ঘরের মাঠে আলাভেসকে ৬-১ গোলে উড়িয়ে জয়ের ধারায় ফিরেছে হান্সি ফ্লিকের দল। ছবি : সংগৃহীতটানা দুই হারে কিছুটা ছন্দপতন হয়েছিল বার্সেলোনার। তবে ঘরের মাঠে আলাভেসকে ৬-১ গোলে উড়িয়ে জয়ের ধারায় ফিরেছে হান্সি ফ্লিকের দল। চ্যাম্পিয়নস লিগে প্যারিস সেন্ট জার্মেই (পিএসজি) ও লিগে রিয়াল মাদ্রিদের কাছে হারের পর এই জয়ে লা লিগার শীর্ষস্থানও পুনরুদ্ধার করেছে কাতালানরা। জোড়া গোল করেছেন রাফিনহা ও লামিনে ইয়ামাল। একটি গোলের পাশাপাশি দুটি অ্যাসিস্ট করে ম্যাচের অন্যতম নায়ক ফেরমিন লোপেজ। বদলি নেমে গোল পেয়েছেন অ্যান্থনি গর্ডনও।
ম্যাচ শেষে দলের পারফরম্যান্সে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন কোচ ফ্লিক। বিশেষ করে আক্রমণভাগের খেলোয়াড়দের সামর্থ্যে মুগ্ধ তিনি। জার্মান কোচ বলেন, ‘লামিনের জন্য এটি দুর্দান্ত একটি ম্যাচ ছিল। তবে ফেরমিন, রাফিনহার মতো আক্রমণভাগের খেলোয়াড়দের মানও দেখতে পাওয়াটা ভালো লেগেছে। দুটি হারের পর এমন কিছুই দেখতে চেয়েছিলাম আমি। আমরা যেভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছি, তা দারুণ ও যথাযথ ছিল।’
শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ছিল বার্সেলোনা। ম্যাচের অষ্টম মিনিটেই এগিয়ে যায় তারা। ফেরমিন লোপেজের কাছ থেকে বল পেয়ে জালে পাঠাতে ভুল করেননি ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড রাফিনহা।
ম্যাচের ২৩ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করে বার্সেলোনা। ইয়ামালের পাস পেয়ে কঠিন কোণ থেকে নিখুঁত শটে লক্ষ্যভেদ করেন ফেরমিন। বিরতির আগে মাঝমাঠ থেকে বল কেড়ে নিয়ে ফেরমিন পাস বাড়ান রাফিনহাকে। একের বিপক্ষে এক অবস্থায় দুর্দান্ত বাঁকানো শটে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন ব্রাজিলিয়ান তারকা। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটে গোলের খাতা খোলেন ইয়ামাল। বক্সের বাইরে থেকে নিচু শটে বল জালে পাঠিয়ে ব্যবধান ৪-০ করেন তিনি।
বিরতির পরও আক্রমণের ধার কমেনি বার্সেলোনার। ৬৪ মিনিটে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন ইয়ামাল। এরপর ৮১ মিনিটে বদলি হিসেবে মাঠে নামা গর্ডনও নাম লেখান স্কোরশিটে। তবে ক্লিনশিট ধরে রাখতে পারেনি বার্সেলোনা। ৮৪ মিনিটে রদ্রির ভুল ব্যাক পাস থেকে বল পেয়ে গোল করেন মারিয়ানো দিয়াজ। তাতে ব্যবধান কমে ৬-১।
এই জয়ে শুধু শীর্ষস্থানই ফিরে পায়নি বার্সেলোনা, কোচ ফ্লিকের জন্যও ম্যাচটি হয়ে থাকল বিশেষ। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে বার্সেলোনার কোচ হিসেবে এটি তার শততম জয়। মাত্র ১৩০ ম্যাচে এই মাইলফলকে পৌঁছেছেন তিনি। ক্লাবটির ইতিহাসে এর চেয়ে কম ম্যাচে ১০০ জয় পেয়েছেন কেবল লুইস এনরিকে, ১২৬ ম্যাচে।
ইয়ামালও ছুটছেন দুর্দান্ত ছন্দে। চলতি মৌসুমে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে বার্সেলোনার হয়ে এক ম্যাচে তিনটি গোল-অবদানের কীর্তি গড়লেন পঞ্চমবারের মতো। সব কটি কীর্তিই এসেছে ২০২৬ সালে। ২০২৬-২৭ মৌসুমে এখন পর্যন্ত তার গোল ১২টি, অ্যাসিস্ট ১১টি— ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ লিগের খেলোয়াড়দের মধ্যে গোল-অবদানে সবার ওপরে তিনি।
তবে বার্সেলোনার সামনে এখনও চোটের দুশ্চিন্তা রয়েছে। দলের চার ডিফেন্ডার শাভি এস্পার্ত, আন্দ্রেয়াস ক্রিস্টেনসেন, জুলস কুন্দে ও এরিক গার্সিয়া চোটের কারণে মাঠের বাইরে। তাদের ফেরার সময় নিয়ে নিশ্চিত নন ফ্লিক। কোচ জানান, ফ্রেঙ্কিকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন প্রয়োজনে সে ওই পজিশনে খেলতে পারবে কি না। উত্তরে ফ্রেঙ্কি দলকে যেভাবে সম্ভব সহায়তা করার আশ্বাস দিয়েছেন।
ম্যাচে গোল ও অ্যাসিস্টের পাশাপাশি দলের ছন্দ ফেরাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন ফেরমিন লোপেজ। সমর্থকদের সামনে এমন জয়কে বিশেষ বলে মনে করেন তিনি। ফেরমিন বলেন, ‘ক্যাম্প ন্যুয়ে সমর্থকদের সামনে ঘুরে দাঁড়ানোর চেয়ে ভালো কিছু আর হয় না। আমার মনে হয়, আমরা ভালো একটি ম্যাচ খেলেছি। আমরা ছন্দ খুঁজে পেয়েছি এবং এভাবেই আমাদের খেলে যেতে হবে।’ এর আগে লেভান্তেকে ২-০ গোলে হারিয়েছে অ্যাথলেটিকো মাদ্রিদ। ভিয়ারিয়াকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়েছে এস্পানিওল। জয় পেয়েছে রায়ো ভায়োকানো ও রিয়াল বেতিসও।
অন্যদিকে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে গোল খেয়েছে ম্যানচেস্টার সিটি। নিজেদের ঘরের মাঠ ইতিহাদে ব্রাইটনের বিপক্ষে ১-০ গোলে হেরে গেছে আর্লি হালান্ডরা। চেলসির বিপক্ষে ১০ জনের ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড হেরেছে ২-০ ব্যবধানে। ক্রিস্টাল প্যালেসকে হারিয়েছে টটেনহাম। লিডসকে ২-০ ব্যবধানে হারিয়েছে বোর্নমাউথ।
সময়ের আলো/প্রিন্ট/এমকে