জুলাই আন্দোলনে প্রতিবাদের ভাষা হয়ে উঠে বাংলাদেশের জরাজীর্ণ দেয়াল আর ফেসবুকের ওয়াল। কবিদের কেউ কেউ লেখেন প্রতিবাদ, বিপ্লব ও দ্রোহের কবিতা। গণমানুষের কণ্ঠস্বর হয়ে উঠে সেসব কবিতা। এর মধ্যে কোনো কোনো কবিতা স্থান পায় পাঠ্যবইয়ে। একটি কবিতা জায়গা করে নেয় দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিদেশেও।
মো. নাঈম আজিজের লেখা ‘Rule Over Ashes’ কবিতাটি ইতালির উচ্চ মাধ্যমিক ক্লাসের ইংরেজি সাহিত্যের পাঠ্যবইয়ে জায়গা পায়। যে কবিতাটি জুলাইয়ের ইতিহাস, সাহস ও ন্যায়ের বার্তা বহন করে।
নাঈম আজিজ পেশায় শিক্ষক এবং প্রকৌশলী। কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতকোত্তর করেছেন ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি থেকে। কবি পরিচয় দিতে বেশ পছন্দ করেন তিনি। ‘বেলা শেষে’ ও ‘বাংলার কবি ও কবিতা’ নামে তার দুটি বই আছে।
তিনি জানান, জুলাইয়ের কোটা সংস্কার আন্দোলন ঘিরে উত্তাল হয়ে ওঠে বাংলাদেশ। সেসময় দেশের ছাত্র-জনতার সংগ্রাম ও আত্মত্যাগের কথা পৃথিবীকে জানাতে আমি লিখি একটি কবিতা—‘Rule Over Ashes’।
They sacrificed their lives,
Answering the call.
They accepted martyrdom.
To bring justice for all.
Justice leads the way,
When darkness falls.
We’ll light the night,
With patience and hope-
We’ll set things right.
জুলাই মাসের শেষভাগে কবিতাটি লেখেন নাঈম আজিজ। ২৪ থেকে ২৭ জুলাইয়ের মধ্যেই বিভিন্ন আন্তর্জাতিক অনলাইন কবিতা প্ল্যাটফর্মে এটি প্রকাশিত হয়। নজর কাড়ে পাঠকের। আন্তর্জাতিক সাহিত্যমহলে আলোচিত হয়।
তখন ২০২৫ সালের মার্চ মাস। ইতালির অন্যতম শীর্ষস্থানীয় শিক্ষাবিষয়ক প্রকাশনা সংস্থা Sanoma Italia কবির সঙ্গে যোগাযোগ করেন। কবিতাটি তাদের ইংরেজি পাঠ্যবইয়ে সংযোজনের আগ্রহ প্রকাশ করেন। পরবর্তীতে কবির সম্মতি নিয়ে Sanoma Italia এটি তাদের পাঠ্যবইয়ে অন্তর্ভুক্ত করে।
এ কবিতার মাধ্যমে ইতালির ক্ষার্থীরা জানছেন একটি দেশের তরুণরা কীবে অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছে। কীভাবে ফ্যাসিবাদকে দেশ থেকে বিতাড়িত করেছে।
নাঈম আজিজ বলেন, ‘যারা ‘জুলাই বিপ্লব’-এর সময় সাহস দেখিয়েছেন, আমি তাদের কণ্ঠস্বর হয়েছি এই কবিতায়। আমি কখনও ভাবিনি আমার লেখা একটি কবিতা ইউরোপের পাঠ্যবইয়ে স্থান পাবে। কিন্তু আজ যখন জানি, বাংলাদেশের ইতিহাস এখন ইউরোপের ছাত্রদের পাঠ্য, তখন মনে হয়, শব্দ কখনও ছোট নয়, কবিতা কখনও নীরব নয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘কেউই চায় না পুরোনো কালো ইতিহাস ফিরে আসুক। কিন্তু বাংলাদেশের সাহসী তরুণরা যা করেছে, তা ইউরোপের অনেক জায়গায় নেই। তাই তাদের উন্নত শিক্ষাব্যবস্থাও এই তরুণদের গল্পকে মূল্যায়ন করেছে।’
‘এই সাফল্য শুধু একজন কবির নয়, এটি বাংলাদেশের সাহসী তরুণদের জন্য এক আন্তর্জাতিক সম্মান। আমার সাহিত্যচর্চা সেই জায়গা থেকে, যেখানে শব্দ হয়ে উঠে প্রতিবাদ, ছন্দ হয়ে উঠে প্রতিরোধের ভাষা।’ বললেন নাঈম আজিজ।
উল্লেখ্য, Sanoma Italia দেশটির প্রাথমিক থেকে উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাস্তরে পাঠ্যবই, ডিজিটাল রিসোর্স এবং ই-লার্নিং প্ল্যাটফর্ম সরবরাহে অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান। তাদের ব্র্যান্ডের মধ্যে রয়েছে Paravia ও Bruno Mondadori। তারা চার মিলিয়নেরও বেশি শিক্ষার্থীর কাছে শিক্ষা পৌঁছে দেয় এবং শিক্ষকদের জন্য প্রশিক্ষণ ও ক্যারিয়ার গাইডেন্সেও কাজ করে।
আরআর