যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের ফেয়ারবার্নে ফুলটন কাউন্টি ইলেকশন হাব অ্যান্ড অপারেশন সেন্টারে মধ্যবর্তী নির্বাচনের ভোট গণনার সময় ব্যালট পর্যালোচনা করছেন ডেমোক্রেটিক ও রিপাবলিকান দলের পর্যবেক্ষকেরা। ছবি : রয়টার্স যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তার রিপাবলিকান পার্টির প্রতি ভোটারদের সমর্থনে বড় ধরনের পতনের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, অর্থনৈতিক পরিস্থিতির অবনতি এবং সরকারের দুর্নীতি নিয়ে অসন্তোষের কারণে ভোটারদের একটি বড় অংশ ট্রাম্পের নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। একই সঙ্গে ২০২৪ সালের নির্বাচনে ট্রাম্পের জয়ের পেছনে ভূমিকা রাখা গুরুত্বপূর্ণ ভোটারগোষ্ঠীর সমর্থনেও ভাটা দেখা গেছে।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভোট দেন নাগরিকেরা। এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে নির্ধারিত হবে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মেয়াদের শেষ দুই বছর কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভোটারদের মনোভাব নিয়ে এসএসআরএস পরিচালিত বুথফেরত জরিপে দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে ব্যাপক অসন্তোষের চিত্র উঠে এসেছে। জরিপে অংশ নেওয়া বিপুলসংখ্যক ভোটার জানিয়েছেন, দুই বছর আগের তুলনায় তাদের আর্থিক অবস্থা খারাপ হয়েছে। প্রায় ৯০ শতাংশ ভোটার বলেছেন, জীবনযাত্রার ব্যয় তাদের ভোট দেওয়ার সিদ্ধান্তে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলেছে।
ট্রাম্প ক্ষমতা গ্রহণের সময় দ্রুত মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তবে জরিপে অধিকাংশ ভোটার মনে করেন, ইরান যুদ্ধ ও বিদেশি পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপসহ তার সরকারের বিভিন্ন নীতি দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও খারাপ করেছে।
জরিপে প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ ভোটার নিত্যপণ্যের উচ্চমূল্যের জন্য ট্রাম্পকে দায়ী করেছেন। এ ছাড়া দেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে তিন-চতুর্থাংশ ভোটার ক্ষুব্ধ অথবা অসন্তুষ্ট বলে জানিয়েছেন। সরকারের দুর্নীতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অনেকে।
রিপাবলিকান প্রার্থীদের পক্ষে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ১৯টি অঙ্গরাজ্যে নির্বাচনী প্রচারে অংশ নিয়েছিলেন ট্রাম্প। তবে বুথফেরত জরিপের প্রাথমিক ফল বলছে, তার এই প্রচার ভোটারদের মধ্যে জনপ্রিয়তা বাড়াতে খুব একটা কাজে আসেনি।
ট্রাম্পের ভোটব্যাংকে ভাঙনের ইঙ্গিত
২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ট্রাম্পের জয়ের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা বিভিন্ন ভোটারগোষ্ঠীর মধ্যেও এবার রিপাবলিকানদের সমর্থন কমেছে। প্রাথমিক বুথফেরত জরিপে কৃষ্ণাঙ্গ পুরুষ, লাতিনো, তরুণ, ধর্মপ্রাণ খ্রিষ্টান এবং কলেজ ডিগ্রিবিহীন ভোটারদের মধ্যে রিপাবলিকানদের জনপ্রিয়তা কমার চিত্র পাওয়া গেছে।
১৮ থেকে ২৯ বছর বয়সী ভোটারদের মধ্যে রিপাবলিকানদের সমর্থন ২০২৪ সালের ৪০ শতাংশের বেশি থেকে কমে এবার ২৫ শতাংশে নেমেছে। হিস্পানিক ভোটারদের মধ্যে এই সমর্থন প্রায় অর্ধেক থেকে কমে এক-তৃতীয়াংশে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে কৃষ্ণাঙ্গ পুরুষদের মধ্যে রিপাবলিকানদের প্রতি সমর্থন ২১ শতাংশ থেকে কমে ১৩ শতাংশ হয়েছে।
জরিপের এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে ২০২৪ সালের নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী কমলা হ্যারিসকে সমর্থন করা ভোটারদের এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনে অংশগ্রহণের অনুপাত আগের তুলনায় বেশি হতে পারে।
তবে রিপাবলিকানদের জন্য কিছুটা স্বস্তির জায়গাও রয়েছে। ৬৫ বছরের বেশি বয়সী ভোটারদের মধ্যে দলটির সামান্য এগিয়ে থাকার পাশাপাশি এই বয়সী ভোটারদের অংশগ্রহণও বেড়েছে।
এদিকে শ্বেতাঙ্গ ধর্মান্তরিত ও ইভানজেলিক্যাল খ্রিষ্টান ভোটারদের মধ্যেও রিপাবলিকানদের প্রতি আগের মতো আগ্রহ দেখা যায়নি। এবারের নির্বাচনে এই ভোটারগোষ্ঠীর মধ্যে রিপাবলিকানদের সমর্থন চার গুণেরও বেশি থাকলেও ভোটারদের মধ্যে তাঁদের উপস্থিতি কমেছে। ২০২৪ সালে মোট ভোটারের প্রায় এক-চতুর্থাংশ ছিলেন তারা। এবার তা কমে ১৭ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।
প্রাথমিক জরিপের এসব তথ্য ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে রিপাবলিকান পার্টির জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে ২০২৪ সালে ট্রাম্পের পক্ষে থাকা ভোটারগোষ্ঠীগুলোর সমর্থন পুনরুদ্ধার করাই দলটির জন্য বড় পরীক্ষা হয়ে উঠতে পারে।
সময়ের আলো/ইউএমএইচ