স্কুল ফিডিংয়ের পাউরুটিতে ব্লেড। ছবি : সময়ের আলোপঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে স্কুল ফিডিং কর্মসূচির আওতায় বিতরণ করা পাউরুটির ভেতরে ধারালো ব্লেড পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দুপুরে উপজেলার দণ্ডপাল ইউনিয়নের প্রধানাবাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর পাউরুটিতে ব্লেডটি পাওয়া যায়। এ ঘটনায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা।
বিদ্যালয় ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে প্রথম শিফটের ছুটির পর শিশু শ্রেণির শিক্ষার্থী মিম আক্তার স্কুল ফিডিংয়ের পাউরুটি নিয়ে বাড়ি যায়। পরে পাউরুটি খেতে গিয়ে সেটির ভেতরে একটি ধারালো ব্লেড দেখতে পায় সে। বিষয়টি জানার পর শিশুটির পরিবারের সদস্যরা পাউরুটিসহ বিদ্যালয়ে উপস্থিত হন। পরে বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক বরুণ রায় পাউরুটিটি নিয়ে দেবীগঞ্জ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ে যান।
সহকারী শিক্ষক বরুণ রায় বলেন, মিম আক্তার নামে এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক পাউরুটিতে ব্লেড পাওয়ার অভিযোগ নিয়ে বিদ্যালয়ে আসেন। বিষয়টি শিক্ষা কর্মকর্তাকে জানানো হলে তিনি পাউরুটিটি নিয়ে কার্যালয়ে যেতে বলেন। পরে সেটি শিক্ষা কার্যালয়ে জমা দেওয়া হয়। তবে অন্য শিক্ষার্থীদের প্যাকেটে এ ধরনের কোনো বস্তু পাওয়া যায়নি।
এদিকে, পাউরুটির ভেতরে ব্লেড পাওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগ তৈরি হয়। শিশুদের জন্য সরবরাহ করা খাবারের মান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সচেতন মহল।
বিষয়টির বক্তব্য জানতে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুফিয়া বেগমের মোবাইল ফোনে সাংবাদিকরা একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ফোন রিসিভ না করায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিদ্যালয়ের দুই শিক্ষক ঘটনাটিকে সন্দেহজনক বলে দাবি করেছেন। তাদের ভাষ্য, বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি গঠন নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরে জটিলতা চলছে। সম্প্রতি বিদ্যালয়ের এক শিক্ষককে লাঞ্ছিত করার ঘটনাও স্থানীয়ভাবে মীমাংসা করা হয়। এসব ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে তাদের ধারণা, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকদের বিব্রত করতে পরিকল্পিতভাবে পাউরুটির মধ্যে ব্লেড রাখা হয়ে থাকতে পারে।
ওই দুই শিক্ষকের দাবি, সাধারণত শিশুরা পাউরুটি একদিক থেকে ছিঁড়ে খায়। মাঝবরাবর দুই ভাগ করলেও ছেঁড়া অংশ এবড়োখেবড়ো হওয়ার কথা। কিন্তু এ ঘটনায় পাউরুটির ছেঁড়া অংশ তুলনামূলক মসৃণ ছিল বলে তাদের সন্দেহ।
দেবীগঞ্জ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আজমল হোসেন বলেন, খবর পাওয়ার পর পাউরুটিটি সংগ্রহ করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে বিস্তারিত তিনি বলতে পারবেন।
অন্যদিকে, পঞ্চগড়ে পাউরুটি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ইএসডিওর স্কুল ফিডিং প্রকল্পের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আকলিমা খাতুন ঘটনাটিকে সাজানো বলে দাবি করেছেন। তিনি বলেন, এটা একটা সাজানো ঘটনা। এখন অভিযোগকারী অভিভাবক আপস করতে চাইছেন।
দেবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইন্দ্রজিত সাহা বলেন, এ ঘটনায় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শিশুদের জন্য পরিচালিত স্কুল ফিডিং কর্মসূচির খাবারে কীভাবে এমন একটি বিপজ্জনক বস্তু পাওয়া গেল, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন স্থানীয়রা।
সময়ের আলো/জোই