প্রকৃতি অপরূপ ও সৌন্দর্যে ভরপুর পাহাড়ী কন্যা বান্দরবান। পাহাড়, নদী ও ঝর্ণার মনোরম সৌন্দর্যের টানেই প্রতি বছর অসংখ্য পর্যটক এখানে ভিড় করেন। আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতরে এবার টানা নয় দিনের ছুটিতে বিপুলসংখ্যক পর্যটকের আগমন ঘটবে বলে আশা করছেন পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
ইতিমধ্যে প্রায় সব রিসোর্ট ও হোটেলে ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ রুম অগ্রিম বুকিং হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে নিরাপত্তা জনিত কারণে এখনো রুমা ও থানচি দুই উপজেলায় পর্যটক ভ্রমণের নিষেধাজ্ঞা থাকায় হতাশ ওই এলাকার ব্যবসায়ীরা।
পর্যটকদের বরণে সমস্ত প্রস্তুতি শেষ হয়েছে বলে জানিয়েছেন বান্দরবান হোটেল রিসোর্ট ওনার্স এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক জসিম উদ্দিন। তিনি বলেন, ঈদের ছুটিকে কেন্দ্র করে হোটেল ও রিসোর্টগুলো পর্যটকদের জন্য সুন্দরভাবে প্রস্তুত করা হয়েছে। বর্তমানে ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ রুম অগ্রিম বুকিং হয়ে গেছে।
জসিম উদ্দিন আরও বলেন, রুমা ও থানচি পর্যটন কেন্দ্র চালু থাকলে ঈদের ছুটিতে পাঁচ থেকে ছয় দিনের অগ্রিম বুকিং পাওয়া যেত। পর্যটন শিল্পের টেকসই উন্নয়নের জন্য নিষেধাজ্ঞা দ্রুত প্রত্যাহার প্রয়োজন।
হোটেল হিল ভিউয়ের ব্যবস্থাপক তৌহিদ পারভেজ জানান, ৯০টি রুমের মধ্যে ইতিমধ্যে ৭০ শতাংশ বুকিং হয়ে গেছে। রমজানে যে ক্ষতি হয়েছে, তা কিছুটা কাটিয়ে ওঠার আশা করছেন ব্যবসায়ীরা।
বান্দরবান মাইক্রোবাস, জিপ, কার মালিক সমিতির সভাপতি মো. নাছির বলেন, ‘এবারের ঈদে রেকর্ডসংখ্যক পর্যটক আসতে পারেন। এজন্য ৪০০-এর বেশি গাড়ি প্রস্তুত রাখা হয়েছে এবং অতিরিক্ত ভাড়া আদায় যাতে না হয়, সে বিষয়েও নজরদারি রাখা হচ্ছে।’
পাহাড়ে দীর্ঘদিন ধরে কেএনএফ (বম পার্ট) সহিংসতার কারণে রুমা ও থানচি উপজেলায় পর্যটকদের ভ্রমণের ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকায় হতাশা প্রকাশ করেছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী ও পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
এ ব্যাপারে রুমা বাজার ব্যবসায়ী পরিচালনা কমিটির সভাপতি খলিলুর রহমান বলেন, ‘নিষেধাজ্ঞার ফলে পর্যটন ব্যবসায় ক্ষতি হচ্ছে এবং ওই এলাকা স্থানীয় জনগণের জীবনযাত্রায় প্রভাব পড়ছে। নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার হলে অর্থনৈতিক গতি ফিরবে।’
বান্দরবান ট্যুরিস্ট পুলিশের পরিদর্শক (ওসি) কাজী জিল্লুর রহমান মোস্তফা বলেন, ‘ঈদকে কেন্দ্র করে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ট্যুরিস্ট পুলিশ ও জেলা পুলিশ সমন্বিতভাবে কাজ করছে যাতে পর্যটকরা নির্বিঘ্নে ভ্রমণ উপভোগ করতে পারেন।’
বান্দরবান জেলা প্রশাসক শামীম আরা রিনি বলেন, ‘আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে পর্যটনের উন্নয়নে কাজ করছি। অসাধু ব্যবসায়ীরা যাতে পর্যটকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় না করে, সে বিষয়ে নজরদারি করা হচ্ছে।’
তিনি বলেন, ‘পর্যটনবান্ধব এই বান্দরবান জেলায় সম্প্রতি রোয়াংছড়ি দেবতাখুম খুলে দিয়েছি। তবে রুমা ও থানচি ভ্রমণের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এখনো স্বাভাবিক হয়নি। তবে আমরা আশাবাদী, পরিস্থিতি শিগগির স্বাভাবিক হলে এই উপজেলাগুলো পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে।’