বায়ান্নর ভাষা আর একাত্তরের দেশ এই দুটি মিলে হয়েছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশ মানে মুক্তিযুদ্ধ, মুক্তিযুদ্ধ মানে স্বাধীনতা আর স্বাধীনতা মানে বিজয়। বিজয়ের মাস বাঙালির জীবনে সবচেয়ে বড় একটি অর্জনের মাস। এই মাস আমাদের বিজয়ের মাস হলেও এর পেছনের গল্পটা মোটেও মসৃণ ছিল না। বিজয়ের কথা স্মরণ করতেই মনে হয় ১৯৭১ সালের সেই দিনটির কথা। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর কর্মকাণ্ড বর্বর যুগকেও হার মানায়। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ মধ্য রাতে পাকিস্তান হানাদার বাহিনী নিরস্ত্র, নিরীহ, খেটে খাওয়া মানুষকে হত্যা করার কথা। যে স্মৃতি আমাদের চোখে আজো জল নিয়ে আসে।
এরপর ২৬ মার্চ প্রথম প্রহরে বাঙালির অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশকে স্বাধীনতার ডাক দেন। তার ডাকে সাড়া দিয়ে ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে ঐক্যবদ্ধভাবে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে ও দীর্ঘ ৯ মাসের সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধে ৩০ লাখ শহীদের আত্মত্যাগ ও দুই লাখ মা-বোনের ইজ্জতের বিনিময়ে অর্জিত হয় বাংলাদেশের স্বাধীনতা। পাকিস্তান হানাদার বাহিনী যখন বুঝতে পেরেছিল তাদের পরাজয় নিশ্চিত তখন তারা একটি নীল নকশা তৈরি করে। এ দেশকে মেধাশূন্য করার জন্য ১৪ ডিসেম্বর দিনটিকে বেছে নেয়। সে দিন রাতে রাজাকার, আলবদর, আলশামস বাহিনীর সহায়তায় এই দেশের শ্রেষ্ঠ সন্তানদের বেছে বেছে হত্যা। যে দিনটা আমাদের কাছে শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস হিসেবে পরিচিত।

কথায় আছে দুঃখের পরে সুখ আসে। ঠিক তেমনি বিজয়ের মাস এলে একদিকে বিজয়ের আনন্দ, অন্যদিকে স্বজন হারানোর বেদনা আমাদের মনে ভর করে। এই হারানোকে আজ শক্তিতে রূপান্তরিত হয়েছে। বিজয় মানে ফুটন্ত এক টকটকে লাল গোলাপ। যার রক্তাভ লালবর্ণ বহন করে মহান আত্মত্যাগের পরিচয়। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর বাংলাদেশকে বলা হতো ‘তলাবিহীন ঝুড়ি’ আজ আমরা দেখিয়ে দিয়েছি কীভাবে নতুন ঝুড়ি তৈরি করতে হয়। দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হয় আর এসব শক্তি পেয়েছি আমরা আমাদের বিজয়ের মাধ্যমে।
বিজয়ের মাস ডিসেম্বর, আমাদের একটি তাৎপর্যপূর্ণ মাস তাই সবার কাছে এর তাৎপর্য তুলে ধরতে হবে। বিজয় হলো কখনও অর্জন, কখনও উল্লাস, কখনও বা নিজের অবস্থান তৈরি করা। আর আমার কাছে বিজয় মানেই স্বাধীনতা, আর স্বাধীনতা মানেই বঙ্গবন্ধু।
আজকের এই প্রজন্ম বাংলাদেশকে পেয়েছে একটি সুন্দর, সাজানো গোছানো রাষ্ট্র হিসেবে। কিন্তু এই সোনার বাংলা গড়ার পেছনে দেশের সূর্য সন্তানদের ত্যাগ ও তিতীক্ষা তরুণ প্রজন্মের কাছে তুলে ধরাই বিজয়ের মাসের মূল তাৎপর্য। আজকের প্রজন্মই নেতৃত্ব দেবে আগামীকে। তাই এই বিজয়ের মাসকে শক্তি করে তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে আসতে হবে। সব বাধা ভেদাভেদ ভুলে অসাম্প্রদায়িকতা ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করতে হবে। গড়তে হবে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা।
ষ রাজু আহমেদ
আইন বিভাগ
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ^বিদ্যালয়