উন্নয়নের অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকুক

সম্পাদকীয়

অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে সরকার। এতে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও স্বনির্ভর জাতি গঠনের ওপর বিশেষভাবে গুরুত্বারোপ

2020-12-31T22:20:00+00:00
2020-12-31T22:20:00+00:00
 
  বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬,
৩ আষাঢ় ১৪৩৩
বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬
সম্পাদকীয়
উন্নয়নের অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকুক
অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা অনুমোদন
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৩১ ডিসেম্বর, ২০২০, ১০:২০ পিএম   (ভিজিট : ৪৩০)
অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে সরকার। এতে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও স্বনির্ভর জাতি গঠনের ওপর বিশেষভাবে গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) বৈঠকে এটি অনুমোদন দেওয়া হয়।
প্রধানমন্ত্রী এবং এনইসির চেয়ারপারসন শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে সভাটি অনুষ্ঠিত হয় রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কেন্দ্রে। প্রধানমন্ত্রী গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সভায় সংযুক্ত হন। নতুন এই পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা গত জুলাই থেকে ২০২৫ সালের জুলাই মেয়াদে কার্যকর থাকবে।
অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা বাস্তবায়নে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৬৪ হাজার ৯৫৯ দশমিক ৮ বিলিয়ন টাকা। এর মধ্যে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে আসবে ৮৮ দশমিক ৫ শতাংশ। আর বিদেশি উৎস থেকে আসবে মাত্র ১১ দশমিক ৫ শতাংশ। মোট বিনিয়োগের মধ্যে সরকারি খাত থেকে আসবে ১২ হাজার ৩০১ দশমিক ২ বিলিয়ন টাকা, এর আকার ১৮ দশমিক ৯ শতাংশ। আর বেসরকারি খাত থেকে আসবে ৫২ হাজার ৬৫৮ দশমিক ৬ বিলিয়ন টাকা, এর আকার ৮১ দশমিক ১ শতাংশ।
পরিকল্পনায় ২০২০-২১ অর্থবছরে ৭ দশমিক ৪০ শতাংশ, ২০২১-২২ অর্থবছরে ৭ দশমিক ৭০ শতাংশ, ২০২২-২৩ অর্থবছরে ৮ শতাংশ, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ৮ দশমিক ৩২ শতাংশ এবং ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৮ দশমিক ৫১ শতাংশ জিডিপির প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এই পরিকল্পনায় ১ কোটি ১৩ লাখ ৩০ হাজার কর্মসংস্থানের কথা বলা হয়েছে। এর মধ্যে ৩২ লাখ ৫ হাজারের কর্মসংস্থান হবে বিদেশে। পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০২৫ অর্থবছরে দারিদ্র্যের হার ১৫ দশমিক ৬ শতাংশে নামিয়ে আনা হবে।
চরম দারিদ্র্যের হার নামিয়ে আনা হবে ৭ দশমিক ৪ শতাংশে। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) বাস্তবায়নে সরকারের আলাদা কোনো পরিকল্পনা নেই। এই অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনাই হবে এসডিজি বাস্তবায়নের ভিত্তি। অর্থনৈতিক সূচক বিষয়ে বলা হয়েছে, বছরে গড় জিডিপির প্রবৃদ্ধি হবে ৮ শতাংশ হারে, আর মেয়াদান্তে হবে ৮ দশমিক ৫১ শতাংশ। দারিদ্র্যের হার ১৫ দশমিক ৬ শতাংশ ও অতিদারিদ্র্যের হার ৭ দশমিক ৪ শতাংশে দাঁড়াবে। ২০২১ সালের মধ্যে জনগণকে শতভাগ বিদ্যুৎ সেবার আওতায় আনা এবং মেয়াদান্তে ৩০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হবে।
আমরা জানি, প্রথম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় ৮৮ শতাংশ বিদেশি অর্থায়ন, আর মাত্র ১২ শতাংশ দেশীয় অর্থায়নের ওপর নির্ভর করা হয়েছিল। এবার কিন্তু চিত্র উল্টো। এবারের পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় অভ্যন্তরীণ সম্পদের ওপর নির্ভর করা হয়েছে প্রায় ৯০ ভাগ। মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী দল আওয়ামী লীগ দেশে গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি জনগণের ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করেছে। দেশকে পরিচালিত করেছে উন্নয়নের ধারায়।
উন্নয়নের গতিধারা সচল হওয়ায় গ্রামের সাধারণ মানুষ এর সুফল পাচ্ছে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত যে বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন, বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার হাত ধরে সেই লক্ষ্য পূরণে এগিয়ে যাচ্ছে দেশ। আমরা আশা করি, বর্তমান ধারা অব্যাহত থাকলে নবম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনায় শতভাগ অভ্যন্তরীণ সম্পদের ওপর নির্ভর করা হয়তো সম্ভব হবে। আর এর মাধ্যমে আমরা স্বনির্ভর ও আত্মমর্যাদাশীল জাতি হিসেবে বিশে^ মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারব।

Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: