মিরপুরের পোশাক কারখানায় সংঘাত থামলেও আতঙ্ক

সালাহ উদ্দিন চৌধুরী

জাতীয়

পোশাকশ্রমিকদের বিক্ষোভ ও সহিংসতার ঘটনায় রাজধানীসহ আশপাশের শিল্পাঞ্চলে তৈরি হয়েছে অস্থিরতা। ন্যূনতম ৩০ হাজার টাকা মজুরির দাবিতে শ্রমিকদের আন্দোলন, সংঘর্ষ

2026-11-06T06:37:48+00:00
2026-11-06T06:37:48+00:00
 
  শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬,
২২ কার্তিক ১৪৩৩
শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬
জাতীয়
মিরপুরের পোশাক কারখানায় সংঘাত থামলেও আতঙ্ক
সালাহ উদ্দিন চৌধুরী
প্রকাশ: শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৬, ৬:৩৭ এএম 
ছবি : সংগৃহীত
পোশাকশ্রমিকদের বিক্ষোভ ও সহিংসতার ঘটনায় রাজধানীসহ আশপাশের শিল্পাঞ্চলে তৈরি হয়েছে অস্থিরতা। ন্যূনতম ৩০ হাজার টাকা মজুরির দাবিতে শ্রমিকদের আন্দোলন, সংঘর্ষ ও কারখানায় হামলার ঘটনায় উদ্বেগ ছড়িয়েছে পোশাক শিল্পের মালিকদের মধ্যে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিপুলসংখ্যক সদস্য মোতায়েন করা হলেও কাটছে না সেই উদ্বেগ। রাজধানীর মিরপুরে গত দুদিন শ্রমিকদের বিক্ষোভ ঠেকানো সম্ভব হলেও স্বাভাবিক হয়নি কারখানার কার্যক্রম। নিরাপত্তার শঙ্কায় মিরপুরের প্রায় পোশাক কারখানার ফটকে ছুটির নোটিস ঝুলতে দেখা যায় বৃহস্পতিবার। ফলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান নিয়ন্ত্রণের মধ্যেও পোশাক শিল্পের কর্মপরিবেশে অনিশ্চয়তা কাটছে না।

গত কয়েক দিন ধরে রাজধানীসহ পার্শ্ববর্তী জেলাগুলোতে ন্যূনতম ৩০ হাজার টাকা বেতনের দাবিতে বিক্ষোভ করে আসছেন পোশাকশ্রমিকরা। রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ চলাকালে প্রতিপক্ষের হামলায় আহত হয়ে এক পোশাকশ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। পুলিশের গাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ সরকারের সর্বোচ্চ মহল থেকে বলা হয়েছে, পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা এসব সহিংসতা ঘটাচ্ছে। ইতিমধ্যে একাধিক গোয়েন্দা প্রতিবেদনে এসব নাশকতার পেছনে অর্থ জোগানদাতা হিসেবে ১৩৭ জনকে চিহ্নিত করা হয়েছে। তাদের মধ্যে বিদেশে পলাতক বেশ কয়েকজন আওয়ামী লীগ নেতা এবং ব্যবসায়ীও রয়েছেন।

গত রোববার থেকে সাভার, আশুলিয়া, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জের মতো রাজধানীর মিরপুরেও পোশাকশ্রমিকরা রাস্তা অবরোধ করে ব্যাপক বিক্ষোভ করেন। এ সময় পুলিশের সঙ্গে পোশাকশ্রমিকদের দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পোশাকশ্রমিকরা বিভিন্ন পোশাক কারখানা বন্ধ করতে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। এতে আতঙ্কিত হয়ে কারখানা বন্ধ করে দিতে বাধ্য হন মালিকরা।

তবে দেশের অন্যান্য স্থানে টানা চার দিন পোশাকশ্রমিকরা বিক্ষোভ, অগ্নিসংযোগ ও সড়ক অবরোধ করলেও রাজধানীর মিরপুরে গত দুদিন পোশাকশ্রমিকদের রাস্তায় নামতে দেয়নি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। 


গত বুধবারের মতো গতকাল বৃহস্পতিবারও মিরপুরে ব্যাপকসংখ্যক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতি লক্ষ করা গেছে। পুলিশের পাশাপাশি স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি), আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন), ডিএমপির গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি), কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) এবং অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যদের ব্যাপক উপস্থিতি দেখা গেছে। এ ছাড়া মিরপুরের বিভিন্ন সড়কে বিএনপির অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের মিছিল করতে দেখা যায়।

