লিকা, পুলিশ প্লাজা, রাপা প্লাজা, মৌচাক মার্কেট, হোসাফ টাওয়ার ও শাহ আলী মার্কেটসহ বিভিন্ন বিপণিবিতানে এখন ক্রেতাদের উপস্থিতি অনেক কম। অনেক দোকান বন্ধ, আবার বেশ কিছু দোকান খালি পড়ে রয়েছে।
ব্যবসায়ীরা জানান, অনলাইন কেনাকাটার জনপ্রিয়তা, আধুনিক শপিং মলের সংখ্যা বৃদ্ধি, মূল্যস্ফীতি ও মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়ায় বেচাকেনায় ধস নেমেছে। পাশাপাশি রাত ৮টার মধ্যে মার্কেট বন্ধের বাধ্যবাধকতাও ব্যবসায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
পুলিশ প্লাজার ব্যবসায়ীদের দাবি, পাঁচ বছর আগের তুলনায় তাদের বিক্রি কমেছে প্রায় ৬০ শতাংশ। মৌচাক এলাকার ফরচুন শপিংয়ের এক বিক্রয়কর্মী জানান, আগে মাসে ৩ থেকে ৫ লাখ টাকার বেশি বিক্রি হলেও এখন তা অর্ধেকের নিচে নেমেছে।
মিরপুরের শাহ আলী প্লাজার ব্যবসায়ীরাও একই সংকটের কথা জানিয়েছেন। কয়েক মাস ধরে বিক্রি না থাকায় দোকান ভাড়া ও বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করাও কঠিন হয়ে পড়েছে।
বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির সভাপতি মো. হেলাল উদ্দিন বলেন, ‘শপিং মলগুলোতে ক্রেতা ও বিক্রি কমে যাওয়ার মূল কারণ মূলত সময়সীমা কমিয়ে আনা। শপিং মলগুলোর বিক্রির পিক টাইম সন্ধ্যাবেলা। কিন্তু এসব মল খোলা রাখার সময়সীমা রাত ৮টা পর্যন্ত, যে কারণে ক্রেতা কমে যাচ্ছে। এর বাইরে আরো একটি কারণ হলো মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়া। আমরা দোকান খোলা রাখার সময়সীমা আরো ১ ঘণ্টা বাড়ানোর জন্য সরকারের সঙ্গে আলোচনা করছি। তাতে অন্তত ক্রেতা সমাগম মার্কেটগুলোতে বাড়লে ব্যবসায়ীরা টিকে থাকতে পারবেন।’
ব্যবসায়ীদের আশঙ্কা, দ্রুত পরিস্থিতির উন্নতি না হলে আরও অনেক পুরনো বিপণিবিতান বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
সময়ের আলো/এমকে