সংগৃহীত ছবিজাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় ৫৮ হাজার ৮৮ কোটি ৯২ লাখ টাকা ব্যয়ে ১৩টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে ১১টি নতুন এবং দুটি সংশোধিত প্রকল্প। এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন থেকে ৫০ হাজার ৪১ কোটি ২০ লাখ টাকা, প্রকল্প ঋণ থেকে ৭ হাজার ৯৭৪ কোটি ৬৫ লাখ টাকা এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন থেকে ৭৩ কোটি ৭ লাখ টাকা ব্যয় করা হবে। বুধবার বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় এসব প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়।
অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের পাঁচটি, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দুটি এবং প্রতিরক্ষা, গৃহায়ন ও গণপূর্ত, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, শিক্ষা, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের একটি করে প্রকল্প রয়েছে।
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের পাঁচটি প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে— বরেন্দ্র অঞ্চলে নিরাপদ পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন প্রকল্প, বরিশাল সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন খাল পুনরুদ্ধার ও পুনর্খনন এবং খালের পাড় সংরক্ষণ প্রকল্পের প্রথম পর্ব, ইনোভেশন ফর ক্লাইমেট স্মার্ট আরবান ডেভেলপমেন্ট প্রকল্প এবং সামাজিক অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প (এসআইডিপি)। এ ছাড়া অগ্রাধিকার ভিত্তিতে গুরুত্বপূর্ণ পল্লী অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প-০৩-এর তৃতীয় সংশোধনী অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দুটি প্রকল্পের আওতায় বাংলাদেশ পুলিশের সক্ষমতা বাড়াতে বিশেষায়িত এবং অপারেশনাল যানবাহন কেনা হবে। পুলিশের কার্যক্রম পরিচালনা ও বিশেষায়িত দায়িত্ব পালনে এসব যানবাহন ব্যবহারের কথা রয়েছে।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের আওতায় ঢাকা সেনানিবাসের মঈনুল রোড আবাসিক এলাকায় ‘বি’ টাইপ অফিসার্স বাসস্থান নির্মাণ প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে। অন্যদিকে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের আওতায় রাজধানীর জিগাতলার গাবতলা কলোনিতে সরকারি কর্মচারীদের জন্য বহুতল আবাসিক ভবন নির্মাণ করা হবে।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের একটি প্রকল্পের আওতায় দেশের পাঁচটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ক্যাম্পাসে ইনস্টিটিউট অব নিউক্লিয়ার মেডিসিন অ্যান্ড অ্যালায়েড সায়েন্সেস (ইনমাস) স্থাপন করা হবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পঞ্চম প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি (পিইডিপি-৫) প্রকল্পও অনুমোদন পেয়েছে।
জ্বালানি খাতের উন্নয়নে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীনে তিতাস গ্যাসক্ষেত্রে দুটি মূল্যায়ন-কাম-উন্নয়ন কূপ খননের প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। তিতাস-৩২ ও তিতাস-৩৩ নামের কূপ দুটি খননের মাধ্যমে গ্যাসক্ষেত্রটির উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।
এ ছাড়া দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের গ্রামীণ রাস্তায় ১৫ মিটার দৈর্ঘ্য পর্যন্ত সেতু ও কালভার্ট নির্মাণ প্রকল্পের তৃতীয় সংশোধনী অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং সড়ক যোগাযোগ সচল রাখার ক্ষেত্রে এ প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
৫০ কোটি টাকার কম ব্যয়ের আরও পাঁচ প্রকল্প
এদিকে পরিকল্পনামন্ত্রীর মাধ্যমে ইতিমধ্যে অনুমোদিত ৫০ কোটি টাকার কম ব্যয়ের পাঁচটি প্রকল্প সম্পর্কেও একনেক সভায় অবহিত করা হয়েছে।
প্রকল্পগুলো হলো— দিনাজপুর জিয়া হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতাল ও রিসার্চ ইনস্টিটিউটের হৃদরোগ চিকিৎসাসেবার আধুনিকায়ন, দেশের শিশু-কিশোরসহ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ ইন্টারনেট ব্যবহার নিশ্চিতকরণ, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকায় ট্রাফিক অবকাঠামো উন্নয়নসহ সড়ক নিরাপত্তা প্রকল্পের প্রথম সংশোধনী, ঢাকা কেন্দ্রীয় মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্র সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়ন প্রকল্পের প্রথম সংশোধনী এবং গাজীপুর সিটি করপোরেশনের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা উন্নয়নে আধুনিক যান ও যন্ত্রপাতি সংগ্রহ।
একনেক সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, ডাক, টেলিযোগাযোগ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ, স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, সড়ক পরিবহন ও সেতু এবং রেলপথমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এবং পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সভায় অংশ নেন।
সময়ের আলো/কেএইচও