বাংলাদেশ হারালেও টিক্কা খানকে পুরস্কৃত করে ভুট্টো ও তার কন্যা!

সোহেল সানি

সম্পাদকীয়

যুদ্ধে পরাজয়ের পরও কী রাষ্ট্র কর্তৃক পুরস্কার লাভ করা যায়? হ্যাঁ যায়! পৃথিবীতে এমন একটি দেশ আছে, যে দেশটি এমনই

2020-12-17T22:49:00+00:00
2020-12-17T22:49:00+00:00
 
  শনিবার, ৬ জুন ২০২৬,
২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
শনিবার, ৬ জুন ২০২৬
সম্পাদকীয়
বাংলাদেশ হারালেও টিক্কা খানকে পুরস্কৃত করে ভুট্টো ও তার কন্যা!
সোহেল সানি
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৭ ডিসেম্বর, ২০২০, ১০:৪৯ পিএম   (ভিজিট : ৫৫৬)
যুদ্ধে পরাজয়ের পরও কী রাষ্ট্র কর্তৃক পুরস্কার লাভ করা যায়? হ্যাঁ যায়! পৃথিবীতে এমন একটি দেশ আছে, যে দেশটি এমনই দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। দেশটির নাম ‘ইসলামিক রিপাবলিক অব পাকিস্তান।’ দেশের পরাজয় ত্বরান্বিত করেও রাষ্ট্র কর্তৃক পুরস্কারপ্রাপ্ত ব্যক্তিটি হলো জেনারেল টিক্কা খান। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধকালীন পূর্ব পাকিস্তানের কসাইখ্যাত গভর্নর। বেলুচিস্তানের কসাই বলেও তার কুখ্যাতি ছিল।
টিক্কা খান ‘স্বাধীন বাংলাদেশ’ অভ্যুদয়ের কিছুদিন আগে পাকিস্তানে ফিরে গেলেও পুরস্কার লাভের জন্য জুলফিকার আলী ভুট্টোর ক্ষমতাগ্রহণ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়। ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর হয়ে এসেছিল জেনারেল টিক্কা খান। ১৯৭২ সালের ৩ মার্চ ভুট্টো কর্তৃক সেই টিক্কাই নিযুক্ত হয় পাকিস্তানের সেনাপ্রধান। জনরোষে সামরিক জান্তা প্রেসিডেন্ট জেনারেল ইয়াহিয়া খানকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে বসানো হয়েছিল জুলফিকার আলী ভুট্টোকে। ভুট্টো টিক্কা খানকে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান করে নিজেও এক বিস্ময়ে পরিণত হয়েছিল।
পাকিস্তান সামরিক বাহিনীর লজ্জাস্কর আত্মসমর্পণমূলক পরাজয় পাকিস্তানের মানচিত্রকে বদলে দেয়। যার নেপথ্যে রাজনৈতিকভাবে জুলফিকার আলী ভুট্টোরই অবদানই ছিল মুখ্য। ‘বাংলাদেশের কসাই’খ্যাত জেনারেল টিক্কা খান সেনাবাহিনী থেকে অবসর গ্রহণের পর ভুট্টোর প্রতিরক্ষামন্ত্রী হয়। এমনকি পিপলস পার্টির নেতাও। সামরিক বাহিনী হাতে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে সেই ভুট্টোকেই ফাঁসিতে ঝুলে মৃত্যুবরণ করতে হয়েছে।
পরবর্তী সময়ে পিতার যোগ্য সন্তান হিসেবে বেনজীর ভুট্টো পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হয়। লাইমলাইটে চলে আসে ভুট্টোভক্ত জেনারেল টিক্কা খান। প্রধানমন্ত্রী বেনজীর ভুট্টো ’৮৮ সালে টিক্কা খানকে পাঞ্জাব প্রদেশের গভর্নর করেন। ইতিহাস বড় নিষ্ঠুর আর তা যদি হয় পাকিস্তানের বেলায়, তবে সে নিষ্ঠুরতার আরও তীব্রতর। ভুট্টোর উত্তরসূরি কন্যা বেনজীর ভুট্টোও হত্যার শিকার হয়। প্রকাশ্য নির্বাচনি জনসভায় গুলিবিদ্ধ হয়ে।
১৯৬৯ সালে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ফিল্ড মার্শাল আইয়ুুব খানের বিরুদ্ধে যখন পূর্ব পাকিস্তানে গণঅভ্যুত্থান সংঘটিত হয় তখন লে. জেনারেল পদে উন্নীত হয় টিক্কা খান। ১৯৭১ সালের ৬ মার্চ টিক্কা খান পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর পদে নিয়োগ পায়। তবে ঢাকায় আসে ৭ মার্চ। যে দিন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তাঁর দিকনির্দেশনামূলক ঐতিহাসিক ভাষণে বলেন, ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের স্বাধীনতার সংগ্রাম, এবাবের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম।’ বঙ্গবন্ধু এটাও বলেন, ‘আমি যদি হুকুম দেবার নাও পারি তোমাদের যার যা কিছু আছে তা নিয়ে শত্রæর মোকাবিলা কর।’
উল্লেখ্য, ১৯৬৯ সালের ১ সেপ্টেম্বর গভর্নর হয়ে এসেছিল নৌবাহিনী প্রধান এসএম আহসান। ১৯৭০ সালের নির্বাচনি রায়-উত্তর পরিস্থিতিকে রাজনৈতিকভাবে সমাধানের কথা বলেছিলেন তিনি। ইয়াহিয়া খান কর্ণপাত না করায় তিনি পদত্যাগের কথা জানান। এরপর ১৯৭১ সালের ৪ মার্চ সাহেবজাদা ইয়াকুব খান গভর্নর হয়ে আসেন। কিন্তু নতুন গভর্নর জেনারেল ইয়াকুব খানও পূর্ব পাকিস্তানের সঙ্কটকে রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করার জন্য ইয়াহিয়া খানকে তাগিদ দেন। তিনিও পূর্ববর্তী গভর্নর আহসানের মতো পদত্যাগ করার কথা বলেন। প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান তখন টিক্কা খানকে গভর্নর করে ঢাকায় পাঠায়। গভর্নর পদে আসীন হওয়ার আগে পূর্বাঞ্চলীয় কমান্ডের অধিনায়ক ছিল টিক্কা খান। ’৭১- এ ঢাকায় সামরিক অভিযান ও নৃশংস হত্যাকাÐ পরিচালনার জন্য প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান তাকে মূলত পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর করে। পূর্ব পাকিস্তান হাইকোর্টের তৎকালীন প্রধান বিচারপতি বিএ সিদ্দিকী (বদিউদ্দিন আহমেদ সিদ্দিকী) টিক্কা খানকে শপথ করাতে অস্বীকার করেছিলেন। বেসামরিক প্রশাসন কার্যত তখন পাকিস্তানের ভাবী প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুর কব্জায়। পাকিস্তানের সম্ভাব্য বিরোধী দলের নেতা জুলফিকার আলী ভুট্টো ঢাকায় সাংবাদিকদের কাছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবকে পাকিস্তানের ভাবী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আখ্যায়িত করে গিয়েছিলেন। কিন্তু ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে গণহত্যা ও বঙ্গবন্ধু গ্রেফতার অধ্যায় সূচিত হলে সেই প্রধান বিচারপতি বিএ সিদ্দিকীই জেনারেল টিক্কা খানকে ৯ এপ্রিল গভর্নর পদে শপথবাক্য পাঠ করিয়েছিল। টিক্কা খানের সঙ্গে একই দিন পূর্ব পাকিস্তান বাহিনীর কমান্ডার পদে লে. জেনারেল আমীর আব্দুল্লাহ নিয়াজী আসীন হন। এর পরদিন ১০ এপ্রিল স্বাধীন বাংলাদেশের অস্থায়ী সরকার আত্মপ্রকাশ করে। ১৭ এপ্রিল অস্থায়ী সরকার শপথ নেয়।
টিক্কা খান স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে গভর্নর হাউসে (আজ যা বঙ্গভবন) থাকত। গুরুগম্ভীর ওই লোকটার দিকে তাকালে নাকি আঁচ করা যেত না লোকটা এতটা নৃশংস হতে পারে। গভর্নর হাউসের তার চুল কাটা নাপিত ছিলেন ধীরেন রায়। একদিন চুল কাটাতে বসে টিক্কা খান নাপিতের নাম জানতে চান। ভীরুকণ্ঠে ধীরেন রায় শুনে টিক্কা খান বলে, ‘তোম হিন্দু হ্যায়?’
ধীরেনের হাঁটু কাঁপুনি দেখে গভর্নর টিক্কা খান পুত্র খালিদকে নির্দেশ দিয়ে বলে, ‘ধীরেনের যেন কোনো অসুবিধা না হয়, তুমি খেয়াল রেখ।’ টিক্কা খানের সামরিক সচিব মেজর জিলানির ভাষায় টিক্কা খান নাকি ব্যতিক্রমী জুতা পায়ে চলত গভর্নর হওয়ার পরও। শক্ত হিলযুক্ত বুট পায়ে পথ চলত অন্তর কাঁপানো আওয়াজ করে। জনগণের কাছে কসাই বলে পরিচিত টিক্কা খানকে ‘খোদাভীরু’ হিসেবে চিত্রিত করে তার সামরিক সচিব দাবি করে, ‘টিক্কা খান নামাজ আদায় করত এবং ধূমপান, মদপান থেকে মুক্ত দূরে থাকত।’
অথচ বাস্তবতা হচ্ছে, টিক্কা খানের ২৫ মার্চ গণহত্যার পর এক কোটি লোক উদ্বাস্তু হয়ে ভারতে আশ্রয় নেয়। ১৯৭১ সালের ৭ আগস্ট তারই পরামর্শে আওয়ামী লীগের ৭৯ জন এমএনএ এবং ১৯৪ জন এমপিএকে অযোগ্য ঘোষণা করে উপনির্বাচন দেওয়া হয়। স্বাধীনতাবিরোধীদের উপনির্বাচনে জয়ীও করা হয় ওই প্রহসনের নির্বাচন করে। যদিও এতকিছু করেও ইয়াহিয়ার সন্তুষ্টি আদায় করতে ব্যর্থ হয় টিক্কা খান। ১২ আগস্ট লোক দেখানো রাজনৈতিক কর্মকাÐ শুরুর নামে টিক্কা খানকে প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়।
কুষ্টিয়ার ডা. এএম মালিককে গভর্নর নিয়োগ করে প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান পূর্ব পাকিস্তানে একটি সরকার গঠন করে। মালিক মন্ত্রিসভায় আওয়ামী লীগের চট্টগ্রাম থেকে নির্বাচিত অধ্যাপক শামসুল হক ও নোয়াখালীর ওবায়দুল্লাহ মজুমদার যোগ দিলে আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কৃত হন। অন্যান্য মন্ত্রী ছিলেন, এএসএম সোলায়মান, মওলানা ইসহাক, একে মোশাররফ হোসেন, আবুল কাশেম, নওয়াজেশ আহমেদ, আখতার উদ্দীন আহমেদ, মওলানা একেএম ইউসুফ, মওলানা আব্বাস আলী খান, জসিম উদ্দীন আহমদ ও মুজিবুর রহমান প্রমুখ।

‘মালিক নামা’
১৯০৩ সালে জন্ম নেওয়া ডা. এএম মালিক যখন যেমন তখন তেমন ধরনের সুবিধাবাদী চরিত্রের অধিকারী ছিল। সেই সূত্রেই তিনি টিক্কা খানের স্থলে পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর হয়। সে ১৯৪০ সালে শেরেবাংলার ও ১৯৪৬ সালে শহীদ সোহরাওয়ার্দীর দলে ভিড়ে বেঙ্গল আইন পরিষদ সদস্য নির্বাচিত হয়। ১৯৪৬ সালে বাংলার প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী তাকে চিফ হুইপ করেন। ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান হলে পূর্ব পাকিস্তানে মুখ্যমন্ত্রী নাজিমুদ্দিনের লোক হয়ে যায় মালিক। ফলে প্রাদেশিক সরকারেরর কৃষি ও মৎস্যমন্ত্রী হয়।
১৯৪৯ সালে নাজিমুদ্দিন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হলে কেন্দ্রীয় সরকারের স্বাস্থ্য, শ্রম ও পূর্তমন্ত্রী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে ডা. আব্দুল মোত্তালিব মালিক। ১৯৫৮ সালে ৭ অক্টোবর সামরিক আইন জারি করেন ইস্কান্দার মীর্জা প্রেসিডেন্টের গদিতে বসলে রাষ্ট্রদূত হয়ে চলে যান সুইজারল্যান্ডে। অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে অস্ট্রিয়া ও যুগোশ্লাভিয়ার তিনি রাষ্ট্রদূত হন। ইস্কান্দার মীর্জাকে হটিয়ে জেনারেল আইয়ুব খান প্রেসিডেন্ট হলেও মালিকের সামনে কোনো সঙ্কট দেখা দেয়নি। ১৯৬৭ সালে ডা. মালিক হলেন চীন, ফিলিপাইনে রাষ্ট্রদূত।
১৯৭১ সালে ১২ আগস্ট পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর হন। আর এর মধ্য দিয়ে গণধিকৃত রাজাকারে পরিণত হয় ডা. মালিক। জীবন বাঁচাতে পারলেও বিচারের সম্মুখীন হতে হয় তাকে। দালাল আইনে বিচারিক আদালত কর্তৃক যাবজ্জীবন কারাদÐে দÐিত করা হয় মুক্তিযুদ্ধকালীন ইয়াহিয়া খানের এ দোসরকে। বঙ্গবন্ধু হত্যার পর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের মুখে জেনারেল জিয়াউর রহমানের বদৌলতে ডা. এএম মালিক কারামুক্ত হন এবং ১৯৭৭ সালে মারা যান।
প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান হতাশ হয়ে পড়ে। ২৩ নভেম্বর শেষ রক্ষার জন্য পাকিস্তানে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে। ৩ ডিসেম্বর ভারতের ওপর বিমান হামলা চালায়। হিতে বিপরীত হয়।
পাল্টা ভারতও বিমান হামলা চালায়। ১৪ ডিসেম্বর ঢাকায় গভর্নর হাউসে (বঙ্গভবন) বিমান হামলা চালানো হয়। দরবার হলে পার্শিয়ান কার্পেট থেকে আগুন ধরে যায় গভর্নর হাউসে। ওই মুহূর্তে গভর্নর মালিক বিদেশি সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপরত ছিলেন। গভর্নর হাউসের পূর্ব-উত্তর কোনায় নিরাপদ ব্যাংকার তৈরি করা হয়েছিল। সেখানে গিয়ে আশ্রয় নিয়ে অবস্থা বেগতিক দেখে দুপুর ১২টার দিকে গভর্নর মালিক ও তার মন্ত্রিসভা পদত্যাগ করে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে আশ্রয় নেন। আন্তর্জাতিক রেডক্রস ঘোষিত ‘নো ওয়ার’ এলাকা ছিল ওই হোটেলটি। ১৬ ডিসেম্বর পরিসমাপ্তি ঘটে পূর্ব পাকিস্তানের। বিকাল পাঁচটায় রেসকোর্স ময়দানে ভারত ও বাংলাদেশ বাহিনীর পূর্বাঞ্চলীয় জেনারেল কমান্ডিং ইন চিফ লেফটেন্যান্ট জেনারেল জগজিৎ সিংহ অরোরার কাছে পাকিস্তান বাহিনীর কমান্ডার লেফটেন্যান্ট জেনারেল আমির আব্দুল্লাহ খান নিয়াজির আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে।
বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে একটা যৌথ কমান্ড বাহিনী গঠনের অনুরোধ করলে ভারত তাতে সায় দেয়। পূর্ব পাকিস্তানে স্থলপথে প্রবেশ করে ভারতীয় বাহিনী।

বঙ্গবন্ধু গ্রেফতার ও স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র
বঙ্গবন্ধুকে গ্রেফতার করার পর নির্মীয়মাণ প্রাদেশিক পরিষদ ভবনে (জাতীয় সংসদ ভবন) রাখা হয় এবং ১ এপ্রিল পিআইয়ের একটা বোয়িং বিমানে করে পশ্চিম পাকিস্তানে নিয়ে যাওয়া হয়। বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে কোনো তথ্য জানার সুযোগ না থাকলেও ১০ এপ্রিল তাঁকে রাষ্ট্রপতি করা হয়। স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র প্রচারিত হয়। যাতে বাংলাদেশের সাড়ে সাত কোটি মানুষের অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার অর্জনের আইনানুগ অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ ঢাকায় যথাযথভাবে স্বাধীনতা ঘোষণা করেন এবং বাংলাদেশের অখÐতা ও মর্যাদা রক্ষার জন্য বাংলাদেশের জনগণের প্রতি উদাত্ত আহŸান জানান।
উপস্থিতি না থাকায় উপরাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ এবং খন্দকার মোশতাক আহমেদ, অর্থমন্ত্রী এম মনসুর আলী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচএম কামারুজ্জামান ১৭ এপ্রিল কুষ্টিয়ার মেহেরপুরের বৈদ্যনাথপুরের আম্রকুঞ্জে অস্থায়ী সরকার শপথ গ্রহণ করে। প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ প্রধান সেনাপতি পদে জেনারেল এমএজি ওসমানীকে নিয়োগ দেন একই দিন। পরবর্তী সময়ে এবং ১১ জন সেক্টর কমান্ডার নিয়োগ দেন তিনি। ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে
পৃথিবীর মানচিত্রে স্বাধীন-সার্বভৌম গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটে। ৩০ লাখ শহীদ আর ২ লাখ
মা-বোনের সম্ভ্রমহানির বিনিময়ে বাঙালির এ স্বাধীনতা। ভুলি কি করে তাই নরঘাতক ইয়াহিয়া খানের জল্লাদ টিক্কা খান ও বিশ^াসঘাতক বাঙালি দেশদ্রোহী ডা. মালিকদের মতো গণহত্যাকারীদের।

ষ সাংবাদিক

Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: