অতিথি পাখি শিকার আইন স্বীকৃত নয়

সম্পাদকীয়

প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্যের একটি বিরাট অংশজুড়ে রয়েছে পক্ষিকুলের অবস্থান। শুধু প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষাই নয় বরং নানাভাবে শোভা বর্ধনকারী এই পাখি।

2020-12-30T22:49:00+00:00
2020-12-30T22:49:00+00:00
 
  বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬,
৩ আষাঢ় ১৪৩৩
বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬
সম্পাদকীয়
অতিথি পাখি শিকার আইন স্বীকৃত নয়
প্রকাশ: বুধবার, ৩০ ডিসেম্বর, ২০২০, ১০:৪৯ পিএম   (ভিজিট : ৯৩৭)
প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্যের একটি বিরাট অংশজুড়ে রয়েছে পক্ষিকুলের অবস্থান। শুধু প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষাই নয় বরং নানাভাবে শোভা বর্ধনকারী এই পাখি। প্রাণিবিজ্ঞানীর মতে, দুই ধরনের পাখি হয়ে থাকেÑ আবাসিক এবং অনাবাসিক পাখি। ৬৫০ প্রজাতির পাখির মধ্যে বাংলাদেশে অবস্থান করে ৩৬০ প্রজাতি। প্রতিবছর নভেম্বর মাসের শুরুর দিকে উত্তর মেরু, সাইবেরিয়া, ইউরোপ, এশিয়ার কিছু অঞ্চল ও হিমালয়ের আশপাশের বিভিন্ন শীতপ্রধান অঞ্চল হতে হাজার হাজার মাইল পাড়ি দিয়ে প্রায় ৩০০ প্রজাতির পাখি এদেশে আগমন করে শুধু নিরাপদ আশ্রয় ও খাদ্যের সন্ধানে। কেননা, ওইসব দেশে শীতের আবহাওয়া অত্যধিক মাত্রায় অসহনীয় এবং নিদারুণ খাদ্যের অভাবে এসব অতিথি পাখি নিজ বাসস্থান ছেড়ে আসার পেছনে মূল কারণ।
সেক্ষেত্রে বাংলাদেশের আবহাওয়া নাতিশীতোষ্ণ হওয়ায় এসব অনাবাসিক পাখির জন্য উত্তম আশ্রয়স্থল হিসেবে পরিগণিত। আন্তর্জাতিকভাবে জলচর পাখির জন্য স্বীকৃত ২৮টি স্থান বাংলাদেশের সীমানায় রয়েছে। যেসব অতিথি পাখি বাংলাদেশে প্রতিবছর আসে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলোÑ জলপিপি, পানকৌড়ি, বক, ডাহুক, বালিহাঁস, টেকুর, বনহুর, কোরা, গুলিন্দা, হুটটিটি, কোম্বডাক প্রভৃতি। এসব অতিথি পাখির বিচরণ ক্ষেত্র হয়ে ওঠে দক্ষিণাঞ্চলের সুন্দরবন, মৌলভীবাজারের হাকালুকি হাওর, সিরাজগঞ্জের চলনবিল, চিড়িয়াখানার জলাশয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ^বিদ্যালয়ের বিলসহ দেশের বিভিন্ন স্থানের খাল, বিল, হাওর-বাঁওড়। পাখিদের কলতান, ডানা ঝাপটানোর শব্দ প্রকৃতির পরিবেশকে নতুনরূপে সজ্জিত করে, আর এই মনোরম পরিবেশ উপভোগ করতে দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে আসে পাখিপ্রেমীরা। সবকিছু মিলিয়ে প্রকৃতি সেজে ওঠে সম্পূর্ণ নতুন সাজে। আর গড়ে ওঠে পাখির এক অভয়ারণ্য।এ রকম সময় কিছু অসাধু ব্যবসায়ী,  পেশাদার শিকারি এবং নীতি বিবর্জিত শৌখিন মানুষ পাখি নিধনে মত্ত হয়। শিকার করার উপায় হিসেবে বন্দুকের গুলি, কারেন্ট জাল, বিষটোপ ও নানা রকমের ফাঁদ ব্যবহার করে। এক অভিনব কৌশল হিসেবে বাঁশির সুর পাখির ডাকের সঙ্গে মিলিয়ে করা হয়। যে কারণে ভুল করে ফাঁদে পড়ে এসব অতিথি পাখি। পাখি নিধন করে তা চড়া দামে বাজারে বিক্রি করা হয়। আবার অনেক সময় হাত বদলের মাধ্যমে বিভিন্ন রেস্তারাঁয় স্থান পায় এসব পাখির মাংস। ১৯৭৪ সালের বন্যপ্রাণী রক্ষা আইন ও ২০১২ সালের বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী পাখি শিকার করা ফৌজদারি অপরাধ। এ সম্পর্কিত আইনে বলা হয়েছে যে, সর্বোচ্চ সাজা ১ বছরের কারাদণ্ড এবং ১ লাখ টাকা জরিমানা। একই কাজের পুনরাবৃত্তি হলে ২ বছরের কারাদণ্ড, ২ লাখ টাকা এবং উভয় দণ্ড প্রযোজ্য ক্ষেত্রবিশেষে। দুঃখের বিষয় যে, আইন প্রণয়ন করা হলেও তা যথাযথ প্রয়োগ করা হচ্ছে না। স্থানীয় প্রশাসন ও কর্তৃপক্ষ এসব বিষয়ে উদাসীন। সাধারণ জনগণ এক্ষেত্রে অসচেতন। এই অসচেতনতা আর উদাসীনতাই দায়ী পাখি নিধনের পেছনে। দিন দিন অসাধু ব্যবসায়ী আর পেশাদার শিকারিদের ঔদ্ধত্য বেড়ে যাচ্ছে। যার কারণে অতিথি পাখির আগমন কমে আসছে। আর এভাবে যদি চলতে থাকে, প্রশাসন যদি কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ না করে তাহলে দেশীয় অনেক প্রজাতি বিলুপ্ত হয়ে যাবে এবং অতিথি পাখির আগমন একটা সময় থেমে যাবে। আমাদের সবার উচিত এ বিষয়ে সচেতন হওয়া।

ষ আলিসা জাহান মিম
    শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়




Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: