প্রকাশ: শুক্রবার, ২৫ জুন, ২০২১, ১০:৫৪ পিএম (ভিজিট : ৫০৫)
গত কিছুদিন থেকে রবির সঙ্গে দেখা নেই মোহনার। খুব মন খারাপ লাগছে। তাও অপেক্ষা, ভাবছে সব কিছু একদিন ঠিক হবে, রবিও ফিরবে, দিনগুলো আবার আগের মতো হবে।
আজকাল মোহনার দিন কাটে পাখিদের খাবার দিয়ে আর ব্যালকনির গাছগুলোর যত্ন করে। কখনও গলির মোড়ের বেওয়ারিশ কুকুরদেরও খাবার দেয়।
ওদের জন্য কষ্ট হয়। আগে ওরা বেশ চেঁচামেচি করত খাবারের জন্য, এখন কেমন যেন নেতিয়ে পড়ে থাকে। ওদের চোখের জৌলুসও কমে গেছে। মোহনা যখন খাবার নিয়ে যায় ওরা ধীরেসুস্থে এগিয়ে আসে, যার যার ভাগেরটুকু খেয়ে আবার আগের জায়গায় ফিরে যায়। আগের মতো আর খাবার নিয়ে কাড়াকাড়ি করে না। তবে কি তারা মানুষের জন্য কোনো দৃষ্টান্ত রাখতে চাইছে?
মোহনা ওষুধ কিনতে বের হয়েছে। পাশের বাড়ির বৃদ্ধা খুব অসুস্থ, মোহনাকে ফোন করে অনুরোধ করল, ওষুধ কিনে দেওয়ার জন্য। সেও ভাবল, এ কঠিন সময়ে এটুকু কারও জন্য করাই যায়। ওষুধটা দরজার কাছে রেখে কলিং বেল বাজিয়ে চলে আসবে।
আজ রাস্তাটা খুব নীরব, অন্যদিন বেশ কিছু কাক ডাকাডাকি করে। আজ ওরাও নেই।
মোহনার শরীর খুব খারাপ। সকাল থেকে বিছানায়, উঠে বসতেও পারছে না।
হাতটা বারবার ফোনের কাছে চলে যাচ্ছে। রবিকে জানাতে ইচ্ছে করছে, একটিবার দেখতে ইচ্ছে করছে। তারপরও নিজেকে সামলে নিচ্ছে।
ওকে জানানো যাবে না। যা কিছু ঘটবে তা মেনে নিতে হবে। মোহনা চায় না, ওর শরীর খারাপ শুনে রবি ছুটে আসুক, সেও সংক্রমিত হোক।
কাউকে না কাউকে তো বেঁচে থাকতে হবে আগামী প্রজন্মের জন্য সুন্দর পৃথিবী গড়ে তুলতে।
গত দুদিন কুকুরগুলো খাবার পায়নি, কী আশ্চর্য ওরা খাবারের জন্য একটুও অস্থির হয়নি, চুপচাপ শুয়ে আছে, নিশ্চল চোখে তাকিয়ে আছে মোহনার ব্যালকনির দিকে।