বিজয়ের কবিতা

আলোর রেখা

স্বাধীনতামুহম্মদ নূরুল হুদা কোটি কোটি বছর ধরে বস্তু ও অবস্তুর গর্ভজাতমহাকর্ষের মহাসাংঘর্ষিক মহামিলন থেকে সহজাতজন্ম-সৌভাগ্য যে জাতিবাঙালির, তারই দিগন্তবিস্তৃতপলিবাংলার প্রথম

2019-12-13T00:00:00+00:00
2019-12-13T00:00:00+00:00
 
  সোমবার, ৮ জুন ২০২৬,
২৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
সোমবার, ৮ জুন ২০২৬
আলোর রেখা
বিজয়ের কবিতা
প্রকাশ: শুক্রবার, ১৩ ডিসেম্বর, ২০১৯, ১২:০০ এএম   (ভিজিট : ৮৫১)
স্বাধীনতা
মুহম্মদ নূরুল হুদা

কোটি কোটি বছর ধরে বস্তু ও অবস্তুর গর্ভজাত
মহাকর্ষের মহাসাংঘর্ষিক মহামিলন থেকে সহজাত
জন্ম-সৌভাগ্য যে জাতিবাঙালির, তারই দিগন্তবিস্তৃত
পলিবাংলার প্রথম মুক্তপলিপুত্র তুমি,
হে আমার তামাটে পিতা।
তোমার শরীরে-মনে মিশে আছে
জগতের সব ধর্ম-কর্ম, সব গোত্রবর্ণ,
নন্দনবন্ধনের সব স্বর্ণাস্বর্ণ।
তুমি এই বঙ্গভূমি থেকে বিজয়সিংহের দিগন্তবিস্তারী সতৃষ্ণ সাঁতার,
রাখালরাজ গোপালের মাঠে মাঠে সর্বশস্যের ধুধু সোনালি খামার,
চর্যার পদকর্তা ভুসুকুর চিত্তে বংপ্রজাতির প্রথম প্রমুক্ত পঙক্তির রণ,
মাতৃবাণী মাতৃউক্তি বাঙ্গালার সপক্ষে হাকিমের জাতিস্মর উচ্চারণ,
মধ্যযুগে স্বঘোষিত স্বাধীন সুলতান ইলিয়াস শাহের অনার্য ভাষা-তূর্য,
বিদ্যাপতি-আলাওল-চণ্ডীদাশের স্পর্শ-ও-বর্ণ-নিরপেক্ষ নন্দনসূর্য,
জাতিত্যাগী বিশ্বভিখারী মাইকেলের শ্রীমধুসূদন হয়ে নিঃশর্ত ঘরে ফেরা,
তুমি জগতের তাবৎ জাতিতত্ত্বের সত্যাসত্য চুলচেরা;
তুমি গগন হরকরার তৃণাভিসারী লোকচিত্তে জল-ছলোচ্ছল মনোবাংলা,
গুরুকবি রবীন্দ্রনাথের বৈদিক বুকে বাউলের লালনোজ্জ্বল সোনার বাংলা,
ভৃগু-বিদ্রোহী নজরুলের বুকে-মুখে বেনিয়া-তাড়ানিয়া ব্রহ্মাস্ত্র জয়-বাংলা,
শহিদ-গাজী ক্ষুধিরাম-বরকত-সূর্যসেন-তিতুমীরসহ সব ভাষাযোদ্ধা আর
তাবৎ কালের তাবৎ মুক্তিযোদ্ধার বাঁশের কেল্লার সাহসের অধিকার
তুমি সার্বভৌম বাঙালি তর্জনী, তার আকাশ-শাসানো ব্যাঘ্রের চূড়ান্ত হুংকার।
তৃমি মধুমতী, ধানসিড়ি, পদ্মা-মেঘনা-কর্ণফুলী-ব্রহ্মপুত্র আর হাজার নদীর
জলবাংলা, তার উত্তাল তরঙ্গভঙ্গ। তুমি অঙ্গবঙ্গকলিঙ্গের মুক্তিযুদ্ধ সর্বজয়ীর;
তার স্বাধীনতা, তার যুক্তিযুদ্ধ। তুমি বঙ্গবন্ধু, তুমি মুক্তবন্ধু, তুমি এই বাংলার
আগত-অনাগত তাবৎ বঙ্গসন্তানের চিরকালের স্বাধীনতার আরাধ্য টঙ্কার ।
না, তুমি মানোনি কারো অধীনতা,
না, আমি মানিনি কারো অধীনতা,
না, বাঙালি মানে না কারো অধীনতা।
আমার স্বাধীনতা মানে তোমার স্বাধীনতা,
তোমার স্বাধীনতা মানে আমার স্বাধীনতা;
না, আমার স্বাধীনতা মানে
তোমাকে আমার পরাধীন করা নয়;
জয় হোক, জয়
জাতিজ্ঞাতি নির্বিশেষে
দেশে দেশে কালে কালে
মুক্ত ব্যক্তিমানুষের জয়।
জন্ম হোক, সার্বভৌম স্বাধীনতার নৈয়ায়িক জন্ম,
স্বাধীনতা হোক নৈয়ায়িক ব্যক্তিসত্তার ব্রহ্ম-জন্ম।


মেধাকে ছড়িয়ে দাও
আসাদ মান্নান

মেধা! মেধাকে এখন কেউ আর মেধা বলে স্বীকার করে না,
যখন মেধার চেয়ে মেদ আর মাধবের অনেক কদর;
যখন বধির কানা নুলা খোঁড়া জীবনের ভ্রƒণের আশায়
সঙ্গমের রথে চড়ে ঘুরতে চায় চূড়ান্তের শূন্যের বলয়েÑ
অন্যের পকেট কেটে স্বপ্ন দেখে নিরাপদ পেশার জমিন,
তখন কবির কি বা আর বলার থাকতে পারে! এ কি জানে কবি
উদ্যানে উলঙ্গ মেধা কুয়াশায় কেন চিৎ হয়ে পড়ে থাকে?
ঈশ^র যেখানে কবি; নিজেকে সুন্দর বলে বিজ্ঞাপিত তিনি।

জগতে সুন্দর শুধু ঈশ^রের! কবি পাবে সব অসুন্দর?
যে যাবার সে যাবে নরকেÑ যাক; কবি কিন্তু নরকে যাবে না;
কান পেতে ঘণ্টা শোনো বিদায়েরÑ পরকাল খুব দূরে নয়Ñ
যা কিছু খাবার আছে খেয়ে নাও, দাও চুমু যাকে ইচ্ছে তাকে,
প্রেমিকার ছায়ামুখে থু থু মেরে ঝাঁপ দাও কুয়াশার হ্রদে:
কবিকে আমলে নিয়ে ঠিক রাখো সহি মতে নিজের আমল।

অন্ধকারে মেধা মরে লাশ হয়ে পড়ে আছে ডোমের ডেরায়;
জনারণ্যে কুপি জে¦লে অন্ধ হাঁটে পুরাতন কবরখানায়।
জীবন ফুরিয়ে যায় জীবিকার তলাহীন খাঁচার ভেতর;
গাধার খোঁয়াড়ে বাঁধা কব্জিহীন রাখালের গোচারণভূমি,    
অকারণে তুলসীগাছে অপেক্ষার জল ঢালে কুমারী বিধবাÑ
গাঙের ঢেউয়ের মতো বিধবার মরা বুকে জেগে ওঠে চর;
মেধাকে ছড়িয়ে দাও চতুর্দিকে সময়ের জঞ্জাল সরিয়ে।


সম্মিলিত গান
গোলাম কিবরিয়া পিনু

আমার সনদপত্র নেই!
আমিও তো স্বজন হারিয়েছি যুদ্ধেÑ
আমারও ঘরবাড়ি লুট হয়েছে সেদিন,
আমিও আশ্রয় দিয়েছি নিরাশ্রয় মুক্তিযোদ্ধাকে
খাদ্য মুখে তুলে দিয়ে না খেয়ে থেকেছিÑ
আমাকে করো না অস্বীকার!

আমিও সীমান্ত পার হয়ে
শরণার্থী শিবিরে হারিয়েছি দুগ্ধশিশু,
আমিও ধর্ষিত হয়েছি অমাবস্যার রাতে!
আমার সনদপত্র নেই বলেÑ
কোনো অবদান নেই মুক্তিযুদ্ধে!

মুক্তিযুদ্ধ ছিল গণমানুষের গণযুদ্ধ
মানুষের সম্মিলিত সাহসের নাম!
তাকে একরৈখিক পথে সঙ্কুচিত করতে পারো না!

বংশবদ থেকেছে ক’জন?
পরতন্ত্র নিয়ে মন্ত্রমুগ্ধ থেকেছে ক’জন?
ছিল তারা হাতে গোনা তাঁবেদার অল্প!

শহীদেরা তো পারেনি নিতে কোনোই সনদপত্র!
সনদপত্রে খণ্ডিত করো না সবার কমবেশি অবদান,
একসাথেই তো গেয়েছিলাম মুক্তিযুদ্ধের গান!


পুতুল নাচের নেপথ্যলীলা
ফরিদ আহমদ দুলাল

পুতুল নাচের সুতো করে যারা নিত্য নাড়াচাড়া
নির্বোধও জেনে গেছে দৃশ্যের আড়ালে চাবি হাতে আছে কারা;
পুতুলেরা স্থূল-ভগ্নস্বাস্থ্য-খর্বাকৃতি অনাব্য নদীর ঢেউ
ক্রীড়ানকের নাদুস-নুদুস গড়ন দেখে না কখনো কেউ,
পুতুলের বলার নিজস্ব ভাষা নেই সে কথা সবার জানা
মুখোশের অন্তরালে মুৎসুদ্দির বাণিজ্যের খোঁজ আর স্বার্থ আরাধনা;
এক পুতুলের হাত ছোড়াছুড়ি-অঙ্গ সঞ্চালন
ক্লান্ত দর্শকের মনে আনে ঘৃণা-অচলায়তন।

কতিপয় ক্রীড়ানক জীবন-মঞ্চের নেপথ্যে দাঁড়িয়ে অগণন পুতুল নাচায়
স্বেচ্ছাচারে নত পুতুল যে বন্দি লোহার খাঁচায়,
আর যারা ফুট-ফরমাশ খেটে মরে পুতুলের অধম সবাই
ক্রীড়ানকের ইচ্ছায় মোরগাকে পলকে করে ‘লেঞ্জায়’ জবাই;
ছলচাতুরীর নৃত্যকলায় যদি থাকে অনীহা তোমার
স্বার্থান্ধের মুখোশটা ছিঁড়ে চোখের দোপাট্টা খোলো জনতার;
পুতুল নাচের গান লিখো আজ জনতার সুরে
স্বার্থান্ধ মুখোশ-মানুষের পতন হবেই হবে আঁস্তাকুড়ে!


ফেরার আগে
সমর চক্রবর্তী

ফেরার আগে আবার ফিরলাম
আঁকাবাঁকা পথে, সেই একাÑ
একদা আমাকে যারা বিদায় জানিয়েছিল
প্রতিবিম্ব ভেবে তারাও তাকিয়ে আছে
সবিস্ময়ে আমার দিকে,
তবুও আমি ফিরলাম দুর্দম, পরাজয়হীন!

দাঁড়িয়ে এসব দেখছিল যেসব প্রহরী
তারাও টানতে টানতে আমাকে
নিয়ে গেল একটি আস্তাবলের দিকে
আমি প্রবেশ করলাম
এবং কবরের স্তব্ধতার মতোই আবিষ্কার করলাম
আমার যেন কোনো আগমন বা প্রস্থান নেই
আমি যেন সেই অতীত, সেই ভবিষ্যৎ
যার কোনো বর্তমান নেই।

প্রচণ্ড শূন্যতার মাঝখানে
পাথরের মূর্তির মতো আমি একা
আমার সামনেই কয়েকটি বলবান মৃত ঘোড়া আরÑ
দেওয়ালে ঝুলে আছে বল্লম, তলোয়ার আর
কিছু প্রাচীন রাজার ছবি

আমি ফিরতে চাইলাম
হঠাৎ কে যেন উচ্চস্বরে বলে উঠলÑ
বহু বৃত্ত ঘুরে অবশেষে মানুষ কেন্দ্রবিন্দুতেই ফিরে যায়

Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: