প্রকাশ: শুক্রবার, ২৫ জুন, ২০২১, ১০:৫৪ পিএম
বৃষ্টি হলে মিশু আর ঘরের বাইরে যায় না। ছাদের যেপাশে ধুলোবালি রাখা সেখানেই ঘুমিয়ে ছিল মিশু। কিন্তু হঠাৎ বৃষ্টিতে ধুলো কাদা হয়ে তাকে ভিজিয়ে দিয়েছে। যখন ঘুম ভেঙেছে ততক্ষণে সে প্রায় ভিজেই গেছে। দরজা বন্ধ থাকায় মিশু ঘরে ঢুকতে না পেরে দরজায় বসে কান্না করছিল। বৃষ্টি যতই বাড়ছে মিশু চিৎকার তত বেশি করছে।
আইভিলতা ও তমাল দুজনেরই মন খারাপ। তমালের মন খারাপ মিশুর কথা ভেবে, আর আইভিলতার মন খারাপ তমালের কথা ভেবে। একটা সময় আইভিলতা তমালকে বলল দরজা খুলতে। তমাল বলল, না, ওকে আর একটু বাইরে রেখে কষ্ট দেই।
লতা তমালের মুখের দিকে তাকিয়ে রইল! সে বুঝতেই পারছে না, যে তমাল মিশুকে এত ভালোবাসে সে কেন আজ তাকে কষ্ট দিচ্ছে? লতার মনের কথা তমাল বুঝতে পেরে বলল, ‘তুমি আমার জীবনে আসার আগে মিশুই ছিল আমার একমাত্র সঙ্গী। ওকে আমি পরম যতনে লালন পালন করেছি। আমি কখনই ওকে ছাড়া থাকিনি। এরপর তুমি এলে, তখন আমার দুজন সঙ্গী হলোÑ তুমি আর মিশু। আজ সেই আমি আর তুমি স্থায়ীভাবে ইউরোপে চলে যাচ্ছি। অথচ আমার সে নিঃসঙ্গ জীবনের সঙ্গী মিশু রয়ে যাবে এখানে। কথাটা বলতেই তমালের দুচোখ অশ্রুশিক্ত হয়ে উঠল। লতা তমালের কষ্টটা বুঝতে পেরে তমালকে বুকে জড়িয়ে নিলো। তাহলে তমাল ইচ্ছে করেই মিশুকে বাইরে রাখছে।
কারণ জীবনে যাকে যত বেশি ভালোবাসবে তাকে ছেড়ে যাওয়ার আগে ততটাই কষ্ট দিতে হয়। কেননা কষ্টের উল্টো পিঠে থাকে শক্তির উৎস।