বিচ্ছিন্ন উদ্যোগে বাড়ছে সংক্রমণ, চাই বছরব্যাপী প্রস্তুতি

সম্পাদকীয়

মতামত

ডেঙ্গু এখন আর শুধু বর্ষাকালের রোগ নয়। জলবায়ু পরিবর্তন, অপরিকল্পিত নগরায়ণ এবং মশার বংশবিস্তারের অনুকূল পরিবেশের কারণে এ রোগের সংক্রমণ

2026-11-06T06:40:40+00:00
2026-11-06T06:41:06+00:00
 
  শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬,
২২ কার্তিক ১৪৩৩
শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬
মতামত
বদলে গেছে ডেঙ্গুর মৌসুম
বিচ্ছিন্ন উদ্যোগে বাড়ছে সংক্রমণ, চাই বছরব্যাপী প্রস্তুতি
সম্পাদকীয়
প্রকাশ: শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৬, ৬:৪০ এএম  আপডেট: ০৬.১১.২০২৬ ৬:৪১ এএম
গ্রাফিক : সময়ের আলো
ডেঙ্গু এখন আর শুধু বর্ষাকালের রোগ নয়। জলবায়ু পরিবর্তন, অপরিকল্পিত নগরায়ণ এবং মশার বংশবিস্তারের অনুকূল পরিবেশের কারণে এ রোগের সংক্রমণ দীর্ঘস্থায়ী হচ্ছে। একসময় ডেঙ্গুর প্রকোপ মূলত ঢাকা শহরকেন্দ্রিক থাকলেও এখন দেশের প্রায় সব জেলাতেই এ রোগ ছড়িয়ে পড়েছে। অথচ ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে আমাদের প্রস্তুতি এখনও মৌসুমনির্ভর। বর্ষা এলে তৎপরতা বাড়ে, পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলে সেই উদ্যোগে ভাটা পড়ে। এই বিচ্ছিন্ন কার্যক্রমের ফল কী হচ্ছে, চলতি বছরের ডেঙ্গু পরিস্থিতিই তার প্রমাণ।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) সাম্প্রতিক জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক চিত্র। সংস্থাটির ৭৫টি ওয়ার্ডের মধ্যে ২৯টিই ডেঙ্গুর অধিক ঝুঁকিতে রয়েছে। ৫৭টি ওয়ার্ডে মশার ঘনত্ব নির্ধারিত মাত্রা ছাড়িয়েছে। বহুতল ভবন থেকে শুরু করে একক বাড়ি, নির্মাণাধীন ভবন ও খালি প্লট সব জায়াগায় মিলেছে মশার প্রজননস্থল। ডেঙ্গুর ঝুঁকি শুধু বস্তি বা অপরিচ্ছন্ন এলাকায় সীমাবদ্ধ নয়; অভিজাত আবাসিক এলাকাও এর বাইরে নয়।

চলতি বছর ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর ডেঙ্গু রোগে মারা গেছেন ৪৫২ জন। চলতি বছর ১ লাখ ৪৪ হাজার ৩৭১ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, ডিসেম্বরের আগে পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হওয়ার সম্ভাবনা কম। হাসপাতালগুলোতে রোগীর চাপ বাড়ছে। চিকিৎসার পেছনে নাগরিকদের বাড়তি খরচ করতে হচ্ছে। উচ্চ মূল্যস্ফীতির সময়ে এই খরচ অনেক পরিবারের জন্য বড় বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে।


প্রশ্ন হচ্ছে, এত বছর ধরে ডেঙ্গুর প্রকোপ চলার পরও কেন এর বিরুদ্ধে কার্যকর নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা গড়ে তোলা গেল না? ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন গত ১১ বছরে মশা নিয়ন্ত্রণে ৮২৫ কোটি টাকা ব্যয় করেছে বলে জানা যায়। অথচ প্রতি বছরই ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ছে। শুধু ওষুধ ছিটানো কিংবা ফগিং করে মশা নিয়ন্ত্রণ করা যায় না। কোথায় মশা জন্ম নিচ্ছে, কোন এলাকায় লার্ভার ঘনত্ব বেশি এবং কোন ধরনের পরিবেশে মশার বংশবিস্তার হচ্ছে, তা নিয়মিত জরিপের মাধ্যমে শনাক্ত করতে হবে। সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে। কীটনাশক ব্যবহারের কার্যকারিতাও নিয়মিত পরীক্ষা করা জরুরি। একই ওষুধ বারবার ব্যবহার করলে মশার প্রতিরোধক্ষমতা তৈরি হতে পারে। তাই বিজ্ঞানভিত্তিক পদ্ধতি ছাড়া কাঁড়ি কাঁড়ি টাকা খরচ করেও কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যাবে না।

পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম, বর্জ্য অপসারণ, নালা-নর্দমা পরিষ্কার এবং মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে সিটি করপোরেশনকে নিয়মিত কাজ করতে হবে। শুধু নগর কর্তৃপক্ষের একার পক্ষে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার বিভাগ, জেলা প্রশাসন ও স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে কার্যকর সমন্বয় থাকতে হবে। ঢাকার বাইরে অনেক এলাকায় মশা নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ দুর্বল। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালেও ডেঙ্গু চিকিৎসার পর্যাপ্ত প্রস্তুতি নেই। ফলে গুরুতর রোগীদের ঢাকামুখী হতে হচ্ছে। এই পরিস্থিতির পরিবর্তন জরুরি। প্রতিটি জেলা ও উপজেলা হাসপাতালে ডেঙ্গু শনাক্তকরণ, প্রয়োজনীয় পরীক্ষা, প্রশিক্ষিত চিকিৎসক এবং পর্যাপ্ত শয্যার ব্যবস্থা রাখতে হবে। ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার কারণ চিহ্নিত করে আগের ভুল থেকে শিক্ষা নিতে হবে। নাগরিকের জীবন রক্ষার দায়িত্ব রাষ্ট্রের। ডেঙ্গু প্রতিরোধকে জাতীয় জনস্বাস্থ্য কর্মসূচির স্থায়ী অংশ করতে হবে। এই কাজে কোন সংস্থা কী কাজ করবে, তার সুনির্দিষ্ট দায়িত্ব ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।

পাশাপাশি নাগরিকদেরও দায়িত্বশীল হতে হবে। একই সঙ্গে নিজ নিজ ক্ষেত্রে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। বাড়ির ছাদ, বারান্দা, ফুলের টব, পরিত্যক্ত পাত্র, বালতি কিংবা নির্মাণাধীন ভবনে জমে থাকা পানিতে এডিস মশা জন্মাতে পারে। সপ্তাহে অন্তত এক দিন এসব জায়গা পরিষ্কার করা প্রয়োজন। ডেঙ্গুর উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার বিষয়েও নাগরিকদের সচেতন করতে হবে।


সময়ের আলো/প্রিন্ট/এমকে
  বিষয়:   বিচ্ছিন্ন  উদ্যোগ  সংক্রমণ  বছরব্যাপী প্রস্তুতি 


Advertisement
Loading...
Loading...
মতামত- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: