প্রকাশ: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ১১:৩৯ পিএম
সংগৃহীত ছবিদেশে ডলারের চাহিদা ও সরবরাহের ব্যবধান বাড়তে থাকায় আবারও অস্থির হয়ে উঠছে বৈদেশিক মুদ্রাবাজার। বিশেষ করে জ্বালানি আমদানিতে ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় ডলারের ওপর চাপ তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে বিনিময় হারে। একই সঙ্গে থেমে গেছে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধির গতিও।
সর্বশেষ মঙ্গলবার আন্তঃব্যাংক বাজারে প্রতি ডলারের বিনিময় হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২৪ টাকা ৩৫ পয়সায়। অন্যদিকে গত দুই দিনে কয়েকটি ব্যাংক প্রবাসীদের কাছ থেকে সর্বোচ্চ ১২৪ টাকা ৭০ পয়সা দরে রেমিট্যান্স সংগ্রহ করেছে।
বাজারে ডলারের সরবরাহ বাড়াতে মঙ্গলবার ১০ কোটি ডলার বিক্রির নিলাম আয়োজনের উদ্যোগ নেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে দরপ্রস্তাব সংগ্রহের পর শেষ মুহূর্তে তা বাতিল করা হয়। তবে নিলাম বাতিলের কারণ সম্পর্কে ব্যাংকগুলোকে স্পষ্ট কিছু জানানো হয়নি।
ব্যাংকারদের ভাষ্য, আন্তর্জাতিক বাজারে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) দাম বৃদ্ধি এবং জ্বালানি আমদানির ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় ডলারের চাহিদা বাড়ছে। বিপরীতে রফতানি আয়, প্রবাসী আয় ও বিদেশি ঋণের অর্থ ছাড় প্রত্যাশা অনুযায়ী না বাড়ায় সরবরাহে ঘাটতি তৈরি হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী চলতি অর্থবছরের জুলাই-অক্টোবরে দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ১ হাজার ১৪৬ কোটি ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৩ শতাংশ বেশি। একই সময়ে রফতানি আয় বেড়ে ৬ শতাংশ বৃদ্ধিতে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৭০৪ কোটি ডলার।
তবে আমদানি ব্যয় বৃদ্ধির হার তুলনামূলক বেশি। জুলাই-আগস্টে আমদানি ব্যয় ১২ দশমিক ১০ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ১ হাজার ২২০ কোটি ডলার। এ সময়ে পেট্রোলিয়াম আমদানিতে ব্যয় প্রায় দ্বিগুণ হয়ে দাঁড়িয়েছে ২৪৯ কোটি ডলার।
এদিকে মঙ্গলবার দেশের গ্রস রিজার্ভ ছিল ৩৬ দশমিক ৪৩ বিলিয়ন ডলার। আইএমএফের বিপিএম৬ পদ্ধতিতে হিসাব করা রিজার্ভের পরিমাণ ৩১ দশমিক ৫৬ বিলিয়ন ডলার।
বিশ্লেষকদের মতে, ডলারের বাজারে স্থিতিশীলতা ফেরাতে আমদানি ব্যয় নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি রফতানি আয় ও বৈদেশিক মুদ্রার সরবরাহ বাড়ানোর কার্যকর উদ্যোগ জরুরি।
সময়ের আলো/কেএইচও