প্রকাশ: শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৬, ৯:২৩ এএম
বিশ্বব্যাংক ও পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল। ছবি : সময়ের আলোপঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় পরিবেশবান্ধব পর্যটন বিকাশে ইকো-সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশনের (ইএসডিও) নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের প্রশংসা করেছে বিশ্বব্যাংক ও পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনের (পিকেএসএফ) উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল। পরিদর্শনকালে স্থানীয় ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে এসব কার্যক্রমের ভূমিকারও প্রশংসা করেন তারা।
সম্প্রতি তেঁতুলিয়ায় ইএসডিও বাস্তবায়িত ‘স্মার্ট ইএসডিও ইকো ট্যুরিজম’ উপ-প্রকল্পের চলমান কার্যক্রম পরিদর্শন করেন প্রতিনিধিদলের সদস্যরা। বিশ্বব্যাংক ও পিকেএসএফের আর্থিক সহযোগিতায় ‘সাসটেইনেবল মাইক্রোএন্টারপ্রাইজ অ্যান্ড রেজিলিয়েন্ট ট্রান্সফরমেশন’ (স্মার্ট) প্রকল্পের আওতায় এসব কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
পরিদর্শনকারী প্রতিনিধিদলে ছিলেন বিশ্বব্যাংকের সিনিয়র জলবায়ু পরিবর্তন বিশেষজ্ঞ কেইসুকে ইয়াদোমি, সামাজিক উন্নয়ন ও জেন্ডারবিষয়ক বিশেষজ্ঞ সামিরা চৌধুরী, সিনিয়র সামাজিক উন্নয়ন বিশেষজ্ঞ মো. শরীফুল ইসলাম এবং পরিবেশ বিশেষজ্ঞ শার্লিন হোসেন। পিকেএসএফের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন সহকারী মহাব্যবস্থাপক (সিইআরডি) ও স্মার্ট প্রকল্পের সমন্বয়কারী এ কে এম জহিরুল হক এবং উপ-প্রকল্প সমন্বয়কারী মো. রওশন হাবিব।
পরিদর্শনের সময় প্রতিনিধিদল তেঁতুলিয়ার বিভিন্ন এলাকায় প্রকল্পের আওতায় গড়ে ওঠা পর্যটন উদ্যোগগুলো ঘুরে দেখেন। এর মধ্যে রয়েছে হোমস্টে সার্ভিস, হস্তশিল্প বিক্রয়কেন্দ্র, কটেজ টি উৎপাদন, পরিবেশবান্ধব রিসোর্ট, ঘোড়ার গাড়ি, সাইক্লিং ও কায়াকিং।
এ সময় প্রকল্পের আওতাভুক্ত ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময় করেন প্রতিনিধিরা। তাদের ব্যবসায়িক পরিকল্পনা, আয় বৃদ্ধির সম্ভাবনা এবং পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রেখে পর্যটনসেবা আরও আকর্ষণীয় করার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়।
প্রকল্পের অগ্রগতিতে সন্তোষ প্রকাশ করে প্রতিনিধিদলের সদস্যরা বলেন, সীমিত সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার এবং উৎপাদন প্রক্রিয়ায় অপচয় কমিয়ে পরিচ্ছন্ন পর্যটনব্যবস্থা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে এ প্রকল্প একটি অনন্য উদাহরণ। এ ধরনের উদ্যোগ টেকসই পর্যটন বিকাশের পাশাপাশি স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সক্ষমতা বাড়াতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
ইএসডিও কর্তৃপক্ষ জানায়, স্মার্ট ইএসডিও ইকো ট্যুরিজম উপ-প্রকল্পের মূল লক্ষ্য পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের উৎপাদনশীলতা বাড়ানো। পাশাপাশি তাদের উৎপাদিত পণ্য ও সেবা প্রতিযোগিতামূলক বাজারে পৌঁছে দেওয়ার সুযোগ তৈরি করা।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা আশা করছেন, বিশ্বব্যাংক ও পিকেএসএফের উচ্চপর্যায়ের এ পরিদর্শনের ফলে প্রকল্পের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন আরও গতিশীল হবে। একই সঙ্গে তেঁতুলিয়ার পর্যটন সম্ভাবনা আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে আরও পরিচিতি পাবে।
সময়ের আলো/জোই