প্রকাশ: রোববার, ১ নভেম্বর, ২০২৬, ১১:৪২ পিএম
ছবি : সংগৃহীতআন্তর্জাতিক মঞ্চে সাফল্যের আলো ছড়িয়ে দেশে ফিরেছেন বাংলাদেশের আরচাররা। ইরাকের সুলায়মানিয়ায় এশিয়া কাপ আরচারি ওয়ার্ল্ড র্যাঙ্কিং টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় ধাপে তিন স্বর্ণ, তিন রৌপ্য ও চার ব্রোঞ্জসহ মোট ১০টি পদক জিতেছে বাংলাদেশ দল। এর মধ্যে প্রথমবারের মতো এশিয়া কাপের রিকার্ভ পুরুষ দলীয় ইভেন্টে স্বর্ণজয়ের কীর্তিও গড়েছেন বাংলাদেশের আরচাররা।
রোববার সকালে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান আরচাররা। দেশে ফেরা দলকে ফুল দিয়ে বরণ করেন বাংলাদেশ আরচারি ফেডারেশনের সভাপতি ও ওয়ার্ল্ড আরচারি এশিয়ার সভাপতি কাজী রাজীব উদ্দীন আহমেদ চপল। এ সময় উপস্থিত ছিলেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব মো. মাহফুজুল আলম খান, ফেডারেশনের সহ-সভাপতি মনজুর আলমসহ অন্যরা।
গত ২৪ থেকে ২৯ অক্টোবর অনুষ্ঠিত প্রতিযোগিতায় রিকার্ভ ও কম্পাউন্ড— দুই বিভাগেই সাফল্য পেয়েছেন বাংলাদেশের আরচাররা। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য অর্জন রিকার্ভ পুরুষ দলীয় ইভেন্টে স্বর্ণপদক। কাজাখস্তানকে ৬-২ সেট পয়েন্টে হারিয়ে প্রথমবারের মতো এশিয়া কাপের এই ইভেন্টে সেরা হয় বাংলাদেশ। দলের হয়ে লড়েছেন আব্দুর রহমান আলিফ, মো. সাগর ইসলাম ও আবদুল্লাহ আল মোহাম্মদ রাফি।
কম্পাউন্ড নারী দলীয় ইভেন্টেও কাজাখস্তানকে হারিয়ে স্বর্ণ জিতেছেন বাংলাদেশের আরচাররা। বন্যা আক্তার, শ্রীপর্ণা বিশ্বাস ও কুলসুম আক্তার মনির সমন্বয়ে গড়া দলটি ২৩০-২২০ স্কোরে প্রতিপক্ষকে পরাজিত করে। ব্যক্তিগত ইভেন্টেও সাফল্যের ধারাবাহিকতা ধরে রাখেন বন্যা। কাজাখস্তানের মিলানা বুরলেভাকে ১৪৫-১৪৩ স্কোরে হারিয়ে জেতেন নিজের প্রথম আন্তর্জাতিক ব্যক্তিগত স্বর্ণপদক।
দেশে ফিরে নিজের অনুভূতি জানাতে গিয়ে বন্যা বলেন, এশিয়া কাপে ব্যক্তিগত স্বর্ণজয় তার জন্য বিশেষ অর্জন। এই সাফল্য বিশ্বকাপ, বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপ ও অলিম্পিকের মতো বড় আসরে ভালো করার অনুপ্রেরণা জোগাবে। রিকার্ভ পুরুষ দলের আরচাররাও নিজেদের অর্জনকে দীর্ঘদিনের পরিশ্রমের ফল হিসেবে উল্লেখ করেছেন। ভবিষ্যতে বিশ্বমঞ্চে আরও বড় সাফল্যের প্রত্যাশা তাদের।
দলের প্রধান কোচ মার্টিন ফ্রেডরিকের কাছে এবারের আসরের গুরুত্ব ছিল আরও বিস্তৃত। দলে অনূর্ধŸ-২১ ও অনূর্ধŸ-১৮ পর্যায়ের কয়েকজন আরচাররা ছিলেন। তাদের আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা বাড়ানোই ছিল অন্যতম লক্ষ্য। বড় দর্শকের সামনে ফাইনালে খেলার অভিজ্ঞতা তরুণদের আত্মবিশ্বাস ও দক্ষতা বাড়াতে সহায়ক হবে বলে মনে করেন তিনি।
টিম ম্যানেজার তাজুল হোসেন বাপ্পীও খেলোয়াড়দের জন্য নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের সুযোগ বাড়ানোর ওপর জোর দিয়েছেন। তার মতে, আরচারির মতো মনোযোগ ও মানসিক দৃঢ়তানির্ভর খেলায় ভালো করতে হলে আন্তর্জাতিক মানের প্রস্তুতি এবং প্রতিযোগিতার পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি।
সময়ের আলো/আতা