দুর্বাশুর আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয় অ্যান্ড কলেজগোপালগঞ্জে মুকসুদপুর উপজেলার দুর্বাশুর আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয় অ্যান্ড কলেজ। শিক্ষক আছেন ১৪ জন। আর কলেজ থেকে এ বছর মাত্র ১ জন শিক্ষার্থী এবার এইচএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন। কিন্তু সেই শিক্ষার্থীও ফেল করেছেন।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) প্রকাশিত এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে ঢাকা বোর্ডে শূন্য পাসের তালিকায় উঠেছে কলেজটি।
কলেজ সূত্রে জানা যায়, ২৫-২৬ সেশনে ১ জন শিক্ষার্থী ভর্তি করা হলেও এবার এইচএসসি পরীক্ষায় মাত্র ১ জন অংশগ্রহণ করেছিলেন। প্রকাশিত ফলাফলে দেখা গেছে, সেই শিক্ষার্থীও ফেল করেছেন। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা গেছে।
ওই গ্রামের বলরাম ওঝা, নির্মল বিশ্বাস, শুভেন্দু সরকার বলন, প্রতিষ্ঠানটির এমন করুণ অবস্থার জন্য পরিচালনা পর্ষদ ও প্রতিষ্ঠান প্রধানসহ শিক্ষকরা দায়ী। এখানে শিক্ষার্থীরা ভর্তি হতে চায় না। কারণ এ প্রতিষ্ঠানে শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ নেই। এভাবে কোন প্রতিষ্ঠান চলতে পারে না। তাই কলেজ শাখা বন্ধ করে দেওয়াই ভালো।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, দুর্বাশুর আদর্শ স্কুল আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয় অ্যান্ড কলেজে ১৯৮৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। স্কুলের ১৪ জন শিক্ষকই এমপিওভুক্ত হয়েছেন। নিয়মিত বেতন ভাতা পান। পরে ২০০৯ সালে কলেজ শাখা চালু করা হয়। কলেজটিতে বিজ্ঞান, মানবিক ও বাণিজ্য বিভাগে স্কুলের ১৪ জন শিক্ষক দিয়ে কলেজের শিক্ষার্থীদের পাঠদান করিয়ে আসছেন। এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় শুধু মাত্র মানবিক বিভাগ থেকে একজন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন।
বাকি ২ বিভাগে কোনো শিক্ষার্থী ভর্তি ছিল না।
প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ স্বর্ণা রানী বিশ্বাস বলেন, কলেজটি গ্রাম এলাকায় হওয়ায় ছাত্র তেমন পাওয়া যায় না। এজন্য শিক্ষকরাও কলেজে আসেন না। শিক্ষার্থী ভর্তির ব্যাপারেও তাদের কোনো উৎসাহ নেই। তিনি চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন জানিয়ে বলেন, প্রতিবছর নিজের পকেট থেকে টাকা খরচ করছি। কিন্তু ভালো কিছু হচ্ছে না ।
প্রতিষ্ঠাতা পরিতোষ সরকার জানান, কলেজ শাখার অনুমোদন নেওয়ার সময় শিক্ষক ছিল। পরে এমপিওভুক্ত না হতে পেরে অনেকে চলে গেছেন। কলেজ শাখায় ভালো কিছু হচ্ছে না। এখানে শিক্ষক ও শিক্ষার্থী সংকট রয়েছে। তাই এটা বন্ধ হয়ে গেলেই ভালো হয় ।
সভাপতি পরিমল কীর্তন বলেন, আমি এক সপ্তাহ হলো সভাপতির চিঠি পেয়েছি। এখনো আমি প্রতিষ্ঠানে গিয়ে মিটিং করতে পারিনি। এসব বিষয়ে আমার কিছু জানা নাই।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মাহফুজা বেগম বলেন, আমাদের দায়িত্ব স্কুল পর্যায়ে দেখাশোনা করা। এটা আমাদের দায়িত্ব না, তবে কলেজ বিভাগ দেখাশোনা করেন ঢাকা অঞ্চলের একজন পরিচালক, তারা ভালো বলতে পারবেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদ আশিক কবির বলেন, প্রতিষ্ঠানটি থেকে মাত্র একজন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে অকৃতকার্য হওয়ার বিষয়টি জেনেছি। এটি তদন্ত করে দেখা হবে।
সময়ের আলো/এনএন