প্রকাশ: শুক্রবার, ২৫ জুন, ২০২১, ১০:৫৪ পিএম (ভিজিট : ৬২৪)
আকরাম সাহেবকে রিমা বাবা ডাকে। ছোটবেলায় রিমা বাবাকে হারিয়েছে। বিয়ের পর রিমা নতুন বাবা পেয়েছে। আকরাম সাহেব পেয়েছে একটি লক্ষ্মী মেয়ে।
‘বাবা আজ আপনার জন্মদিন। আমি আজ নিজ হাতে আপনার জন্য পায়েস রাঁধব।’ রিমার এ কথায় আকরাম সাহেবের চোখ ঝাপসা হয়ে আসে। স্ত্রীর কথা মনে পড়ে।
রিমা আকরাম সাহেবের মনঃকষ্ট পড়ে ফেলে। বলে, ‘আপনার প্রিয় গানÑ বড় আশা করে এসেছি গো, ওটা গেয়ে শোনাব?’
আকরাম সাহেব চোখ থেকে চশমা খুলে চোখ মুছতে মুছতে বলে, ‘রাশেদ ওর বন্ধুর বাসা থেকে এখনও ফেরেনি?’
‘আমি ওকে ফোন করছি। এখনই এসে যাবে।’
‘বাবার জন্মদিন যার মনে থাকে না, তাকে মনে করিয়ে দিয়ে কী লাভ! জোর করে কি সব হয়? আচ্ছা মা, তোমাদের হানিমুনে যাওয়ার কী হলো? এ মাসের পেনশনের পুরো টাকাটা আমি রেখে দিয়েছি, রাশেদকে বলো। দেখতে দেখতে তো ছ’মাস হয়ে গেল।’
বাবা ওকে বললে বলে, অফিসে ছুটি পাচ্ছি না।
রিমা রাশেদকে বুঝতে পারে না। অথচ যাকে বোঝার, বিয়ের প্রথম রাতেই বোঝা যায়। আর যাকে বোঝা যায় না, তাকে ছ’মাসে কেন, সারা জীবনেও বোঝা যায় না।
‘হোটেলে বসে থাকব? সি বিচে যাব না?’
তুমি যদি বাবার কথা রাখতে হানিমুনে এসে থাকো, তা হলে কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে দুদিকে দুজন যেতে পারতাম।’
রাশেদ রিমাকে মিথ্যা বলতে চায় না। সত্য কথাটাও বলতে পারছে না। কিছু সময় চুপ করে থাকে।
‘আমি প্রথম সমুদ্র দেখছি। কী বিশাল! বাবাকে ভীষণ মনে পড়ছে। আমি ফোন আনিনি। তোমার ফোনটা একটু দেবে, বাবাকে ভিডিও কল দেব।’
‘বাবা শুনতে পাচ্ছেন, সমুদ্রের শব্দ? এই যে আমরা এখন সমুদ্রের পাড় দিয়ে হাঁটছি। দেখা যায়?’
রিমার চোখে মুখে উচ্ছ্বাস। মন সমুদ্রের মতো অতল। চুল নৌকার পাল। শাড়ি অবাধ্য।
খালিপায়ে ভিজা বালির ওপর দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে রিমা বলে, ‘এই যে আমরা সমুদ্রের তীরে হাঁটছি, এটা তোমার মনে থাকবে রাশেদ?’