কবিতা

আলোর রেখা

দ্বিতীয় গন্তব্য নেইমুহম্মদ নূরুল হুদাবাসনার পাল তুলে বাসন্তী হারায়।কোথায় হারাবে তুমি, হারাবে কোথায়?তিন ভুবনের দূরতম কোন ঘরে,কোন চরাচরে?শাদা-কালো-বিবরের এই তেপান্তরেহাজার

2019-10-11T00:00:00+00:00
2019-10-13T11:23:00+00:00
 
  মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬,
২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬
আলোর রেখা
কবিতা
প্রকাশ: শুক্রবার, ১১ অক্টোবর, ২০১৯, ১২:০০ এএম  আপডেট: ১৩.১০.২০১৯ ১১:২৩ এএম  (ভিজিট : ১৭৭৬)


দ্বিতীয় গন্তব্য নেই
মুহম্মদ নূরুল হুদা

বাসনার পাল তুলে বাসন্তী হারায়।
কোথায় হারাবে তুমি, হারাবে কোথায়?
তিন ভুবনের দূরতম কোন ঘরে,
কোন চরাচরে?

শাদা-কালো-বিবরের এই তেপান্তরে
হাজার হাজার কোটি মুহম্মদ নূরুল হুদার বুক
তোমাকেই চোখে চোখে ধরে;
কোথায় হারাতে চাও, হারাবে কোথায়?

নীলিমায় নিদ্রাহীন প্রতিটি নক্ষত্রে
বসিয়েছি অতন্দ্র ক্যামেরা; তারা
তোমার চলনভঙ্গি চুলচেরা
পিকোসেকেÐের ক্লিকে করছে ধারণ;
আমাকে অগ্রাহ্য করো, কেন অকারণ?
আমার গন্তব্য তুমি, তোমার গন্তব্য আমি:
দ্বিতীয় গন্তব্য কোনো সেহেতু বারণ।

হারামে হারিনি আমি, তুমিই হালাল:
তোমার হালাল আমি, সাক্ষী মহাকাল।


এই কবিতাটি আমি লিখছি স্বপ্নের ভিতরে

আসাদ মান্নান

আমার দুয়ারে আহা! কবিতাকে বহুদিন ধরে
দাঁড়াতে দেখিনি; প্রচন্ড খরার মধ্যে ফেটে আছে
সৃজনের মাটি- এর আগে এতটা নির্মম
আর অনুর্বর সময়ের মুখোমুখি কখনও হইনি;
এটা ঠিক খাঁটি কথা : দুর্বিষহ দুঃসময়ে কবি
চোখে দেখে অন্ধকার; কখনও বা অনেক সময়
কবিতা কবির সঙ্গে খেলে কানামাছিÑ অন্তরঙ্গে
পরকীয়া ডাক পেয়ে চলে যায় অন্য কারও ঘরে;
নতুনের স্বাদ নিতে কে না চায়! দুঃসময় যাকে
রোজ সূর্যাস্তের রঙে রঙে সাজিয়ে সন্ধ্যার হাটে
বিক্রি করে অতি সস্তা দামে; কবিতা কী করে তাকে
শর্তহীন ভালোবেসে যাবে! শর্ত দিয়ে ভালোবেসে
এ জগতে কে কাকে পেয়েছে? যে ভালোবাসায় থাকে
শর্ত আর স্বার্থ শুধু তা আসলে ভালোবাসা নয়;
কেউ তো এমন নেই শক্তিমান! যে কি না সক্ষম
কাম ক্রোধ ঈর্ষা লোভ পায়ে দলে কঠোর প্রত্যয়ে
সভ্যতাকে বুকে নিয়ে রক্ষা করে মানবসম্ভ্রম!
যে কি না মহৎ গুণে গুণান্বিত হয়? যার নামে
অমর কবিতা লিখে কবি পায় মহা অমরতা!

অনেক কবিতা ঘুমে কাল রাতে হঠাৎ আমাকে
কাম জ্বরে জর্জরিত রমণীর তীব্র বাসনায়
খামছে ধরে; রাতভর আমি উপদ্রæত অনিদ্রায়
শূন্যতার খাটে শুয়ে আধা ঘুমে আধা জাগরণে
কাটালাম একটা অস্থির আর উত্তপ্ত প্রহর;
স্বপ্নের নদীতে নেমে কত রাত সাঁতার কাটিনি!

বোধ
শারমিন সুলতানা রীনা

তোমাকে হারাতে পারিনি
হেরেছি নিজেই বারবার
চোখের তারায় এক ঘাতক প্রহরী
বেঁধে রাখো অষ্টপ্রহর।
পালাতে চাইনি স্বেচ্ছায় বরণ বন্দিজীবন
শুকিয়ে যাওয়া অভিমানী ফুলের বিলাস
স্মৃতির সিন্দুক খুলে নিভৃতে
নির্মাণ করি দীর্ঘ প্রেক্ষাপট
দিন রাত্রির গল্প
আলো আঁধারের খেলায়
জিতেন্দ্রিয় জোনাকি আলো
নিভে গেলে যুবতী রোদের প্রতাপ
ধীমালয়ে আসে বিনাশী তিমির
রাত জাগা পাখি নির্ঘুম বিলাসিতায়
আমারও থাকে না ক্লান্তি
নিঠুর নিয়মে বদলে যায় পৃথিবী
আমার কেবল বদল নেই
অসীম শূন্যতায় নিঃসঙ্গ সন্ধ্যার মতো।

কবিতার মুখ
শাহীন রেজা

খাটো হয়ে গেছে পথ।
কাশের দেহের পাশে যেন মায়াবতী ঘাস দুলছে বাতাসে।
অথচ এই পথ হতে পারতো দীর্ঘ অনেক
ঠিক মিসিসিপি নদীটার মতো,
যেতে যেতে সাপ হয়ে দিনগুলো ঢুকে যেতো রাতের ডেরায়।
আগেভাগে পারে না কেউ বলে দিতে মেঘডাকা সকালের কথা,
গুমোট পৃথিবী জুড়ে জমা কতো বেদনার চিল,
কতটা খাটো হলে স্বপ্নেরা নতজানু
হতে হতে মিশে যায় ধুলোর আত্মায়!
ছোট হয়ে গেছে পথ; জীবনের মতো।
পথের বাঁকেই আঁকা কবিতার মুখ
সেই মুখে চিরকাল আমার অসুখ।


বিবর্তনের ধারায় আমি
শাহিদা ফেন্সী

কখনো কেউ ছিলনা আমার, আমি একাই ছিলাম। নবীন শৈশবে গুহা হতে গৃহপ্রবেশের কালে মাতৃগর্ভে ভ্রূণ হতে ভ‚মিষ্ঠের পরে একাই ছিলাম আমি, কেউ ছিলনা সাথে। সভ্যতার ক্রমবিকাশে হরপ্পা-মহেঞ্জোদারো হতে আমি একাই ছিলাম আমার স্বর্ণালী কৈশোরে। বৃত্ত ভেঙ্গে এলো ঝড় বিদ্যুৎ রেখায় ফালি ফালি আসমান কিলিমাঞ্জারো ফুজি ফুঁসে ফুলে উঠলে মানুষ বলিদানে উদ্যত, মাথানত তখনো আমি একাই, পূর্ণ যৌবনে। আদিপিতা যবে পুত্রহত্যায় বলিষ্ঠ (কিংবা) কুমারীর গর্ভে জন্মে স্রষ্টার সন্তান হেরা হতে ফেরে লয়ে বাণী আর হাজার দেবতার ঘরে জন্মে লক্ষ সন্তান, অহিংসার বাণী দিকে দিকে ছড়ায় যখন আমি একাই ছিলাম, সূর্য তখন মধ্যগগন। স্যাটেলাইট নিলো ঠাঁই তারার সনে আসমান ফুঁড়ে ছুটল যান মহাকাল পানে, সুমেরু হতে কুমেরু বাজে যুদ্ধের ডংকার ওঙ্কার মানুষরূপী ফণী তোলে উদ্ধত হুংকার, টুকরো টুকরো ভ‚মি, মানবতা ভেঙ্গে ছারখার কাঁদে আগামী নবীন প্রবীণ প্রাণ নারী শিশু বুদ্ধ নবী বিষ্ণু যীশু... জীবনের শেষ প্রাঙ্গণে আজো আমি একাই কেবল ছাড়েনি পিছু...


এখানে রাত নেমে এলে...
জোবায়ের মিলন

এখানে রাত নেমে এলে কেউ কাঁদে না
এখানে আঁধার খেকো প্রাণীর সংখ্যা অধিক-
এখানে গ্রহণ লাগলে করতালির শব্দ আসে ভেসে-
এখানে ভোরহীন দীর্ঘ সাপের শরীর ঘোরে
দেয়ালের কোণে কোণে-

এখানে বকুলহীন দিন- চৈত্রের দাবানল,
এখানে হলুদ পাতা স্ত‚প স্ত‚প
এখানে সম্পর্কহীন একক জীবন- বৈশাখী ঝড়।
এখানে আদিম সভ্যতা অনড়
এখানে উলঙ্গ রঙের টান টনটন
এখানে অন্ধ-মহিষে চালায় সবচেয়ে সুন্দর
দিনের জাহাজ,
অনাবৃত্ত সরোবর শিশ্ন তুলে নাচে-
ঝাড়বাতি ভরা মহলে।

এখানে রাত নেমে এলে কেউ কাঁদে না-
এখানে আঁধার খেকো প্রাণীর সংখ্যা অধিক-


বৈরী সময়ে

সৈয়দা সনিয়া আখতার অনন্যা

সূর্যাস্তের সময় তোমাকে মনে পড়লো,
যখন না আছে মনের গতি না আছে দেহের তেজ।
এই বৈরী সন্ধ্যায়,
শিষ নাগ হয়ে ফণা তুললে মনের কোণে, ভালই হলো।
সূর্যের আলো যেভাবে ধীরে ধীরে মিলিয়ে যাচ্ছে,
তেমনি মিলিয়ে যাচ্ছে আমার দেহ, আমার মন, মস্তিষ্ক।
অস্তমিত মন, অস্তমিত সূর্য, অস্তমিত দেহ,
এরপরও তুমি সেই তুমিই।
নীরব দীর্ঘশ্বাসে সাড়া দিয়ে যাও,
অস্তমিত ওই বৈরী সময়ে।
অস্তমিত মন, অস্তমিত সূর্য, অস্তমিত দেহ,
এরপরও তুমি সেই তুমিই।
নীরব দীর্ঘশ্বাসে সাড়া দিয়ে যাও
অস্তমিত ওই বৈরী সময়ে।


বিস্ময়ের দরজার সামনে দাঁড়িয়ে
আরিফ মঈনুদ্দীন

অনন্যতার সব সংজ্ঞাহীন করে দিয়ে
আমাকে ফিরিয়ে এনেছো
দাঁড় করিয়ে দিয়েছো তোমার অপার বিস্ময়ের দরজায়
একে একে পা ফেলে আমার সামনে উন্মোচিত হচ্ছে
একটি একটি করে রহস্যের দ্বার

কেবল তোমার বিস্ময়ের দরজায়
দণ্ডায়মান দারোয়ান নিবিড় লক্ষ্য ফেলে বলে যাচ্ছে কথা-
ওখানে ঢোকার অনুমতি দেওয়া হয় না- অনুমতি পেতে হয়
জীবন আচরি যাহার ভাগ্যের চাকায় উঠে আসবে গতি-
যা যা করার কথা তা তা করা হলে,
সস্নেহে ভালোবাসতে বাসতে
দরজা খুলে দেবেন প্রবল পরাক্রম নিয়তি

পূর্বাহ্ণেই দেখে নিতে হবে, কোথায়
কোন শিলালিপিতে কার তেমন চিঠি- প্রত্যাদেশ দৈববাণী
কোথায় বিস্ফারিত আনন্দের ঘোরে টালমাটাল দৃষ্টি
কোথায় কেমন করে এই সব স্থিতি
ছড়িয়ে আছে বিশ্বব্যাপী এই অপার বিস্তৃতি

সবটুকুই দেখা হয় বাকি থাকে আরো সব
তোমার আধারে জমা যে বিস্ময়
কী তার অনুভব, কী তার অনুভব!
এই কথা ভাবতে ভাবতে খুলে গেল
যত আছে আমার অর্গল সব
আমি একাগ্র একনিষ্ঠ, তোমার হাতে আমার বিশ্বাসের ভার
হৃদয়ের দরজা খুলে দেখি ঘুচে গেছে সব হাহাকার।


একটি জীবন

শিবলী মোকতাদির


বহনেÑ ভারের ব্যাখ্যায় কী মত পোষণ করো তুমি?
জানতে, সাধুসন্তের সান্নিধ্য ছেড়ে
ফাল্গুনী রাতের বিবিধ কোলাহল থেকে দূরে
স্তবকের মধ্যে স্তব্ধ হয়ে বসে আছি আমি;
একা, ধর্মীয় অবতার রূপে।

চারপাশে কত চিত্রিত তরল,
পক্ষে-বিপক্ষে বিবিধ টালবাহানার বরেন্দ্রভাষার উপকথা
তাদের রাগ ও রাগিণী, বাদ ও বাবরির হুংকারে
ধুলোর বিচিত্রা হয়ে আছে প্রভ‚ত অব্জল।

অথচ বাকলের মতো গাছের গরবিনী হয়ে আছো
কণার কলঙ্ক হয়ে ডুবে আছো পদার্থে তুমি।

আয়ুর মধ্যে আয়োজন করা প্রাণ,
পারদ-তুল্য প্রেমিকার অভিমান
শুরুর সূচিতে, সমাপ্তির বিস্তারে হয়ে আছো আচ্ছাদিত
অতীব কৌশলে, বহনবাগিচায় ভিন্ন ভারের মুকুলিত ডালে;
পাতায়, প্রথাগত মুচকি হাসির তলে...।


শুধুই শূন্যতা
রকিবুল হাসান

সরলা মাটির মতো ভেবেছি প্রতিমা
অথচ সে স্বর্গের সুন্দরী কতো সহজেই
কামনাপুতুল সামান্য স্বার্থেই
ভেতরে বাইরে সহস্র যোজন দূরপথ
নাগিণীর বিষের ছোবল
সুরেলা বাঁশিতে নীলবিষে কাব্যিক মরণ

কখন কীভাবে খরস্রোতা রূপ ভেঙে
লোভের জিহŸায় হারায় যৌবনা পবিত্রতা
তবুও পূজা চায় স্বর্গের দেবতী
নষ্ট গোলাপের পাপড়ি কে কবে নিয়েছে বুকে
ভালোবেসে ভোরের ভার্জিন রোদে
সরলা মাটিও পোড়েÑ ফেরে না যৌবন

কতোটা প্রখর লোভের চাহনি
কতো পথ দীর্ঘ- সাঁতরাবে কতো নদী
শরীরী সুরের বিষখেলা খেলে
কামরাঙা রাতের কবিতা
হারাবে লাবণ্য- মুছে যাবে যৌবনাঅক্ষর
কষ্টের কাফনে জড়াবে শুধুই শূন্যতায়


একদিন, সারাটি জীবন
মাহমুদ কামাল

এই যে একটি দিন পুরো দিন পুরো এক রাত
আমার শরীর মন সংবেদন প্রতি কোষে কোষে
আলোড়িত ঢেউ...
প্রাচুর্যের রোদমাখা আলো প্রথম প্রহরে
সবুজের চিহ্নগুলো আনন্দের ধ্বনি সাম্য হয়ে
সীমাহীন দ্যুতি...
এই যে সকালবেলা আহ্লাদি রোদের সাঁতার
সামান্য বাতাস ছিল অসামান্য ভোরের শরীরে
কারুকার্যময়...
এই যে দুপুরবেলা তেজদীপ্ত প্রতিটি প্রহর
মদমত্ত যৌবনের চলমান রক্তস্রোত নদী
স্বভাবপ্রেরণা...
বিকেলের শান্ত স্নিগ্ধ অপরূপ ফুলের মতোই
চলে গেল একটি বিকেল বিকেলের মতো
বেলাশেষে গান...
গোধূলি সন্ধ্যার আলো প্রস্ফুটিত প্রতিপদর্শিনী
ফ্রেমের ভেতর থেকে বের হয়ে অবিষাদ হাসি
পরমায়ুকাল...
অবশেষে রাত ঘন রাত রাতের প্রাচুর্য থেকে
দ্বিতীয় সত্তার মাঝে বয়ে যায় ঢেউ শুধু ঢেউ
আলো আলো আলো...
এই যে একটি দিন পুরো দিন পুরো এক রাত
পুরো এক জীবনের শুধুমাত্র একরাতদিন
একক জীবনে...


পাতাবাহার

টোকন ঠাকুর

কবিতা লেখামাত্রই আমি সেই কবিতার মা
কয়েকদিন পর, নতুন আরেকটি কবিতা লেখামাত্রই
আমি সেই আগের কবিতার খালা

তারপর আরো কবিতা লেখা হলে অনেক আগের কবিতাকে
          দূরের আত্মীয় মনে হয়
কবিতা যখন ছাপা হয়, অন্যেরা পাঠ করে
তখন তো সেই আগের কবিতা অনেকটা অচেনা হয়ে পড়ে

আমার পুরোনো কবিতাগুলো পড়তে গেলে মনে হয়
এরা সেই বাল্যবন্ধু, যাদের নামই প্রায় ভুলে গেছি
দেখলেও চিনতে কষ্ট হবে (কাউকে কাউকে তো চিনবই না)

তার মধ্যেও ঠিকই চিনে ফেলব, আমার কোন কবিতাটি খুব জেদি ছিল
কোন কবিতাটি সেই মেয়ে, ক্লাস নাইনে উঠেই যে-বিষ খেয়েছিল প্রেমে
         যে-কখনো দশম শ্রেণিতে উঠবে না আর

হয়তো সেই কামরাঙা কবিতাটির নাম ছিল পাতাবাহার


শূন্যবিন্দুতে আশ্রয়
ফরিদ আহমদ দুলাল

শূন্যবিন্দু দেখে অতঃপর দাঁড়ালাম তখন বিজয়ী ডিসেম্বর
শূন্যের ভিতর মহাশূন্য দেখি ঢাকা যদিও তোমার মোহন ছতর;
দৃশ্যের অধিক দেখে জানা হয় গোপন বিষাদ
আপন কষ্টের সাথে মিলিয়ে দেখার হলো স্বপ্নমগ্ন সাধ,
তুমিও জানালে সাড়া অতঃপর ক্রমাগত তাড়া
ডিজিটাল জানালায় মৃদু কড়া নাড়া,
বর্ষব্যাপী চলে কথা বিনিময়-আড়ালোন্মোচন;
শূন্যবিন্দুর স্বর্ণমন্দিরে দু’জনার প্রণয়-কথন।

নদীরা আকুল ছুটে যেমন সাগর মোহনায় ফিরে যায়
অতৃপ্ত সঙ্গম পূর্ণতায় স্নাত হতে পুনর্বার শূন্যবিন্দু ছুঁতে চায়;
শূন্যবিন্দু থেকে প্রশান্তির ঝর্নাধারা উৎসারিত
স্পর্শে ও চুম্বনে শূন্যবিন্দু- পথ হবে অবারিত।
মৃত্তিকা আমার শূন্যবিন্দু ভ‚মিতল
তার আলিঙ্গনে শূন্য এ জীবনে পাই পবিত্র স্পৃহার জল।


প্রতিবিম্ব
রেজাউদ্দিন স্টালিন

জীবন এক পুুড়ে যাওয়া প্রতিবিম্ব
আর মৃত্যু চা-পাতার ঘোড়া
টগবগ করছে দরোজার ডেকচিতে
প্রেমÑ এক প্রযুক্তি যা উৎপাদন করে অদৃশ্য জানালা
স্মৃতিÑ অদ্ভুত পাঠাগার যার বই পড়ে দীর্ঘশ^াস
স্বপ্ন- ফেলে আসা জাদুঘর যেখানে
হাওয়ার হামলায় লুকিয়ে থাকে বর্ষাতি
আশারাÑ ময়ূর পালকে স্থাপিত
আর্গাসের শত শত-চোখ
দুঃখÑ রেশমগুটির নিচে শুয়ে থাকা ব্যাঙের আর্তস্বর
সুখÑ কোন এক সম্রাটের শুঁড়হীন হাতি
অতীত- কেবলই স্মরণীয় স্বীকারোক্তি
আর এই বর্তমান এক রক্তের সরু-রেখা
যা’ আলাদা করে দেয় দিন রাত্রি
এবং ভবিষ্যৎ সেই চিঠি যা’
কখনো পৌঁছায় না প্রাপকের কাছে


উখিয়ার পথে
মাহফুজ রিপন

বৃষ্টির সাথে রোদ্দুর উঠলে মনশেয়াল নেচে ওঠে
জানালার পাশে সিট পেলে ব্রেনটা খুলতে থাকে।

গোড়ল বেগে রেল চলে মানু সারিন্দার সুর শোনো
একবার কল্পনায় এঁকে নাও নাফ নদীর সীমানা।

সাজেক ভ্যালির পাহাড় থেকে প্রেম পিয়াসী সুধা
সুর ছড়িয়ে পড়ছে সমতলে রাখাইন নারীর মায়া।

উখিয়ার পথে পথেÑ
    ফোঁটায় ফোঁটায়
    রক্ত জমাট!

মানু রক্তের দাগ মুছে ফেলো-

ভোরবেলা শিশুরা এপথে ফুল কুড়োতে আসবে।


অনুসন্ধানী চোখের প্রশ্ন
ফখরুল হাসান

হাঁকডাক নেই ফিসফিস ঠোঁটে তোমার অজস্র জিজ্ঞাসা!
লেপটানো কাজল চোখের ভাষা বুঝতে পেরেছি।
পৌষের শিশির ঝরা বিকালে চিরকুটে লিখেছিলে
ভালো থেকো। পুরো চিঠি পড়ার পর শূন্য দশমিক তাপমাত্রা
হয়ে গেছে হৃদয়।
সেই থেকে তিনশ’ পয়ষট্টি দিন শ্রাবণ সন্ধ্যা,
তবুও ভালো আছি, তোমার শেষ কথা রাখতে।
তোমার আঙিনায় সুখের ময়ূর নৃত্য হোক এই ভেবে।

কিন্তু...
এতটা বছর পর তোমাকে দেখে হতভম্ব
একি দেখলাম! শ্মশান ঘাটে ঘোর অমাবস্যার
মধ্যরাত্র দেখার মতোই।
উচ্চাভিলাষী জ্যোৎস্নারাতের আলো কোথায়?
রেশন কার্ড জীবন তোমার বড্ড বেমানান।

তুমি ভালো নেই জানলে পৃথিবী ভালো থাকে না
প্রেমের পৃথিবী ভালো রাখতে তুমি ভালো থেকো।

পারদশূন্য আয়না
শেলী সেনগুপ্তা

আয়নায় নিজেকে দেখতে চেয়েছি
মর্মভেদী দৃষ্টিতে!
কতবার নিতে চেয়েছি আত্মার ঘ্রাণ,
শুনেছি বর্ণশংকর মনের অক্ষম আর্তনাদ,
অচেতন হাতের ঘায়ে গড়িয়ে পড়া
গøাসের জল
আপন গতিতে বয়ে যায়-
পাশাপাশি হাঁটা অস্থির সময়ের মতো।
ভালো থাকার গাঁটবন্ধনে নেই
আত্মার সুবাস,
মনের কাছে আকণ্ঠ ঋণ!
চেয়ে আছি নির্বাক সম্পর্কের দিকে।
আজকাল আয়নাও পারদশূন্য!
খুঁজছি মর্মভেদী দৃষ্টি!


শূন্যের গুণন

কাজী হাসান ফিরোজ

মৈথুনে তৃপ্তি কতটুকু? তারচেয়ে
ঢের বেশি প্রস্তুতি পর্বে...
কামনার রঙে আছি নীল, দেয়ালের ওপাশে থাকুক যতই ভয়ংকর...

ভিতরেরি অদৃশ্য বায়বীয় মাদকতা টানে
বাইরের দৃশ্যমান তরল ও কঠিনেরে
শূন্যের গুণনের ফল শূন্যই হয়!

হিসাবের জানা যোগফল ভুল হয়ে যায়...
সময় গড়িয়ে যায় নিষ্ফলা
পরীক্ষক খাতা আর দেয় না ফিরিয়ে...!

আয়না সিরিজ-১
এনাম রাজু

একদিন প্রেমিকার চশমায় প্রবেশ করি,
ঢুকে পড়ি অজান্তে আয়নার শহরে
যেখানে মেঘ পৃথিবীর সবকিছুর ভাস্কর্য আঁকে
দিয়ে যায় মাছের আইসে মানচিত্রের দাপট...
যাযাবর মেঘেরাও কতোটা সৃজনশীল, কতোটা সভ্য!
এসব ভাবতেই অজান্তে চলে যাই মানবশহরে
ক্ষমতার তৃষ্ণা যেখানে তৈরি করেছে কুমারিআগুন।


স্বপ্নের ভেতর এত অন্ধকার

হুমায়ুন গালিব

হৃদয় জ্বলে হৃদয় নিভে
স্বপ্নের শহরে
বিশ্বাসে শহর গড়া
নিশ্বাসে ভাঙা
হৃদয় এখন
বিস্ফোরণে রক্তাক্ত রাঙা।




Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: