পটুয়াখালী জেলা ঠিকাদার কল্যাণ সমিতি। ছবি : সময়ের আলো সরকারি উন্নয়নকাজের দরপত্রে মালামালের মূল্য বর্তমান বাজারদরের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নির্ধারণের দাবিতে পটুয়াখালীতে আত্মপ্রকাশ করেছে ‘পটুয়াখালী জেলা ঠিকাদার কল্যাণ সমিতি’। ঠিকাদারদের পেশাগত স্বার্থ সংরক্ষণ ও ন্যায্য দাবি আদায়ের লক্ষ্যে অরাজনৈতিক এ সংগঠন গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বুধবার (৪ নভেম্বর) বিকেলে পটুয়াখালী প্রেসক্লাব মিলনায়তনে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় নিজেদের বিভিন্ন সমস্যা ও দাবি তুলে ধরেন জেলার বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানে তালিকাভুক্ত ঠিকাদাররা।
‘করব কাজ, গড়ব দেশ—সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগান সামনে রেখে ঠিকাদারদের পক্ষে বক্তব্য দেন মেসার্স আরিক কনস্ট্রাকশনের স্বত্বাধিকারী মশিউর রহমান মিলন।
মতবিনিময় সভায় ঠিকাদাররা অভিযোগ করেন, তারা পটুয়াখালী জেলার স্থায়ী বাসিন্দা। বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানে নিয়ম অনুযায়ী তালিকাভুক্ত হয়ে এবং প্রতিবছর নির্ধারিত ফি পরিশোধ করে দীর্ঘদিন ধরে ঠিকাদারি ব্যবসা পরিচালনা করছেন। তবে বিগত সরকারের আমলে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের দরপত্রে অংশ নেওয়ার সুযোগ থেকে তাঁরা বঞ্চিত হয়েছেন।
তাদের অভিযোগ, সরকার পরিবর্তন হলেও সরকারি উন্নয়নকাজের দরপত্রে মালামালের যে মূল্য নির্ধারণ করা হচ্ছে, তা বর্তমান বাজারদরের তুলনায় অনেক কম। ফলে নির্ধারিত দরে কাজ করতে গিয়ে ঠিকাদারদের নিজস্ব অর্থ থেকে অতিরিক্ত ব্যয় বহন করতে হচ্ছে। এতে সাধারণ ঠিকাদাররা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন এবং ব্যবসা পরিচালনা কঠিন হয়ে উঠছে।
ঠিকাদাররা আরও বলেন, ঠিকাদারি ব্যবসাই তাদের একমাত্র আয়ের উৎস। এই ব্যবসার ওপর নির্ভর করে স্ত্রী, সন্তান ও বাবা-মাসহ পরিবারের সদস্যদের ভরণপোষণ করতে হয়। তাই বর্তমান বাজারদরের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সরকারি কাজের দর পুনর্নির্ধারণ করা না হলে তারা আরও আর্থিক সংকটে পড়বেন। এতে ব্যবসা পরিচালনার পাশাপাশি পরিবার-পরিজন নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হবে।
সভায় ঠিকাদাররা জানান, গত ১৭ অক্টোবর স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের উপসচিব মো. জিয়াউর রহমান স্বাক্ষরিত একটি চিঠি জারি করা হয়। ওই চিঠিতে পাবলিক প্রকিউরমেন্ট (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৬-এর আওতায় বিধিমালা প্রণয়ন সম্পন্ন এবং নতুন রেট সিডিউল প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত রাষ্ট্রীয় জরুরি বিষয় ছাড়া সব ধরনের কার্য, সেবা ও পণ্য সরবরাহসংক্রান্ত দরপত্র ও ক্রয়প্রক্রিয়া স্থগিত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়।
তবে ওই নির্দেশনা উপেক্ষা করে পটুয়াখালী এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী ১৪টি রক্ষণাবেক্ষণ কাজের দরপত্র আহ্বান করেছেন বলে অভিযোগ করেন ঠিকাদাররা। এসব দরপত্র সংশোধন করে পুনরায় আহ্বান না করা হলে সমমনা কোনো ঠিকাদার তাতে অংশ নেবেন না বলেও হুঁশিয়ারি দেন তাঁরা।
সভা থেকে বর্তমান বাজারদরের ভিত্তিতে সরকারি উন্নয়নকাজের দর পুনর্নির্ধারণ এবং সাধারণ ঠিকাদারদের পেশাগত ও আর্থিক স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।
এ সময় ঠিকাদার শিপলু খান, মোহন, বাবু, আল-আমিনসহ জেলার বিভিন্ন পর্যায়ের ঠিকাদাররা উপস্থিত ছিলেন।
সময়ের আলো/জোই