প্রকাশ: শনিবার, ৭ নভেম্বর, ২০২৬, ৭:৪১ পিএম আপডেট: ০৭.১১.২০২৬ ৭:৪৪ পিএম
ওয়েস্ট নাইল ভাইরাসের কোনো টিকা আবিষ্কৃত হয়নি । আক্রান্ত ব্যক্তিদের প্রায় ৮০ শতাংশের শরীরে কোনো উপসর্গ দেখা যায় না । ছবি : সংগৃহীত ইউরোপজুড়ে মশাবাহিত ওয়েস্ট নাইল ভাইরাসের সংক্রমণ উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। চলতি মৌসুমে মহাদেশজুড়ে এ ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা ২ হাজার ছাড়িয়েছে। এ সময়ে ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হয়ে ১৩০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। সংক্রমণ ও মৃত্যুর এই সংখ্যা জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
আনাদোলু এজেন্সির এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইউরোপের প্রায় ২০টি দেশ ও ২৩৪টি অঞ্চলে ওয়েস্ট নাইল ভাইরাসের সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আক্রান্তের খবর পাওয়া গেছে ইতালিতে। দেশটিতে ৭৮০ জনের শরীরে ভাইরাসটি শনাক্ত হয়েছে।
ওয়েস্ট নাইল ভাইরাস মূলত সংক্রমিত মশার কামড়ের মাধ্যমে মানুষের শরীরে ছড়ায়। কিউলেক্স প্রজাতির মশা এ ভাইরাসের প্রধান বাহক। মানুষের জন্য এখন পর্যন্ত এ ভাইরাসের কোনো টিকা আবিষ্কৃত হয়নি। তাই মশার কামড় থেকে সুরক্ষিত থাকতে প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।
ভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের প্রায় ৮০ শতাংশের শরীরে কোনো উপসর্গ দেখা যায় না। তবে প্রায় ২০ শতাংশের ক্ষেত্রে জ্বর, ক্লান্তি, বমি বমি ভাব, বমি, মাথাব্যথা ও পেশিতে ব্যথার মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে।
ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার পর সাধারণত দুই থেকে ১৪ দিনের মধ্যে উপসর্গ প্রকাশ পায়। তবে রোগ প্রতিরোধক্ষমতা দুর্বল ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এই সময়সীমা বেড়ে ২১ দিন পর্যন্ত হতে পারে। ভাইরাসটির উৎপত্তি আফ্রিকায়। পরবর্তী সময়ে এটি ইউরোপের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়ে।
এদিকে, আক্রান্তের সংখ্যায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে গ্রিস। দেশটিতে ৪৬৩ জন আক্রান্ত হয়েছেন। এছাড়া ফ্রান্সে ১৮০ জনের শরীরে ভাইরাসটির সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে।
নেদারল্যান্ডসে ওয়েস্ট নাইল ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে চলতি বছর ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। দেশটিতে এ পর্যন্ত ৭৭ জনের শরীরে ভাইরাসটির সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে বলে দেশটির জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশবিষয়ক জাতীয় ইনস্টিটিউট (আরআইভিএম) নিশ্চিত করেছে।
সময়ের আলো/এসকে