শীতে সড়ক দুর্ঘটনা রোধে করণীয়

সম্পাদকীয়

একটি দুর্ঘটনা সারা জীবনের কান্না। অথচ এই দুর্ঘটনাই যেন আমাদের প্রতিদিনের নিত্যসঙ্গী। প্রতিনিয়ত এসব দুর্ঘটনায় ঝরে যাচ্ছে হাজারো তাজা প্রাণ।

2020-12-30T22:49:00+00:00
2020-12-30T22:49:00+00:00
 
  বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬,
৩ আষাঢ় ১৪৩৩
বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬
সম্পাদকীয়
শীতে সড়ক দুর্ঘটনা রোধে করণীয়
প্রকাশ: বুধবার, ৩০ ডিসেম্বর, ২০২০, ১০:৪৯ পিএম   (ভিজিট : ৪৩৭)
একটি দুর্ঘটনা সারা জীবনের কান্না। অথচ এই দুর্ঘটনাই যেন আমাদের প্রতিদিনের নিত্যসঙ্গী। প্রতিনিয়ত এসব দুর্ঘটনায় ঝরে যাচ্ছে হাজারো তাজা প্রাণ। তিলে তিলে গড়ে তোলা ফুলের মতো সাজানো স্বপ্নগুলো এক নিমিষেই শেষ হয়ে যাচ্ছে। কত নারী অকালে স্বামী হারাচ্ছে তার কোনো হিসাব নেই। সন্তান হারাচ্ছে পিতা-মাতা, আবার পিতা-মাতা হারাচ্ছে সন্তান। ভাই হারাচ্ছে বোন আর বোন হারাচ্ছে ভাই। স্বামী হারাচ্ছে স্ত্রী আর স্ত্রী হারাচ্ছে স্বামী। বর্তমান পরিস্থিতিতে এ যেন নিষ্ঠুর মরণ খেলা হয়ে দাঁড়িয়েছে। অথচ আমাদের একটু সচেতন এবং দায়িত্বশীল হলেই এ মরণ খেলা অনেকাংশে রোধ করা সম্ভব। বিশ^ স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য মতে, সড়ক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশে প্রতিদিন গড়ে ৫৫ জন ব্যক্তি প্রাণ হারাচ্ছে। বাংলাদেশ রিসার্চ ইনস্টিটিউটের তথ্য মতে, প্রতিবছর সড়ক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশে প্রায় ১২ হাজার মানুষ প্রাণ হারাচ্ছে আর আহত হয় প্রায় ৩৫ হাজার মানুষ। কালের আবর্তনে এর সংখ্যা বেড়েই চলেছে।
বিশেষ করে, শীত মৌসুম আসলেই সড়ক দুর্ঘটনা কয়েকগুণ বেড়ে যায়। শীতের ভোরে শিশির কণা, শীতল মৃদু হাওয়া আর কুয়াশা ধূম্রজালে মৃত্যুর ফাঁদ হয়ে ওঠে দেশের বিভিন্ন মহাসড়ক। শিশিরকণা আর মৃদু ধোঁয়াচ্ছন্ন পরিবেশের কারণে ঘটে ভয়াবহ হৃদয়বিদারক এবং মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। বিশেষ করে, পাহাড়ি এলাকার আঁকাবাঁকা মোড়গুলো একেকটা মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়। কুয়াশাচ্ছন্ন ঘোলাটে পরিবেশে বিপরীত দিক থেকে আগত গাড়ির প্রকৃত গতি নির্ণয় করা অসম্ভব হয়ে পড়ে। যার ফলে ঘটে ভয়াবহ দুর্ঘটনা। আঁকাবাঁকা পথের মোড়গুলোতে নেই কোনো দর্পণ এবং লাইটিংয়ের ব্যবস্থা। যার পরিপ্রেক্ষিতে দুর্ঘটনার সম্ভাবনা আরও বেড়ে যায়। শীতের কুয়াশার মধ্যে গাড়ি চালকদের যেসব বিষয়গুলো খেয়াল রাখতে হবেÑ ১.গাড়ির গতিসীমা নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রাখতে হবে। ২. ভোরে কিংবা রাতে কুয়াশার জন্য কিছু না দেখতে পেলে গাড়ি বন্ধ করে রাস্তার পাশে সুরক্ষিত জায়গায় দাঁড়িয়ে যেতে হবে। ৩. গাড়ি চালানোর পূর্বে লুকিং গ্লাসগুলো সঠিক অবস্থানে আছে কি না তা নির্ণয় করতে হবে। ৪. গাড়ির উইন্ডশিল্ড কিছুসময় পরপর পরিষ্কার করতে হবে। ৫. কুয়াশার মধ্যে ফগ বাতি জ্বালিয়ে রাখতে হবে। ৬. লেন পরিবর্তনে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে ইত্যাদি।  আমাদের সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে এগিয়ে আসতে হবে। রাষ্ট্রীয় পর্যায় থেকে শুরু করে বেসরকারি পর্যায়ে, সামাজিক পর্যায় থেকে ব্যক্তিগত পর্যায় পর্যন্ত অর্থাৎ প্রত্যেককে তার নিজ নিজ অবস্থান থেকে জনসচেতনতা তৈরি করতে হবে। সড়ক দুর্ঘটনা এখন জাতীয় মহামারি হিসেবে দেখা দিয়েছে। একটি প্রতিবেদনে উঠে এসেছে ২০১৮ সালের তুলনায় ২০১৯ সালে সড়ক দুর্ঘটনা ১ হাজার ৫৯৯টি বেশি হয়েছে। ২০১৮ সালে ৩ হাজার ১০৩টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৪ হাজার ৩৯ জন ও ৭ হাজার ৪২৫ জন আহত হয়েছিল।
এ পরিসংখ্যান যেমন দুঃখজনক তেমনি উদ্বেগের কারণও বটে। দুর্ঘটনা এড়াতে চালকদের তীক্ষè নজর রাখতে হবে। পাশাপাশি ট্রাফিক আইনের সঠিক প্রয়োগ করতে হবে। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ^বিদ্যালয়ের একটি গবেষণায় দেখা যায়, সড়ক দুর্ঘটনার ৫৩ শতাংশ ঘটে অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালানোর কারণে, ৩৭ শতাংশ চালকের বেপরোয়ার কারণে এবং ১০ শতাংশ গাড়ির ত্রুটির কারণে। আমাদের সচেতনতার বড় অভাব। এমন পরিস্থিতি রোধকল্পে আমাদের করণীয় হলোÑ
১. মালিকপক্ষকে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত চালক নিয়োগ দিতে হবে।
২. লাইসেন্স নেই এমন গাড়ির রুট পারমিট বাতিল করতে হবে। ৩. লাইসেন্সবিহীন চালকদের আইনের আওতায় আনতে হবে। ৪. ফিটনেসবিহীন ও যান্ত্রিক ত্রুটিপূর্ণ গাড়ির রুট পারমিট বাতিল করতে হবে। ৫. চালকদের ডোপ টেস্ট করে গাড়ি চালানোর অনুমতি দিতে হবে। ৬. ট্রাফিক ব্যবস্থায় গতি আনতে হবে। ৭. গাড়ির গতি নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রাখতে ট্রাফিক কাজে নিয়োজিত কর্মকর্তাদের সর্বোচ্চ দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে হবে। ৮. ওভারটেকিংয়ের মনোভাব পরিহার করতে হবে। ৯. চালকের গাড়ি চালানো অবস্থায় ফোনে বা যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলা যাবে না। ১০. পথচারীদের ট্রাফিক আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকতে হবে এবং রাস্তা পারাপারে ফুট ওভার ব্রিজ ব্যবহার করতে হবে। ১১. যাত্রীদের প্রয়োজনীয় সেফটি ব্যবহার করতে হবে। যেমনÑ সিট বেল্ট, হ্যামলেট, মাস্কসহ ইত্যাদি। ১২. বিশেষ করে শীত মৌসুমে চালক ও পথচারীদের বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। সর্বোপরি চালক, পথচারী, যাত্রী এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সড়ক দুর্ঘটনা অনেকাংশে রোধ করা সম্ভব।

ষ হাচান মাহমুদ শুভ
     শিক্ষার্থী, ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ




Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: