কারও জ্বর হলে আমরা নরম কাপড় বা রুমাল ভিজিয়ে শরীরে স্পঞ্জ করাই। জ্বর কমাতে এর অবশ্য যথেষ্ট উপকারিতা রয়েছে। কিন্তু এ স্পঞ্জ করার কিছু নিয়ম আছে। যেমন:
স্পঞ্জ করার সময় ঘরের দরজা-জানালা খোলা রাখুন। হালকাভাবে ফ্যান ছেড়ে দিতে পারেন।
বয়স্কদের বেলায় নরমাল পানিতে নরম কাপড়, তোয়ালে বা রুমাল ভিজিয়ে চিপে কিছুটা পানি ফেলে সেই ভেজা কাপড় দিয়ে পুরো দেহ বিশেষ করে কপাল, পিঠ, বুক, ভাঁজযুক্ত স্থানগুলো বা কুঁচকি, হাত ও পায়ের পাতা মুছতে থাকুন। এরপর সঙ্গে সঙ্গে শুকনো কাপড় দিয়ে মুছে নিন। এভাবে একটানা কয়েকবার আলতোভাবে মুছে দিলে শরীরের তাপমাত্রা কমে যায়। তবে পানি ব্যবহার করুন স্বাভাবিক তাপমাত্রার, বরফ বা ঠান্ডা পানি নয়।
শিশুদের বেলায় ওই একই পদ্ধতিতে পুরো শরীর বা শরীরের ভাঁজগুলো স্পঞ্জ করুন। তবে তাদের বেলায় স্বাভাবিক পানি নয়, উষ্ণ গরম পানিতে কাপড় ভিজিয়ে নিন। আইস প্যাক, ঠান্ডা পানি বা অ্যালকোহল ব্যবহার কখনও নয়। এতে পরবর্তী সময়ে জ্বর বেড়ে যেতে পারে। ৯০ থেকে ৯৫ ডিগ্রি ফারেনহাইট তাপমাত্রার পানি দিয়ে ২০-৩০ মিনিটের মতো স্পঞ্জ করুন। কাঁপুনি শুরু হলে সঙ্গে সঙ্গে বন্ধ করে দিন।
১০২ ডিগ্রির বেশি জ্বর হলেই শিশুকে স্পঞ্জ করানো শুরু করে দ্রুত জ্বর কমিয়ে আনার চেষ্টা করুন। নচেৎ জ্বরের মাত্রা বেড়ে গিয়ে বড় ধরনের ক্ষতি হতে পারে।
জ্বর হলেই মাথায় ঠান্ডা পানি ঢালবেন না। তবে বেশি মাত্রার জ্বর হলে মাথায় পানি ঢালতে থাকুন যতক্ষণ না দেহের তাপমাত্রা কমে। দিনে ২-৩ বারের বেশি পানি না ঢালাই উচিত।
লেখক : শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