গত দুদিন মিরপুরে পোশাকশ্রমিকদের বিক্ষোভ করতে দেখা যায়নি। তবে কোনো পোশাক কারখানায় কাজও হয়নি। ‘চলমান সার্বিক পরিস্থিতি ও সকলের সার্বিক নিরাপত্তা’র কথা উল্লেখ করে বৃহস্পতিবার সাধারণ ছুটি ঘোষণার নোটিস ঝুলছিল সব কারখানার ফটকে।

মিরপুর-১, মিরপুর-১০, মিরপুর-১১, মিরপুর-১৪, পল্লবী ও রাইনখোলা ঘুরে এমন চিত্র দেখা যায়।

এসব এলাকায় ১৫টি পোশাক কারখানার নিরাপত্তা-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলনের সময় তারা শ্রমিকদের ছুটি দিয়ে দেন। কোনো কোনো কারখানায় আবার শ্রমিকরা হাজিরা দিয়ে কারখানা থেকে বের হয়ে যান। অল্প কিছু কারখানায় হামলা ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটলেও তার মাত্রা ছিল সামান্য।
তবে মিরপুর-১ নম্বরের রাইনখোলায় ১২ তলা একটি ভবনের সপ্তম ও অষ্টম তলায় অবস্থিত একটি পোশাক কারখানায় গত রোববার পোশাকশ্রমিকরা ইট ছুড়লে বাইরের কাচের দেয়াল ক্ষতিগ্রস্ত হয় বলে জানান সেখানকার নিরাপত্তা কর্মী সাদেক মিয়া।

মিরপুর-১১ নম্বরে সনোটেক্স অ্যাপারেলস লিমিটেডের প্রধান ফটকের সামনে কয়েকজনকে বসে থাকতে দেখা যায়। নিজেদের কারখানাটির নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে তারা বলেন, পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলনের প্রথম দিন কারখানর ভেতর কিছু ভাঙচুর চালানো হয়। পরে দ্রুত কারখানার শ্রমিকদের ছুটি দিয়ে দেওয়া হয়। এরপর থেকে কারখানা বন্ধ আছে। কবে নাগাদ খুলবে— এমন প্রশ্নের উত্তরে তারা জানান, পরিস্থিতি বুঝে পরে সিদ্ধান্ত নেবে কর্তৃপক্ষ। মিরপুরে গত বুধবার থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ব্যাপকসংখ্যক সদস্য উপস্থিত থাকার পরও কেন কারখানা খুলছেন না— এমন প্রশ্নের উত্তরে তারা জানান, কারখানার মালিকরা কোনো ঝুঁকি নিতে চান না। হয়তো এ কারণেই কারখানা আপাতত বন্ধ রেখেছেন।

মিরপুর-১১-তে ৭ নম্বর সেকশনে কনকর্ড গার্মেন্টসের সিকিউরিটি অফিসার মঞ্জুরুল আলম জানান, গত বুধবার শ্রমিকরা কারখানায় এলেও তারা হাজিরার জন্য কার্ড পাঞ্চ করে চলে যান। এরপর বুধবারই কারখানা বন্ধের নোটিস দেওয়া হয়।
ইপিলিয়ন গার্মেন্টসের নিরাপত্তা কর্মী সাফায়াত জানান, তাদের কারখানা বৃহস্পতিবার বন্ধ দেওয়া হয়েছে। কবে নাগাদ খুলবে সে বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না বলে জানান। এ সময় পোশাক কারখানাটির কর্মকর্তাদের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে চাইলেও ভেতরে প্রবেশের অনুমতি নেই বলে জানান তিনি।

কনকর্ড গার্মেন্টসের সিকিউরিটি কর্মকর্তা আবু সুফিয়ান বলেন, বুধবার তাদের কারখানা খোলা ছিল। কিন্তু সকাল সাড়ে ৯টার দিকে হাজারখানেক পোশাকশ্রমিক এখানে আসতে শুরু করলে দ্রুত কারখানাটি থেকে শ্রমিকদের বের করে দেওয়া হয়। এরপর থেকে কারখানা বৃহস্পতিবার বন্ধ ঘোষণা করে নোটিস টাঙিয়ে দেওয়া হয়েছে।

মিরপুরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কয়েক হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়েন আছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) যুগ্ম পুলিশ কমিশনার (ভারপ্রাপ্ত) ক্রাইম প্রিভেনশন উত্তর মো. মহিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, বুধবারের মতো গতকাল বৃহস্পতিবারও শ্রমিকদের সড়কে নামার সুযোগ দেওয়া হয়নি।


সময়ের আলো/প্রিন্ট/এমকে
  বিষয়:   মিরপুর  পোশাক কারখানা  সংঘাত  আতঙ্ক 


Advertisement
Loading...
Loading...
জাতীয়- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: