করোনার ধাক্কা কতটা ব্যাপক ও গভীর সেটা অনুধাবন করতে প্রয়োজন পড়ে না বিশেষজ্ঞ হওয়ার। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে শিক্ষা-সংস্কৃতিতে লঙ্কানরা সবচেয়ে এগিয়ে। কোভিডের ধাক্কায় এই দেশটা হয়ে গেল দেউলিয়া। হতাশায় আচ্ছন্ন দেশটিকে জাগিয়ে তুলল ক্রিকেট। ভারত, পাকিস্তানের মতো পরাশক্তিদের পেছনে ফেলে সর্বশেষ এশিয়া কাপ শিরোপা জিতেছে শ্রীলঙ্কা।
দেশটির সাধারণ মানুষের উঠে দাঁড়ানোর শক্তি হয়ে উঠল ক্রিকেট। এমনিভাবে বিশ্ব ব্যাপী করোনার ধাক্কা সামলে ওঠার পথে সবচেয়ে কার্যকর ভূমিকা রেখেছে ক্রীড়াঙ্গন। কোনো বাধাই মানুষকে আটকে রাখতে পারে না। প্রতিকূল পরিস্থিতিতে সাময়িক সময়ের জন্য মানুষ থমকে দাঁড়ায়। কিন্তু আবারও মানুষ জেগে ওঠে স্ব-মহিমায়। সব বাধা-বিপত্তি পেছনে ফেলে মানুষ সামনের দিকে এগিয়ে যায় তার মূলে থাকে নিষ্ঠা-আবেগ-আত্মবিশ্বাস সর্বোপরি স্বপ্ন। আর খেলার মাঠ হয়ে ওঠে মানুষের জেগে ওঠার জিয়নকাঠি।
করোনা-ক্রান্তিকালে স্বাভাবিক জীবনে ফেরাটা হয়ে ওঠে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। বিশ্ব ব্যাপী অর্থনৈতিক মন্দা চরমে। জীবন-জীবিকার সংগ্রামে গলদঘর্ম মানুষ। কিন্তু মানুষ হারতে পারে না। পূর্বপুরুষদের শিক্ষা, সভ্যতার গতিপথ সবসময় সম্মুখ-পানে। হঠাৎ করেই মুখ থুবড়ে পড়ল লঙ্কান অর্থনীতি। মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ার দশা দেশটির। এখান থেকে উঠে দাঁড়ানোর জন্য যে শক্তি, সাহস দরকার সেটা কোত্থেকে আসবে, বড় হয়ে উঠল আর স্বপ্ন খুব বড় আর ক্রিকেট হয়ে উঠল তাদের এগিয়ে চলার পাথেয়।
আর্থিকভাবে দেউলিয়া হলেও মানসিকভাবে লঙ্কানদের দেউলিয়া হতে দেয়নি ক্রিকেট। ২০২২ সালের ১১ সেপ্টেম্বর। দুবাইয়ে এশিয়া কাপ ক্রিকেটে শিরোপার লড়াইয়ে পাকিস্তানের মুখোমুখি হলো শ্রীলঙ্কা। ম্যাচে ২৩ রানে জিতে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার কৃতিত্ব দেখাল দেশটি। ম্যাচ শেষে চ্যাম্পিয়ন অধিনায়ক দাসুন শানাকা বললেন, এই বিজয় শ্রীলঙ্কার সাধারণ মানুষের। শত প্রতিকূলতার মধ্যেও তারা আমাদের সমর্থন দিয়ে গেছে। আমাদের অকুণ্ঠ সমর্থন দেওয়ার জন্য দেশবাসীকে ধন্যবাদ। আবেগঘন ভাষায় লঙ্কান অধিনায়ক বললেন, আমরা দেশের মানুষকে গর্বিত চেয়েছি। দেশের মানুষ আমাদের কাছে এমন কিছুই প্রত্যাশা করেছিল। লঙ্কান ক্রিকেটের প্রতি দেশের মানুষের যে ভালোবাসা চরম দুঃসময়ে সেই ভালোবাসাই ফিরিয়ে দিয়েছে সে দেশের ক্রিকেটাররা।
মানুষের এগিয়ে চলার চালিকাশক্তি ভালোবাসা। ভালোবাসার স্রোতে ভেসে যায় দুঃস্বপ্ন, দুঃসময়। খ্যাতনামা অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেনের সেই কালজয়ী থিওরি, দুর্ভিক্ষের জন্য দায়ী যোগাযোগের অভাব। মানুষে মানুষে বিভেদই সব অভাবের মূলে। যার মর্মকথা, যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতা তৈরি হয় ভালোবাসার অভাব থেকেই। ক্রান্তিকাল অতিক্রম করার ক্ষেত্রে মানুষের সবচেয়ে বড় অস্ত্র (!) ভালোবাসা। আর ভালোবাসার ডাক উপেক্ষা করার সাধ্য কারও নেই।
বিশ্বফুটবলে বাংলাদেশের অবস্থান একেবারেই তলানিতে। কিন্তু আমাদের দেশের ক্রীড়াপ্রেমী জনগোষ্ঠীকে উপেক্ষা করবে এমন শক্তি কারও নেই। এই বিপুল ক্রীড়াপ্রেমীদের কারণেই কাতার বিশ্বকাপে বাংলাদেশের সরব উপস্থিতিকে আলাদা মর্যাদা দিতে বাধ্য হয়েছে সবাই। সম্প্রতি ঢাকায় আর্জেন্টিনার দূতাবাস উদ্বোধন করছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী সান্টিয়াগো ক্যাফিয়েরো। বাংলাদেশে আর্জেন্টিনা দূতাবাস বন্ধ করে দেওয়া হয় ১৯৭৮ সালে। সুদীর্ঘ সাড়ে চার দশক পর বাংলাদেশে তাদের দূতাবাস খুলল আর্জেন্টিনা। আর এটা সম্ভব হয়েছে আমাদের দেশের ফুটবলপ্রেমীদের কল্যাণে।
লিওনেল মেসিদের বিশ্বকাপ জয়ের পর বাংলাদেশের মানুষের উচ্ছ্বাস-অভিভূত করে আর্জেন্টাইনদের। দেশটির ফুটবল ফেডারেশনের অফিসিয়াল পেজে উল্লাসরত বাংলাদেশের মানুষের ছবি টুইট করে বলা হয়, ‘আমাদের দলকে সমর্থন করার জন্য আপনাদের ধন্যবাদ।’ আর্জেন্টিনা থেকে বাংলাদেশের দূরত্ব প্রায় ১৮ হাজার কিলোমিটার। এই দূরত্ব ঘুচিয়ে দিয়েছে ফুটবল। সর্বশেষ খবর অনুযায়ী, বাংলাদেশের ফুটবলকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য দিয়েগো ম্যারাডোনা-মেসিদের দেশ বাংলাদেশকে অব্যাহতভাবে সাহায্য-সহযোগিতা। এখানেই শেষ নয়। দুই দেশের মধ্যে ব্যবসা-বাণিজ্যের সম্ভাবনাও বেড়েছে অনেক। এরই মধ্যে দ্বিপক্ষীয় ব্যবসা-বাণিজ্য নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনাও হয়েছে বেশ কয়েক দফা।
বাংলাদেশ নিয়ে প্রায়শই বলা হয় বিভক্ত দেশ। ছোট-বড় বিভক্তির জালে আটকা পড়ে আছে লাল-সবুজের দেশ। এটা যেমন সত্যি, এর পাশাপাশি আছে আরও কিছু সত্যি। ক্রীড়ার সাফল্য পুরো দেশকে একত্রিত করতে পারে এর নজির আছে অনেক। ২০২২ সালের বাংলার মেয়েরা সাফ শিরোপা জেতার পর জনতরঙ্গে ভেসেছে টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া।
নারী সাফ ফুটবলে এর আগের পাঁচ আসরে প্রতিবারই ট্রফি জয়ের কৃতিত্ব দেখায় ভারত। গ্রুপ পর্বে আগের আসরগুলোর নিয়মিত চ্যাম্পিয়ন ভারতকে ৩-০ গোলে হারিয়ে শিরোপার পথে অনেকটাই এগিয়ে যায় বাংলার মেয়েরা। শিরোপার লড়াইয়ে স্বাগতিক নেপালকে ৩-১ গোলে হারিয়ে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে মেয়েরা। সাফ নারী ফুটবলে ভারতের বাইরেও চ্যাম্পিয়ন হওয়া যায়, এটা প্রমাণ করে ছাড়েন সাবিনা-কৃষ্ণারা। এই ফাইনালকে সামনে রেখে বাংলাদেশ দলের অন্যতম ফুটবলার সানজিদা আখতারের ফেসবুক স্ট্যাটাস পুরো দেশবাসীকে একটা স্বপ্নের ঘোরের মধ্য নিয়ে আসে। তার ভাষায়, ছাদখোলা চ্যাম্পিয়ন বাসে ট্রফি নিয়ে না দাঁড়ালেও চলবে, সমাজের টিপ্পনীকে একপাশে রেখে যে মানুষগুলো আমাদের সবুজ ঘাস ছোঁয়াতে সাহায্য করেছে, তাদের জন্য এটি জিততে চাই। আমাদের এই সাফল্য হয়তো আরও নতুন কিছু সাবিনা-কৃষ্ণা-মারিয়া পেতে সাহায্য করবে। এরপর ছাদখোলা বাসের আনন্দমেলা। রাস্তার দুই পাশে জনতরঙ্গের। ঢেউয়ে ভাসতে ভাসতে এগিয়ে চলল সাবিনা-সানজিদা-মারিয়াদের বহন করা খোলা বাস।
কাতার বিশ্বকাপ আয়োজনকে একটা দুঃসাহসিক অভিযাত্রা হিসেবেই দেখেছে বেশিরভাগ ফুটবল অন্ত দেশ। সমালোচনা ওঠে চরমে। বিশ্বমন্দার সময়ে বিশাল খরচের বোঝা। প্রথমবারের মতো শীতকালে বিশ্বকাপ আয়োজন। ফুটবলের কোনো ঐতিহ্যই নেই। সর্বোপরি ছোট্ট দেশ এত বিশাল যজ্ঞ কীভাবে সামলাবে এ নিয়ে ওঠে অনেক কথাই। কাতার বিশ্বকাপে খরচের হিসাবটা একটু চোখ বুলিয়ে নেওয়া যাক। এই বিশ্বকাপে খরচ ২২০ বিলিয়ন ডলার। এর আগে ২০১৮ সালের রাশিয়া বিশ্বকাপের চেয়ে ২০ গুণ বেশি ব্যয়বহুল ছিল ২০২২ বিশ্বকাপ। এর আগ পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি খরুচে বিশ্বকাপ ধরা হয় ২০১৪ সালের ব্রাজিল আসরকে। ওই বিশ্বকাপে খরচ হয়েছিল ১৫ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ ব্রাজিল বিশ^কাপের চেয়ে ১৫-১৬ গুণ বেশি খরচ হয়েছে কাতার বিশ্বকাপে।
এত বিপুল খরচের পরও আর্থিক দিক থেকে লাভের অঙ্কটাই বেশি। কাতার বিশ্বকাপ ঘিরে কেবল বাণিজ্যিক চুক্তি থেকেই ৭৫০ কোটি মার্কিন ডলার আয় হয়েছে ফিফার। ২০১৮ সালে রাশিয়া বিশ্বকাপের আয়ের তুলনায় এটি অন্তত ১০০ কোটি ডলার বেশি। বিশ্বকাপ ঘিরে চার বছর পরপর চুক্তি পুনর্বিন্যাস করে ফিফা। ওই চার বছরে স্পন্সরদের কাছ থেকে ৬৪০ কোটি ডলার আয় হয় ফিফার। কাতার বিশ্বকাপ শেষে পরের চার বছরে বৈশ্বিক ফুটবল সংস্থাটির আয় প্রথমবারের মতো ১ হাজার ১০০ কোটি ডলার ছাড়াবে বলে আশা করা হচ্ছে। এ ছাড়াও প্রযুক্তির ব্যবহার, নতুনত্ব আর অভিনবত্বে অতীতকে টেক্কা দিয়েছে কাতার বিশ্বকাপ।
কাতার বিশ্বকাপ আয়োজনের দামামা বেজে ওঠার পর থেকেই সাংস্কৃতিক সংঘাত নেয় চরম আকার। বিশ্বের সবচেয়ে রক্ষণশীল জনপদ আরব বিশ্ব। লৈঙ্গিক অসমতা, বিদেশি শ্রমিকদের মানবাধিকার লঙ্ঘন ছাড়াও কঠোর বিধিনিষেধের মধ্য দিয়ে যেতে হয় নাগরিকদের। মানবাধিকার ও লৈঙ্গিক অসমতার দাবি তুলে কাতার বিশ্বকাপ বয়কটের ডাক দেয় অনেক সংগঠন। স্টেডিয়ামে বসে বিয়ার পানের ওপর আরোপ করা হয় নিষেধাজ্ঞা। উদ্বোধন অনুষ্ঠানে পারফর্ম করতে হলে পুরো শরীর ঢাকা থাকতে হবে দেওয়া হয় এমন নির্দেশনা। আর এই ইস্যুতে শাকিরার মতো দুনিয়া কাঁপানো পপ স্টার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে পারফর্ম করেননি।
কাতার সংস্কৃতির সমালোচনা নিয়েও খোদ পশ্চিমা বিশ্বেই দেখা দেয় মতভেদ। ধরা যাক ফুটবলের অন্যতম প্রধান দুই দেশ পশ্চিম ইউরোপের নেদারল্যান্ডস ও ফ্রান্স। কন্ডিশন, ফুটবল বিরুদ্ধ পরিবেশ, মানবাধিকার লঙ্ঘন এ ধরনের ইস্যুগুলোকে সামনে তুলে ধরেছেন নেদারল্যান্ডসের কোচ ফন গাল। তিনি বলেন, ‘এটা মোটেও ভালো বিশ্বকাপ নয়। এই ইস্যুতে আবার ভিন্নমত ফ্রান্সের।’ ফ্রান্স প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ বলেছেন, ‘খেলাধুলাকে অবশ্যই রাজনীতির বাইরে রাখতে হবে। যে দেশে বিশ্বকাপ হচ্ছে সেখানকার কৃষ্টি, মূল্যবোধের প্রতি আমাদের শ্রদ্ধাশীল হতে হবে।’
বিশ্বকাপের উৎসব মানে দর্শকদের হল্লা, মদের ফোয়ারা ছোটা, উচ্ছ্বাসে ভাসা আলিঙ্গনাবদ্ধ কিংবা চুম্বনরত নারী-পুরুষ। যা কাতার বিশ্বকাপে দেখা যায়নি। তবে কিছু বিধিনিষেধ আরোপ করা হলেও বিশ্বকাপ উপলক্ষে অনেক জায়গাতেই ছাড় দিতে বাধ্য হয় ধর্ম প্রভাবিত রক্ষণশীল এই দেশটি। আর তাই সংস্কৃতির সংঘাত যেমন প্রকাশ্যে পাশাপাশি ভিন্ন স্রোতের দুই সংস্কৃতির সম্প্রীতির বিষয়টাও কিন্তু পাশ কাটানোর সুযোগ নেই।
ফুটবলের মূল সুর ইউরোপ ও লাতিন। স্বভাবতই এই দুই অঞ্চলের সংস্কৃতির প্রভাব বেশি। তবে রাতারাতি তো কৃষ্টির রূপান্তর হয় না। বিশ্বকাপ হয়তো আরব বিশ্বে এনে দিয়েছে বদলের সম্ভাবনা। সাধারণত মধ্যপ্রাচ্যে শ্রমিক নির্যাতন কিংবা অকারণ মৃত্যুর মিছিলকে থোড়াই কেয়ার করে আরব দেশগুলো। কাতার স্টেডিয়ামসহ অবকাঠামো বিনির্মাণে ছয় হাজারেরও বেশি শ্রমিকের মৃত্যুর খবর সামনে আনে বিশ্বখ্যাত পত্রিকা দ্য গার্ডিয়ান। এই খবরকে অস্বীকার করে আয়োজকরা। এতদিন পর্যন্ত শ্রমিকের মৃত্যু কিংবা নির্যাতন নিয়ে কোনো জবাবদিহিতার ধার ধারেনি আরব বিশ্ব। তারা যে শ্রমিকবান্ধব সেটি প্রমাণ করার চেষ্টা করেছে কাতার বিশ্বকাপের আয়োজকরা। বৈশ্বিক আয়োজন করতে হলে মানসিকতায়ও বৈশ্বিক হতে হবে, এটা অনুধাবন করতে বাধ্য হয়েছে দেশটি। এই বিশ্বকাপেই প্রথমবারের মতো ম্যাচ পরিচালনা করেন নারী রেফারি। আরবের স্টেডিয়ামে নারী রেফারি ম্যাচ পরিচালনা করার দৃশ্য এর আগে বোধকরি ভাবাও সম্ভব ছিল না। এগুলোই বদলের ইঙ্গিত। এই বিশ্বকাপকে উপলক্ষ করে দুই বিপরীত ধারার সংস্কৃতির একটা মিলনের সুরও কিন্তু লক্ষণীয়।
করোনাক্রান্তি কাটিয়ে ওঠার পথে ক্রিকেটে ঘটে গেছে অভাবনীয় বদল। বিশেষ করে ইংল্যান্ড। ভিন্ন ধাঁচের ভয়ডরহীন ক্রিকেট খেলছে ইংলিশরা। ওয়ানডে নয়, টি- টোয়েন্টি মেজাজে টেস্ট খেলছে দলটি। শ্লথ-মন্থর টেস্ট ক্রিকেটে নতুন গতি এনেছে ইংলিশরা। ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে না পারলেও সাহসী ক্রিকেটের কিছুটা নমুনা দেখাতে পেরেছে বাংলাদেশও। টেস্টের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন নিউজিল্যান্ডকে হারিয়েছে তাদেরই মাটিতে। মাউন্ট মঙ্গানুই টেস্টে স্বাগতিক নিউজিল্যান্ডকে ৮ উইকেটে হারায় বাংলাদেশ। এই টেস্টে বাংলাদেশের দুই পেসার ইবাদত হোসেন আর তাসকিন আহমেদের আগুন ঝরানো বোলিং প্রশংসা কুড়ায় দুনিয়াব্যাপী। উপমহাদেশের দলগুলোর জন্য বধ্যভূমি বিবেচিত স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ জিতেছে টাইগাররা। সাহসী ক্রিকেট খেলার পুরস্কার পেয়েছে বাংলাদেশ।
দুর্যোগ কাটিয়ে ওঠার জন্য সবার আগে প্রয়োজন সম্মিলিত ভালোবাসা। আর মানুষকে সেই ভালোবাসার কাতারে শামিল করে চলেছে ক্রীড়াঙ্গন। ফল হিসেবে মানুষের জয়বার্তা ছড়িয়ে পড়ছে গোটা দুনিয়ায়।