এনামুল হক। ছবি : সংগৃহীতচুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় চতুর্থ শ্রেণির এক ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে গ্রেফতার বন্দরভিটা আল-হেলাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক এনামুল হককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনার তদন্তে পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করেছে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস। কমিটিকে আগামী পাঁচ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
বুধবার (৪ নভেম্বর) চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার অহীন্দ্র কুমার মণ্ডল স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়।
অফিস আদেশে বলা হয়, গত ৩ নভেম্বর আলমডাঙ্গা থানা পুলিশ অভিযুক্ত শিক্ষক এনামুল হককে গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করে। এ ঘটনায় উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে সরকারি চাকরিবিধি অনুযায়ী বি.এস.আর পার্ট-১-এর ৭৩ নম্বর বিধির নোট (২) অনুসারে গ্রেফতারের দিন থেকেই তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
এর আগে গত ২ নভেম্বর বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির ১২ বছর বয়সী এক ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে শিক্ষক এনামুল হককে অবরুদ্ধ করেন ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ও অভিভাবকেরা। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে শিক্ষককে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
ভুক্তভোগী ছাত্রীর বাবা ইজাজুল হকের দায়ের করা এজাহার সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত শিক্ষক বিভিন্ন সময়ে বিদ্যালয়ে যাতায়াতের পথে ওই ছাত্রীকে অশালীন কথাবার্তা ও কুপ্রস্তাব দিতেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, গত ৫ অক্টোবর দুপুরে বিদ্যালয়ের কার্যক্রম চলাকালে শিক্ষক এনামুল হক ওই ছাত্রীকে ডেকে বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় তলার উত্তর পাশের বাথরুমের সামনে নিয়ে যান। সেখানে তাকে জাপটে ধরে শরীরের স্পর্শকাতর স্থানে হাত দেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ সময় ছাত্রীর চিৎকার শুনে আশপাশের শিক্ষার্থীরা এগিয়ে এলে শিক্ষক তাকে ছেড়ে পালিয়ে যান।
পরে সহপাঠীদের মাধ্যমে বিষয়টি জানাজানি হয়। গত ২ নভেম্বর সকালে ছাত্রীটি পরিবারের কাছে ঘটনার কথা জানায়। এরপর এলাকায় ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় লোকজন ও অভিভাবকেরা বিদ্যালয়ে গিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষককে একটি কক্ষে আটকে রাখেন।
অভিযুক্ত এনামুল হক (৪৫) আলমডাঙ্গা উপজেলার বড় গাংনী মাস্টারপাড়া গ্রামের মনছুর আলীর ছেলে। তিনি বন্দরভিটা আল-হেলাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
আলমডাঙ্গা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোহা. আলাউদ্দিন জানান, তদন্ত কমিটিতে উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বখতিয়ার উদ্দিন, মোহাম্মদ শাহজাহান রেজা ও মোহাম্মদ সেলিম রেজাকে রাখা হয়েছে। এ ছাড়া বগাদি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জিন্নাত আরা এবং গৌরীহৃদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রোকসানা পারভিন কমিটির সদস্য হিসেবে রয়েছেন। কমিটিকে পাঁচ দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আলমডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রাকিবুল ইসলাম জানান, ভুক্তভোগী ছাত্রীর বাবা বাদী হয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন। অভিযোগটি নিয়মিত মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়েছে। অভিযুক্ত শিক্ষককে গ্রেফতারের পর আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
সময়ের আলো/জোই