যেভাবে এত পরিচ্ছন্ন জাপান

সময়ের আলো ডেস্ক

শেষ পাতা

সব ক্লাস শেষ করে স্কুল ব্যাগ গুছিয়ে শিক্ষার্থীরা সারিবদ্ধভাবে অপেক্ষা করছে বাড়ি ফেরার। তবে শিক্ষক তাদেরকে কিছু বলার জন্য দাঁড়

2019-11-30T00:00:00+00:00
2019-11-29T23:37:35+00:00
 
  বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬,
২৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬
শেষ পাতা
যেভাবে এত পরিচ্ছন্ন জাপান
সময়ের আলো ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ৩০ নভেম্বর, ২০১৯, ১২:০০ এএম  আপডেট: ২৯.১১.২০১৯ ১১:৩৭ পিএম  (ভিজিট : ২৫৭)
সব ক্লাস শেষ করে স্কুল ব্যাগ গুছিয়ে শিক্ষার্থীরা সারিবদ্ধভাবে অপেক্ষা করছে বাড়ি ফেরার। তবে শিক্ষক তাদেরকে কিছু বলার জন্য দাঁড় করিয়ে রেখেছেন। তারপর শিক্ষক বলতে শুরু করলেন, ‘ওকে, সবাই শোনো আজকের ক্লিনিং রোস্টার। প্রথম ও দ্বিতীয় সারি শ্রেণিকক্ষ পরিষ্কার করবে। তৃতীয় ও চতুর্থ সারি করিডোর এবং সিঁড়ি আর পঞ্চম লাইনে যারা আছ তারা টয়লেটগুলো পরিষ্কার করবে। পঞ্চম সারি থেকে কিছুটা কান্নার মতো শব্দ আসলেও শিশুরা উঠে দাঁড়াল এবং ক্লাস রুমের পেছনে রাখা সব উপকরণ নিয়ে টয়লেটের দিকে দৌড়ে গেল। এটি জাপানে সারা দেশের স্কুলগুলোর একটি পরিচিত দৃশ্য। বিবিসি।

এই দেশে যারা প্রথমবার বেড়াতে যান তারা অবাক হন কীভাবে দেশটি এত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন হলো। চলতে ফিরতে গিয়ে তারা দেখেন যে কোথাও ময়লা ফেলার ডাস্টবিন নাই এবং চোখে পড়ে না পরিচ্ছন্নতা কর্মীও। তাহলে এত পরিষ্কার কীভাবে? এর সহজ উত্তর হলো অধিবাসীরাই তাদের দেশকে পরিচ্ছন্ন রাখে। হিরোশিমার একজন সরকারি কর্মকর্তা মাইকো আওয়ানে জানান, ১২ বছরের স্কুল জীবনে, এলিমেন্টারি থেকে হাই স্কুল পর্যন্ত, শিক্ষার্থীদের প্রতিদিনের রুটিনে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার জন্য সময় দেওয়া থাকে। বাসাবাড়িতে বাবা-মা শিক্ষা দেন যে, আমাদের নিজেদের ব্যবহার্য জিনিস ও থাকার জায়গা নিজেরাই পরিষ্কার না করাটা খারাপ। চিকা হায়াশি নামে একজন ফ্রিল্যান্সার অনুবাদক বলেন, আমি কখনও কখনও স্কুলের পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে অংশ নিতে চাইতাম না। কিন্তু পরে আমি মেনে নেই কারণ এটা আমাদের রুটিনের অংশ ছিল।

স্কুলে পৌঁছেই শিক্ষার্থীরা তাদের জুতা খুলে লকারে রেখে দেয়। আবার বাড়িতেও প্রবেশপথেই জুতা রেখে ভেতরে প্রবেশ করে সবাই। বাচ্চারা যখন বড় হতে থাকে আস্তে আস্তে তারা ক্লাস রুম, নিজের বাড়ি কিংবা প্রতিবেশী, তারপর তাদের শহর এবং দেশ নিয়ে ধারণা পেতে থাকে।

জাপানে পরিচ্ছন্নতার কিছু কিছু ঘটনা ইতোমধ্যে ভাইরাল হয়ে গেছে। ২০১৪ ও ২০১৮ সালের ফুটবল বিশ^কাপে জাপানের খেলা শেষে সমর্থকদের স্টেডিয়াম পরিষ্কার করার ঘটনা বিশ^কে আলোড়িত করেছিল। খেলোয়াড়রাও ড্রেসিংরুম ছাড়ার আগে সেটি পরিষ্কার করে রেখেছিলেন। একই দৃশ্য দেখা গেছে জাপানিজ মিউজিক ফেস্টিভ্যালেও। ফুজি রক ফেস্টিভ্যাল জাপানের সবচেয়ে বড় ও পুরনো সঙ্গীত উৎসব। ভক্তরা বর্জ্য ততক্ষণ সঙ্গেই রেখেছেন যতক্ষণ না তারা একটি ডাস্টবিন খুঁজে পেয়েছেন।

 ধুমপায়ীদের পোর্টেবল অ্যাশট্রে নিয়ে আসতে বলা হয়েছিল যাতে করে অন্যরা সমস্যায় না পড়ে। আবার সকাল ৮টায় দেখা যায় অফিস কর্মীরা বা দোকানের কর্মীরা তাদের কর্মস্থলের সামনের রাস্তাও পরিষ্কার করছেন। এসব নিয়ে মাইকো আওয়ানে বলেন, আমরা জাপানিরা অন্যদের কাছে আমাদের ভাবমূর্তির বিষয়ে খুবই স্পর্শকাতর। আমরা চাই না কেউ আমাদের খারাপ ভাবুক।

এমনকি পরিচ্ছন্নতার বিষয়টি জাপানের শিল্পকর্মেও দেখা যায়। বাচ্চারা স্বেচ্ছাসেবী হয়ে কমিউনিটি ক্লিনিং-এ অংশ নেয়। স্কুলের কাছে রাস্তা থেকে ময়লা-আবর্জনা সরিয়ে ফেলে তারা। সড়ক সংলগ্ন অধিবাসীরাও এ কাজে অংশ নেয়। ঘরের সামনের সড়কের ময়লা সরাতে কারও জন্য তারা অপেক্ষা করে না। অদৃশ্য ময়লা, জীবাণু কিংবা ব্যাকটেরিয়া- এগুলোও আরেকটি উদ্বেগের বিষয়। কেউ তাই ফ্লুতে আক্রান্ত হলে সার্জিক্যাল মাস্ক ব্যবহার করে যাতে অন্যরা আক্রান্ত না হয়। গরমের সময় জাপানে আর্দ্রতা অনেক বেড়ে যায়। খাদ্যদ্রব্য দ্রুত নষ্ট হয়ে ব্যাকটেরিয়া তৈরি হয়। সে কারণে হাইজিনকে অনেক গুরুত্ব দেওয়া হয়। বৌদ্ধধর্মে পরিচ্ছন্নতার গুরুত্ব অনেক। বিশেষ করে রান্না আর পরিচ্ছন্নতা আধ্যাত্মিক বিষয় বলে বিবেচিত হয়। বৌদ্ধধর্ম আসার আগে থেকে জাপানিদের একটি নিজস্ব ধর্ম আছে, তা হলো শিনতো। এর মূল মর্মবাণীই হলো পরিচ্ছন্নতা। বৌদ্ধ ধর্মেও পরিচ্ছন্নতার ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়। তবে জাপানিরা এটি এমনিই চর্চা করেন।


Loading...
Loading...
শেষ পাতা- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: