প্রকাশ: শুক্রবার, ২৫ জুন, ২০২১, ১০:৫৪ পিএম (ভিজিট : ৪৩৫)
আমরা একই বিল্ডিংয়ে থাকতাম। ওরা দোতলায় আর আমরা তৃতীয় তলায়।
প্রায় প্রতিদিন আমাদের দেখা হতো, কখনও ছাদে, কখনও সিঁড়িতে, কখনও অন্য কোথাও। আর দেখা হলেই ও লাজুক ভঙ্গিতে হেসে জিজ্ঞেস করত, ‘ভালো আছো?’
আমার গা জ্বলে গেলেও মুখে বলতাম, ‘হ্যাঁ, আপনি?’
ছেলেদের লাজুকলতা স্বভাব আমার খুব অপছন্দ!
আমরা প্রায়ই ছাদে বরফ-পানি খেলতাম, ও দূরে দাঁড়িয়ে দেখত। সেদিনও এমনই আকাশভরা মেঘ ছিল, যেকোনো মুহূর্তে বৃষ্টি নামবে। এমন আকাশ আমার খুব পছন্দ বলে ছাদে দাঁড়িয়ে দেখছিলাম, মুগ্ধচোখে। একটু পরই ছাদে তার উপস্থিতি টের পেলাম। মা-বাবার একান্ত বাধ্যগত ছেলে, শুকোতে দেওয়া কাপড় নিতে এসেছে! আমার গা জ্বলে গেল, কেন বাসায় কাজের বুয়া নেই?
আঁতেলটাকে একটু শিক্ষা দেবার জন্য পেছন থেকে ওকে আলতো ছুঁয়ে বললাম, ‘বরফ।’
দেখলাম, ও সত্যি সত্যিই জমে গেছে। আমি নিশ্চিন্ত মনে নেমে এলাম এবং ভুলে গেলাম।
মিনিট দশেক ঝুম বৃষ্টির পর আকাশ আবার পরিষ্কার হয়ে গেল। তখনই সিঁড়িতে চেঁচামেচি শুনে বেরিয়ে দেখি ওর মা ভেজা কাপড় এবং কাকভেজা ওকে টেনে নিয়ে যাচ্ছেন! আমি জিভ কেটে হেসে ফেললাম।
বিপত্তি বাধল ওর টানা তিন দিনের জ্বরে! শুনলাম, ও কেবলই প্রলাপ বকছে, বরফ বরফ!
অনুশোচনা থেকে একবার দেখতে গেলাম। আন্টি ওর রুমে নিয়ে গিয়ে বলল, শুভ্র, এই দেখ শুভ্রা তোকে দেখতে এসেছে।
শুভ্র কোনো সাড়া দিল না।
একটু সুযোগ পেয়ে ওকে আলতো ছুঁয়ে ওর কানে কানে বললাম, পানি।
সঙ্গে সঙ্গে চোখ মেলে শুভ্র বলল, ও তুমি! আকাশে এখনও মেঘ আছে?
আমরা এখনও একই বিল্ডিংয়ে থাকি এবং একই রুমে! অবশ্য এটা অন্য একটা বিল্ডিং। ওই বিল্ডিংয়ের কেউ আমাদের মেনে নেয়নি!
আমরা দুজনে মিলে এখন বরফ-পানি খেলি। আমি রেগে গেলে শুভ্র আর শুভ্র রেগে গেলে আমি আলতো ছুঁয়ে বলি, বরফ।
রাগ গলে পানি হয়ে না যাওয়া পর্যন্ত আমরা কেউ কাউকে বলিই না, পানি।