নতুন করোনাভাইরাস : বাড়াতে হবে সচেতনতা

সম্পাদকীয়

করোনার প্রকোপে বিশ^ ওলট-পালট হয়ে গেছে। অর্থনীতি, রাজনীতি, সংস্কৃতি সবখানেই পরিস্থিতি মন্দা। এর মধ্যে করোনার ভ্যাকসিন আবিষ্কার হলে মানুষ আশায়

2020-12-30T22:49:00+00:00
2020-12-30T22:49:00+00:00
 
  বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬,
৩ আষাঢ় ১৪৩৩
বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬
সম্পাদকীয়
নতুন করোনাভাইরাস : বাড়াতে হবে সচেতনতা
প্রকাশ: বুধবার, ৩০ ডিসেম্বর, ২০২০, ১০:৪৯ পিএম   (ভিজিট : ৪২৯)
করোনার প্রকোপে বিশ^ ওলট-পালট হয়ে গেছে। অর্থনীতি, রাজনীতি, সংস্কৃতি সবখানেই পরিস্থিতি মন্দা। এর মধ্যে করোনার ভ্যাকসিন আবিষ্কার হলে মানুষ আশায় বুক বেঁধেছিল। কিন্তু নতুন খবরে আবার হতাশার কালো মেঘ জমেছে। যুক্তরাজ্য, নেদারল্যান্ডস, ডেনমার্ক ও অস্ট্রেলিয়ায় শক্তিসম্পন্ন নতুন ও অধিক সংক্রামক ভাইরাসের একটি প্রজাতি দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে। বিভিন্ন দেশ শক্তিধর করোনার সংক্রমণের ভয়ে ওইসব দেশের সঙ্গে বিমান যোগাযোগ স্থগিত করেছে। ব্রিটেনের প্রায় অর্ধশতাধিক স্থানে করোনাভাইরাসের এই স্ট্রেইনের খোঁজ মিলেছে। করোনা মহামারি দেখা দেওয়ার পর এবারই যে প্রথম রূপান্তর বা জিনগত পরিবর্তনের কারণে ভাইরাসটির সংক্রমণ বেড়েছে, তা নয়। বিভিন্ন তথ্য-উপাও বিশ্লেষণের পর বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন, এবার ছড়িয়ে পড়ার হার আগের তুলনায় ৭০ শতাংশ কিংবা তারচেয়েও বেশি। এই নতুন ধরনের ভাইরাস প্রতিরোধে ব্রিটেনের বিভিন্ন অংশ টিয়ার ফোর বিধিনিষেধ আরোপ করে লোকজনকে ঘরে থাকার নির্দেশ জারি করেছেন প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন। লন্ডন ও দক্ষিণ-পূর্ব ইংল্যান্ডে নতুন ধরনের এই ভাইরাসের দাপট লক্ষ করা গেছে। লন্ডনের ৬২ শতাংশ সংক্রমণই নতুন ধরনের। বিশ^ সংস্থা বলছে, এ নতুন বৈশিষ্ট্যের করোনাভাইরাস কয়েকটি দেশে পাওয়া গেছে। এই ভাইরাসটি বিশ^ব্যাপী দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় বিস্তার ঠেকাতে আন্তঃদেশীয় বহু চলাচল আবারও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। কয়েকদিন আগেও শুধু ফ্লাইট নয়, ইউরোপের যেসব দেশের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের সড়ক, সমুদ্র ও রেল চলাচল চালু ছিল তাও স্থগিত করা হয়েছে। প্রায় ৩০টি দেশ বিভিন্ন মেয়াদে যুক্তরাজ্যের সঙ্গে ফ্লাইট বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে। গণমাধ্যম সুত্রে প্রকাশ, অতি সহজে ও দ্রুত ছড়ানো নতুন বৈশিষ্ট্যর এই নতুন ভাইরাসটিও মিউটিশনের মাধ্যমে পরিবর্তিত হতে পারে। তার বৈশিষ্ট্য এবং আচরণে পরিবর্তন ঘটাতে পারে। যেটি গবেষকদের অবাক করেছে, তা হলো এই ভাইরাসটি অনেক বেশি সহজে এবং দ্রুত ছড়াচ্ছে। মানে ৭০ শতাংশ বেশি ছড়াচ্ছে এ রোগ। ব্রিটিশ সরকারকে যে কারণে আচমকা আবারও কঠোর লকডাউন জারি করতে হলো, তার পেছনে এটাই কারণ। কিন্তু আমাদের দেশে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সাধারণ মানুষ মানছে না অপরিহার্য স্ব্যস্থ্যবিধি। করোনার ভয়াবহতার কথা মানুষ যেন ভুলতে চলেছে। দূরত্ব বজায় রাখা তো দূরের কথা, মুখে মাস্ক পর্যন্ত নেই। রাজধানীর বিভিন্ন রোডে চলাচলকারী পরিবহনে এ চিত্র নিত্যদিনের। এমন অবস্থায় যদি আমরা সচেতন না হই, স্বাস্থ্যবিধি মেনে না চলি কিংবা মাস্ক ব্যবহারে উদাসীন থাকি, তাহলে আরও বড় ঝুঁকির মুখে পড়তে হতে পারে। জনসচেতনতা বাড়াতে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে জরিমানা করা হচ্ছে। এরপরও মাস্ক ব্যবহারের আগ্রহ নেই এমন সংবাদ শিরোনাম উদ্বিগ হওয়ার বিষয়ই বটে। একটি দেশে আইন করে মাস্ক পরাতে হচ্ছে এটা খুবই দুঃখজনক। তবে কোনোরকম মাস্ক বা হ্যান্ড স্যানিটাইজার ছাড়া চলার সময় আমাদের আসেনি। আমাদের দেশবরেণ্য ব্যক্তিত্ব, আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব কতজনকে হারালাম আমরা করোনায়। করোনার কারণে শেষ বিদায় জানাতে যেতে পারিনি আমরা। তারপরও আমাদের সচেতন হতে আপত্তি কোথায়? ধরুন আমি না হয় না মানলাম, সমস্যা কিন্তু শেষ হচ্ছে না। আমার মাধ্যমে ছড়াবে জন থেকে জনে। তারপর মহামারি আকার নেবে। তাই স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে, আপনার আমার জন্য, সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য।

ষ মীর ইমরান আলী
     শিক্ষার্থী, আহছানউল্লা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি   
    বিশ^বিদ্যালয়

Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: