কবিতার প্রতি আকর্ষণ প্রতিদিনই বাড়ছে

আলোর রেখা

‘মুজিব আমার স্বাধীনতার অমর কাব্যের কবি’Ñ এমন অমর পঙ্ক্তির কবি মুহাম্মদ সামাদ। তিনি ঢাকা বিশ^^বিদ্যালয়ের সমাজকর্ম ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক

2021-04-23T00:00:00+00:00
2021-04-23T00:00:00+00:00
 
  সোমবার, ৮ জুন ২০২৬,
২৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
সোমবার, ৮ জুন ২০২৬
আলোর রেখা
কবিতার প্রতি আকর্ষণ প্রতিদিনই বাড়ছে
প্রকাশ: শুক্রবার, ২৩ এপ্রিল, ২০২১, ১২:০০ এএম   (ভিজিট : ৪৬৪)
‘মুজিব আমার স্বাধীনতার অমর কাব্যের কবি’Ñ এমন অমর পঙ্ক্তির কবি মুহাম্মদ সামাদ। তিনি ঢাকা বিশ^^বিদ্যালয়ের সমাজকর্ম ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ও পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। একসময় যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ^^বিদ্যালয়েও অধ্যাপনা করেন।  একটি বেসরকারি বিশ^^বিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে ঢাকা বিশ^^বিদ্যালয়ের  প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। মুহাম্মদ সামাদ ১৯৫৬ সালে জামালপুরে জন্মগ্রহণ করেন। স্কুলজীবন থেকেই কবিতা লেখেন। এ পর্যন্ত তার রচিত ও সম্পাদিত বই ২৩টি। তার মধ্যে ‘আমি তোমাদের কবি’; ‘আমার দুচোখ জলে ভরে যায়’; ‘আজ শরতের আকাশে পূর্ণিমা’; ‘চলো, তুমুল বৃষ্টিতে ভিজি’;
‘পোড়াবে চন্দন কাঠ’; ‘আমি নই ইন্দ্রজিৎ মেঘের আড়ালে’; ‘একজন রাজনৈতিক নেতার মেনিফেস্টো’, ‘কবিতা সংগ্রহ’; ‘প্রেমের কবিতা’; ‘উৎসবের কবিতা’ ও ‘ত্রিপুরার বাংলা কবিতা’ উল্লেখযোগ্য।  ‘কবিতা’য় বাংলা একাডেমি
সাহিত্য পুরস্কার পেয়েছেন ২০২০ সালে। এর আগেও তিনি সিটি-আনন্দ আলো পুরস্কার, সৈয়দ মুজতবা আলী সাহিত্য পুরস্কার, কবি সুকান্ত সাহিত্য পুরস্কার, কবি জীবনানন্দ দাশ পুরস্কার, কবি জসীম উদ্দীন সাহিত্য পুরস্কার,
ত্রিভুজ সাহিত্য পুরস্কার, কবি বিষ্ণু দে পুরস্কার, কবিতালাপ পুরস্কারসহ দেশ-বিদেশে অসংখ্য পুরস্কার লাভ করেন। তার কবিতা ইংরেজি, সুইডিশ, ইতালিয়ান, গ্রিক, চীনা, সার্বিয়ান, হিন্দি, সিনহালি প্রভৃতি ভাষায় অনূদিত হয়েছে।
তিনি বর্তমানে জাতীয় কবিতা পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। সম্প্রতি তার পুরস্কারপ্রাপ্তি ও সাহিত্যচর্চা নিয়ে কথা বলেছেন সময়ের আলোর সঙ্গে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন তরুণ কবি সালাহ উদ্দিন মাহমুদ
সময়ের আলো : সম্প্রতি বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার পেয়েছেন। এর আগেও দেশ-বিদেশে অনেক পুরস্কার পেয়েছেন। এবারের পুরস্কারের অনুভূতিটা কেমন?
মুহাম্মদ সামাদ : অনেক ধন্যবাদ সালাহ উদ্দিন মাহমুদ। হ্যাঁ আগেও কবিতার জন্যে কিছু পুরস্কার পেয়েছি। ১৯৮৩ সালে ফেব্রুয়ারির বইমেলায় আমার প্রথম কাব্যগ্রন্থ একজন রাজনৈতিক নেতার মেনিফেস্টো প্রকাশিত হয়। কাব্যগ্রন্থটি তৎকালীন বাংলাদেশে পঁচিশ বছর বয়সি তরুণ লেখকদের জন্যে নির্ধারিত ‘ত্রিভুজ সাহিত্য পুরস্কার ১৯৮৩’ অর্জন করে। পুরস্কারসভায় সৈয়দ আলী আহসানের সভাপতিত্বে রাবেয়া খাতুন, রিজিয়া রহমান, আবুল ফজল শামসুজ্জামান, গাজী শামসুর রহমান ও যুক্তরাজ্যের তৎকালীন বাংলাদেশের হাইকমিশনার সৈয়দ আবদুস সুলতান প্রমুখের আশীর্বাদ, প্রশংসা ও উৎসাহ বর্ষণে; আর জুবায়দা গুলশান আরার গান পরিবেশনে সেদিন অজপাড়াগাঁয়ের এই আমি অভিভূত হয়ে পড়েছিলাম। ২০১৮ সালে চীনের ইন্টারন্যাশনাল পোয়েট্রি ট্র্যানসেøশন অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টার ঘোষিত বিশে^র দশটি দেশের কবিদের মধ্যে ‘প্রাইজেস ২০১৮ : ইন্টারন্যাশনাল বেস্ট পোয়েট’ সম্মাননা পেয়ে বেশ অবাক হয়েছিলাম। অন্য নয়টি দেশের কবিরা হলেনÑ রুমানিয়ার ড্রাগুস বারবু, তুরস্কের হিলাল কারাহান, মেসিডোনিয়ার মাইট স্টেফস্কি, কাতালুনিয়া-স্পেনের তোনিয়া প্যাসোলা, সৌদি আরবের আলী আল-হাজমি, ভারতের মণ্ডল বিজয় বেগ, আলবেনিয়ার ফাতিমি কুলি, চীনের দুয়ান গুয়াঙ্গা’আন এবং বেলজিয়ামের ডমিনিক হেক। অবশ্য এ সম্মাননার কয়েক বছর আগেই একটি কবিতা উৎসব উপলক্ষে প্রেরিত আমার কবিতা পড়ে চীনা অনুবাদক ও কবি ইয়াং জংজি উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেছিলেন। সে অর্থে কম লিখে বেশি পুরস্কার-সম্মান পেয়েছি।
ঐতিহ্যগতভাবে আমাদের দেশে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কারপ্রাপ্তি খুব মর্যাদার। তাই আমার অনুভূতি অবশ্যই আনন্দের। একাডেমির মহাপরিচালক কবি হাবীবুল্লাহ সিরাজীর সভাপতিত্বে যে বিচারকমণ্ডলী কবিতায় বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কারের জন্যে আমাকে মনোনীত করেছেন, তাদের আমি ধন্যবাদ জানাই। সেই সঙ্গে আমার পাঠক, কবিতার আবৃত্তিশিল্পী, প্রকাশক ও শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই।
সময়ের আলো : আমাদের দেশে সাহিত্য পুরস্কার নিয়ে অনেক নেতিবাচক মন্তব্য বা সমালোচনা শোনা যায়। এ ব্যাপারে আপনার অভিমত জানতে চাইÑ
মুহাম্মদ সামাদ : সারা দুনিয়াতেই সাহিত্য পুরস্কার নিয়ে কম-বেশি সমালোচনা থাকেই। এমনকি নোবেল সাহিত্য পুরস্কার নিয়েও। কারণ প্রতিবছর একটিমাত্র পুরস্কারের জন্যে অনেক লেখক কিউতে থাকেন। তাদের পাঠক-সমালোচকদেরও প্রত্যাশা থাকে। আমাদের দেশের বিষয়টি বাড়াবাড়ির পর্যায়ে চলে গেছে। লেখার চাইতে পুরস্কারপ্রাপ্তিটাই যেন মুখ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। সাধারণত যেকোনো পুরস্কার বা সম্মান গুণী ব্যক্তিকে খুঁজে বের করে দেওয়ার কথা। প্রকৃত কবি-লেখকদের পুরস্কার পাবার ইতিহাসও তাই বলে। অন্যদিকে তদবির করে, ক্ষমতা-প্রতিপত্তির প্রভাব খাটিয়ে যারা পুরস্কার জোগাড় করেন; তারা কালের গহ্বরে নিঃসন্দেহে হারিয়ে যান। এতে প্রকৃত কবি-লেখকের প্রতি অবিচার হয় এবং সাহিত্যের ক্ষতি হয়।
সময়ের আলো : ঠিক কখন কী কারণে আপনার মনে কবি হওয়ার বাসনা জেগেছিল? প্রথম লেখা প্রকাশের মুহূর্তটি আপনার কাছে কেমন ছিল?
মুহাম্মদ সামাদ : আমার জন্ম অজপাড়াগাঁয়ে। অভিবাসী হওয়ার সুবাদে আমার মা কুচবিহারের রাজা ভুপ বাহাদুর স্কুলে লেখাপড়া করেন। ১৯৪৭ সালে দেশভাগের সময় আমার মায়ের শৈশবে তার পরিবার দেশে ফিরে আসতে বাধ্য হয়। বিয়ের পরেও একটি ছোট্ট টিনের ট্রাঙ্কে মা তার স্কুলজীবনের কিছু বই-পুস্তক ও খাতা-পত্র যক্ষের ধনের মতো আঁকড়ে রেখেছিলেন। সেগুলো হলুদ ও ঝুরঝুরে হয়ে গিয়েছিল। আমাকে খুব ছোটবেলা থেকেই মা কিছু মুখস্থ কবিতা আর সেই সব বই থেকে কিছু কবিতা সুর করে শোনাতেন। সেগুলোর বেশিরভাগই নীতি কবিতা ছিল। মা নেই। আমি এখনও সেগুলো আবৃত্তি করি। কবি হওয়ার মূল বাসনা এখান থেকেই। অন্যদিকে স্কুলের পাঠ্যবইয়ের শেষে কবি-লেখকদের জীবনী পড়ে এবং বিশেষ করে মুক্তিযুদ্ধের পরে পরে রবীন্দ্র-নজরুল-সুকান্তজয়ন্তীর অনুষ্ঠান দেখে তাদের মতো বিখ্যাত হওয়ার স্বপ্নে বিভোর হয়ে কবি হতে চেয়েছি। আমার প্রথম লেখা প্রকাশিত হয় স্থানীয় একুশে সংকলনে। সেই বালক বেলায় কবিতা কী লিখেছিলাম সেটা বড় কথা নয়; ছাপার অক্ষরে নিজের নাম ও কবিতা বারবার দেখেছি; অস্থির চাঞ্চল্য নিয়ে মাকে, বন্ধু-বান্ধবকে দেখিয়েছি।
সময়ের আলো : সমসাময়িক কবিতার গতি-প্রকৃতি নিয়ে আপনার অভিমত জানতে চাই। এ সময়ের কবিতা কি ঠিক আগের মতো পাঠককে আকৃষ্ট করতে পারছে?
মুহাম্মদ সামাদ : শিল্পের প্রধান দাবি হচ্ছেÑ বর্তমানকে না মানার, বর্তমানকে ভেঙে ফেলার এবং বিপরীতে নতুন চিন্তা, নতুন স্বপ্নকে আবাহন করার। সকল শিল্পকলার মতোই কবিতার গতি-প্রকৃতি সমাজবাস্তবতার গতি-প্রকৃতির সঙ্গে হাত ধরাধরি করে চলে। অবশ্যই সকল সময়ের কবিতাই পাঠককে আকৃষ্ট করে। এই সময়ের কবিতাও পাঠককে আকৃষ্ট করছে। সারা পৃথিবীতে শত শত ভাষায় লক্ষ-কোটি কবিতা রচিত হচ্ছে। যাদের অক্ষর নেই তারাও মুখে মুখে কবিতা সৃষ্টি করছেন; পাঠ করে পরস্পরের হৃদয়ের কথা ব্যাকুল হয়ে বিনিময় করছেন। বড় বড় কবিতা উৎসব আয়োজন করছেন। ২০১৫ সালে চীনের চিংহাই লেক ইন্টারন্যাশনাল পোয়েট্রি ফেস্টিভ্যালে ৮৮টি দেশের ১৪১ জন কবির সঙ্গে কবিতা পড়েছি। সুইডেন, নরওয়ে ও ইতালিতে বহু দেশের কবিদের সঙ্গে কবিতা পড়েছি। ভারতের কলকাতা, আগরতলা, হলদিয়া ও শান্তিনিকেতনে কবিতা পড়েছি। আমাদের জাতীয় কবিতা উৎসবে বিশে^র বহু ভাষার কবিরা আমন্ত্রিত হয়ে কবিতা পড়তে আসেন। কোভিড-১৯-এর মধ্যেও প্রতিবছরের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে দক্ষিণ আফ্রিকার দুটি দেশ ইসিউয়াতিনি (পূর্বের নাম সোয়াজিল্যান্ড) ও ল্যাসেথো অনলাইনে বড় আন্তর্জাতিক কবিতা উৎসবের আয়োজন করেছে। আমি আমন্ত্রিত হয়ে কবিতা পড়েছি। আমাদের বইমেলায় সর্বোচ্চ সংখ্যক বই বের হয় কবিতার। কবিতার প্রতি আকর্ষণ আসলে প্রতিদিনই বাড়ছে।
আমাদের বিবেচনায় রাখতে হবে যে, ক্লাসিক বা কালোত্তীর্ণ কবিতা সবসময় সমসাময়িক। কাব্যচর্চা, জ্ঞানচর্চাÑ এককথায় শিল্পচর্চার ইতিহাসের দিকে দৃষ্টিপাত করলে দেখা যাবে সকল যুগে, সকল কালে যিনিই ক্লাসিক্যাল বা কালজয়ী কবি, লেখক, শিল্পী বা দার্শনিক বলে খ্যাতিমান হয়েছেন, তাদের সময়ের বহু সহযাত্রী চর্চা করেছেন। কেউ পাদপ্রদীপের আলোয় এসেছেন, কেউ বা আসতে পারেননি। তবে যিনি মহৎ বলে, প্রখ্যাত বলে স্বীকৃতি পেয়েছেন তার পেছনে তার সহযাত্রীদের শ্রম-ঘাম ও অবদান রয়েছে। মোদ্দাকথা রামায়ণের রচয়িতা আদিকবি বলে খ্যাত বাল্মীকি, মহাভারতের কবি ব্যসদেব, মেঘদূতের কবি কালীদাসের পরে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম, জীবননান্দ দাশ, শামসুর রাহমান, সৈয়দ শামসুল হক, শক্তি চট্টোপাধ্যায়, সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় বা নির্মলেন্দু গুণ সৃষ্টি হবেন; তখনকার দিনে কেউ কি ভাবতে পেরেছিল? কাজেই সবার উপরে মানুষ সত্য এবং মানুষের হাত ধরেই ভাষার সর্বশ্রেষ্ঠ মাধ্যম কবিতা এগিয়ে যাবে এবং তা মানুষকে নিরন্তর আকৃষ্ট করবে।
সময়ের আলো : আপনার কবিতা বিশে^^র সাতটিরও অধিক ভাষায় অনূদিত হয়েছে। সেসব দেশের কোনো পাঠকের কাছ থেকে পাওয়া কোনো অনুভূতি আমাদের সঙ্গে ভাগাভাগি করবেন কি?
মুহাম্মদ সামাদ : কেন করব না, অবশ্যই করব। আগে নিজের দেশের কথা বলি, ছাত্রজীবনে ১৯৭৮ সালে লেখা আমার চুক্তি শিরোনামের দুই পঙ্ক্তির একটি কবিতাÑ ‘যদি সুখ আসে/ভাগ দেবো/যদি দুঃখ আসে/একা নেবো’ বন্ধুরা প্রেমপত্রে ব্যবহার করেছে; স্বামী স্ত্রীকে চিঠিতে লিখে পাঠিয়েছে। আমার কবিতার পঙ্ক্তি : ‘মুজিব আমার স্বাধীনতার/অমর কাব্যের কবি’ দেয়ালে-পোস্টারে খচিত হয়েছে; রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের কণ্ঠে-বক্তৃতায়-সেøাগানে ধ্বনিত হয়েছে এবং হচ্ছে। ১৯৮৩ সালে প্রকাশিত আমার ১৭০ পঙ্ক্তির দীর্ঘ বিদ্রƒপাত্মক কবিতা একজন রাজনৈতিক নেতার মেনিফেস্টো হিন্দি, মারাঠি, ইংরেজি, সুইডিশ, সার্বিয়ানসহ বেশ কয়েকটি ভাষায় অনূদিত হয়েছে। বিশেষ করে, উত্তর ইউরোপের প্রখ্যাত কবি-অনুবাদক ক্রিস্টিয়ান কার্লসনের সুইডিশ অনুবাদ পড়ে গোথেনবার্গ, উপসালা, স্টকহোম ও মালমো শহরে কবিতপাঠের সময় সুইডেনের কবি-লেখক-পাঠকরা একজন রাজনৈতিক নেতার মেনিফেস্টো, কাক, বনসাইসহ বেশ কিছু কবিতার প্রতিÑ এবং কবি হিসেবে আমার প্রতি আগ্রহ দেখিয়েছেন, প্রশ্ন করেছেন, কবিতাগুলো রচনার পটভূমি ও প্রেরণার কথা জানতে চেয়েছেন। নরওয়েতে মহাত্মা গান্ধীর জন্মশতবর্ষে স্টকহোমের প্রখ্যাত একজন তরুণী আবৃত্তিশিল্পীকে দিয়ে সবচেয়ে বেশি ভাষায় অনূদিত আমার ধর্ম কবিতাটি সুইডিশে পাঠ করিয়েছে। চীনের কবি-স্থপতি জুটি ল্যাম ও চেরি আমার কবিতাকে উপজীব্য করে তাদের স্থাপত্যকর্মের নকশা প্রণয়ন করেছেন, প্রদর্শনী করেছেন; ইতালিতেও তরুণ পাঠকদের আগ্রহে আমি মুগ্ধ হয়েছিÑ নিজেকে ধন্য মনে করেছি।
সময়ের আলো : আপনি দীর্ঘদিন জাতীয় কবিতা পরিষদের সভাপতি। গুরুত্বপূর্ণ এই পদে থেকে বাংলাদেশের কবিতাচর্চা নিয়ে আপনার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী?
মুহাম্মদ সামাদ : বাংলাদেশের গণতন্ত্রের সংকটকালে সামরিক স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে শৃঙ্খলমুক্তির ডাক দিয়ে আমাদের সংগঠন জাতীয় কবিতা পরিষদ শামসুর রাহমানের নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। কবি সুফিয়া কামাল, আবুল হোসেন, সৈয়দ শামসুল হক, ফয়েজ আহমেদ, বেলাল চৌধুরী, রফিক আজাদ, মোহাম্মদ রফিক, খালেদা এদিব চৌধুরী, রবিউল হুসাইন, সমুদ্র গুপ্ত প্রমুখকে আমরা হারিয়েছি। আমাদের আয়োজনে এ পর্যন্ত ৩৫টি কবিতা উৎসব হয়েছে। আপনারা জানেন, উৎসবগুলো এখন শুধু জাতীয় নয়; নবীন-প্রবীণ কবিদের আন্তর্জাতিক মিলনমেলায়, প্রাণের মেলায় পরিণত হয়েছে। কবিতাচর্চা একজন কবি একান্তে, নীরবে, নিভৃতে করেনÑ তাতে সংগঠনের ভূমিকা গৌণ। তবু কবিতা পরিষদ থেকে আমরা কবি ও কবিতার সংগ্রাম শীর্ষক প্রবন্ধ সংকলন প্রকাশ করেছি। আমরা ওয়ার্কশপ, সেমিনার, কবিতাপাঠের আয়োজন করি। কবিতা উৎসব নামে একটি অনিয়মিত কবিতা পত্রিকা প্রকাশ করি; সেটি এখন অনলাইনে নিয়মিত প্রকাশ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আসলে কবিতা উৎসব আয়োজনই আমাদের মূল অনুষ্ঠান এবং প্রতিবছরই আমরা উৎসব নিয়ে নতুন নতুন পরিকল্পনা করি।
সময়ের আলো : সম্প্রতি শেষ হয়ে গেল অমর একুশে গ্রন্থমেলা। করোনা দুর্যোগে এমন বইমেলা কতটা সফল বা কতটা ব্যর্থ বলে আপনি মনে করেন?
মুহাম্মদ সামাদ : অমর একুশে গ্রন্থমেলা তার ধারাবাহিকতা বজায় রেখে আয়োজিত হয়েছে এটিই বড় সাফল্য। বাংলা একাডেমি ও আমাদের প্রকাশকরা আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন; কবি-লেখকরা, বইপ্রেমীরা মেলায় কাক্সিক্ষত মাত্রায় অংশগ্রহণ করতে পারলেন নাÑ এটিই কষ্টের বিষয়।
সময়ের আলো : এত ব্যস্ততার মাঝেও আমাদের আপনার মূল্যবান সময় দেওয়ার জন্য বিশেষভাবে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। সবশেষে পাঠকের উদ্দেশে কিছু বলুনÑ
মুহাম্মদ সামাদ : আপনাকে অশেষ ধন্যবাদ কবি-কথাসাহিত্যিক সালাহ উদ্দিন মাহমুদ। পাঠকের উদ্দেশে কী আর বলব; কবিতাপ্রেমিক পাঠকেরা বেশি বেশি কবিতা পড়ুন, জীবনবোধে মানবিক হোন, অন্যায়-অনাচারের বিরুদ্ধে
শাণিত হোন; তাদের অন্তর ভালোবাসায় বিকশিত হোকÑ সকলের জন্যে এই প্রার্থনা করি।

Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: