
নগরীর আন্দরকিল্লায় পুরনো নগর ভবনটি ভেঙে ফেলা হবে। এ জন্য চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নিলাম দরপত্র আহবান করেছে। ৬০টি দরপত্র বিক্রি হয়েছে রোববার শেষসময় পর্যন্ত। সোমবার দরপত্র জমা দিয়েছে নিলামে অংশ নেওয়া প্রতিষ্ঠানসমূহ। তা খোলা হবে আজ মঙ্গলবার। আগামী ১৫ দিনের মধ্যে ভাঙার কার্যাদেশ দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে করপোরেশনের প্রকৌশল বিভাগ। এটি ভাঙার পর চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন পরিচালিত হবে অস্থায়ী ঠিকানায়।
এবিএম মহিউদ্দীন চৌধুরী তার ১৭ বছরের কার্যকালের শেষ সময়ে এসে শতাব্দী প্রাচীন ইট সুড়কির দোতলা ভবনটি ভেঙে ফেলেন। সেখানে নতুন বহুতল ভবন নির্মাণকাজের উদ্বোধনও করা হয়। কার্যাদেশ দেওয়া হয় এজে কনস্ট্রাকশন নামের একটি প্রতিষ্ঠানকে। তারা পাইলিং কাজ শুরুও করেছিল। কিন্তু একসময় থমকে যায় কাজ। পরের নির্বাচনে এম মনজুর আলম মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর নতুন করে পাইলিং কাজ শুরু হয়। পেমেন্ট সিডিউল নিয়ে জটিলতায় তাও বন্ধ হয়ে যায়। তারপর আ জ ম নাছির মেয়র হলেন। তার মেয়াদও প্রায় শেষের দিকে। এখন পাশে ছয় তলা ভবনটিও ভেঙে পুরো জায়গায় ২৩ তলা আইকনিক ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়েছেন তিনি। এ লক্ষ্যে ২২৯ কোটি ৪৪ লাখ ৮৫ হাজার টাকার একটি প্রকল্প উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এটি এখন প্রি-একনেকে প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে।
সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন আশা প্রকাশ করেছেন নতুন নগর ভবনটি হবে একটি আইকনিক ভবন। তিনি জানান, প্রকল্পটি এর আগে প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির সভায় অনুমোদন পেলেও কিছু অবজারভেশন দেওয়া হয়েছিল। সে অনুযায়ী আমরা ডিপিপি সংশোধন করে পাঠিয়েছি। তা অনুমোদিত হওয়ার পরপরই কাজ শুরু হয়ে যাবে।
বিদ্যমান ভবনটিও ভেঙে ফেলে নতুন বহুতল ভবন নির্মাণের লক্ষ্যে সিটি করপোরেশন কার্যালয় গত জুন মাসে অস্থায়ীভাবে স্থানান্তর করা হয় টাইগারপাসে। সেখানে পাহাড়ের পাদদেশে বস্তিবাসীর জন্য নির্মিত ফ্ল্যাটবøকে মেয়রের দফতরসহ অধিকাংশ বিভাগ নিয়ে যাওয়া হয়। এখন করপোরেশনের সব বিভাগ সেই অস্থায়ী ঠিকানাতেই যাবে।
এম মনজুর আলম মেয়র থাকাকালীন বস্তিবাসীর জন্য সাশ্রয়ী মূল্যে এই ফ্ল্যাট বøক নির্মাণ করা হয়েছিল। বর্তমান মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন এই কনসেপ্টের বিরোধী। তার মতে নগরীতে লাখ লাখ বস্তিবাসী। প্রতিদিন বাইরের জেলা থেকে লোকজন এসে তৈরি করছে নতুন নতুন বস্তি। হাতেগোনা কয়েকজনকে ফ্ল্যাট দিয়ে সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। করপোরেশনের জায়গা এভাবে ব্যবহার করাটা উচিত হয়নি। এখন নতুন নগর ভবন নির্মাণ হওয়া পর্যন্ত অস্থায়ী কার্যালয়ে কতদিন স্থায়ী হতে হয় সেটাই ভাবিয়ে তুলেছে সবাইকে।
এ নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে সাবেক মেয়র এম মনজুর আলম বলেন, এটা চট্টগ্রামবাসীর দুর্ভাগ্য যে আমাদের একটা নগর ভবন নেই। ১৮৫৬ সালে পৌরসভা ভবন হিসেবে নির্মিত ভবনটি মহিউদ্দীন চৌধুরীর সময় ভাঙা হয়। এখন ১৯৬৬ সালে নির্মিত অপর ভবনটিও ভেঙে ফেলার পর স্থায়ী ঠিকানা বলতে আর কিছু থাকছে না।
বস্তিবাসীর জন্য ফ্ল্যাট নির্মাণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ২০০৭ সালে পাহাড় ধসে চট্টগ্রামে ১৩০ জন মানুষ মারা যাওয়ার পর মূলত যারা পাহাড়ের পাদদেশে বসবাস করে তাদের রক্ষায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল। পরে আমি মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর তা বাস্তবায়ন করি।