প্রকাশ: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ১১:৩২ পিএম
সংগৃহীত ছবিদেশে ভ্যাট নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বাড়লেও সেই অনুপাতে বাড়ছে না রাজস্ব আদায়। নিবন্ধিত প্রায় ৮ লাখ ৩০ হাজার প্রতিষ্ঠানের মধ্যে জুলাই মাসে ভ্যাট রিটার্নে কর প্রদর্শন করেছে মাত্র ৮৮ হাজার ৪৮৭টি। বাকি প্রতিষ্ঠানগুলোর বড় অংশ রিটার্ন জমা দেয়নি অথবা শূন্য রিটার্ন দিয়ে দায় সেরেছে। ফলে ভ্যাট নিবন্ধনের বিপরীতে প্রকৃত রাজস্ব আদায় নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) ভ্যাট নিরীক্ষা, গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতরের এক পর্যালোচনায় এ চিত্র উঠে এসেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী জুলাইয়ে দেশে মোট ৮ লাখ ৩০ হাজার ২৩২টি নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৭ লাখ ৪১ হাজার ৭৪৫টি কোনো ভ্যাট দেখায়নি। যা মোট প্রতিষ্ঠানের ৮৯ দশমিক ৩৪ শতাংশ।
এর মধ্যে ৫ লাখ ৬৮ হাজার ৩৭৪টি প্রতিষ্ঠান কোনো রিটার্নই জমা দেয়নি। অন্যদিকে রিটার্ন জমা দেওয়া ২ লাখ ৬১ হাজার ৮৫৮টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩৭১টি শূন্য রিটার্ন দিয়েছে।
রাজস্ব আদায়েও রয়েছে বড় ধরনের বৈষম্য। জুলাইয়ে মোট ৩ হাজার ২৬৬ কোটি টাকার বেশি ভ্যাট আদায় হয়েছে। এর মধ্যে মাত্র ৩৩৭টি প্রতিষ্ঠান দিয়েছে ২ হাজার ৬৩৫ কোটি টাকা, যা মোট আদায়ের প্রায় ৮০ দশমিক ৬৭ শতাংশ।
বৃহৎ করদাতা ইউনিটের (এলটিইউ-ভ্যাট) ১১১টি নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ২৪টি জুলাইয়ে রিটার্ন জমা দেয়নি। ঢাকা দক্ষিণ ভ্যাট কমিশনারেটে নিবন্ধিত ১ লাখ ৪৬ হাজার ৪৩৫টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রিটার্ন দিয়েছে মাত্র ৩৫ হাজার ৮০৫টি। ঢাকা পশ্চিমে রিটার্নদাতাদের প্রায় ৭০ শতাংশ শূন্য রিটার্ন দিয়েছে।
কক্সবাজারেও একই চিত্র। সেখানে ১২ হাজার ৩৩৫টি নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠান থেকে জুলাইয়ে ভ্যাট এসেছে মাত্র ৭ কোটি টাকার কিছু বেশি। রাজশাহী, রংপুর ও যশোরেও শূন্য রিটার্নের হার ৬৮ থেকে ৭৩ শতাংশ। এ পরিস্থিতিতে নিষ্ক্রিয় প্রতিষ্ঠান চিহ্নিত করা এবং ভ্যাট নিবন্ধনের কার্যকারিতা যাচাইয়ের প্রয়োজনীয়তার কথা জানিয়েছে ভ্যাট গোয়েন্দা অধিদফতর।
এ বিষয়ে অধিদফতরের মহাপরিচালক মুহম্মদ জাকির হোসেন এনবিআর চেয়ারম্যানকে চিঠি দিয়েছেন।
এদিকে চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে এনবিআরের রাজস্ব ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৪১ হাজার ৮৭৯ কোটি টাকা। এর মধ্যে ভ্যাট আদায়েই ঘাটতি ২০ হাজার ৫৭ কোটি টাকা।
সময়ের আলো/কেএইচও